‘এত নির্যাতনের পরও নেতাকর্মীরা কমিটেড, বিএনপি শক্ত অবস্থানে’

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২১

হায়দার আলী লেলিন। ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ভোলার এ রাজনীতিক সংসদ নির্বাচনে কখনো দলীয় মনোনয়ন না পেলেও এবার আশাবাদী। সেজন্য ভোলা-১ আসনে সাংগঠনিক প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০২৩ সালের শেষ দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এ আসন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন হায়দার আলী লেনিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন

জাগো নিউজ: রাজনীতিতে কেন এলেন? শুরুটা কেমন ছিল?

হায়দার আলী লেলিন: ১৯৮৭ সালে যখন কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হই, তখন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছিল উত্তপ্ত। তখন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য মাথায় রেখেই আসলে মিছিল-সমাবেশে যোগ দিতে থাকি। এর মধ্য দিয়েই রাজনীতিটা শুরু হয়ে যায়।

জাগো নিউজ: আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অনুপ্রেরণা এবং চ্যালেঞ্জ কী?

হায়দার আলী লেলিন: আমার বাবা রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই আমার জন্ম এবং স্বাধীনতার ঊষালগ্নেই আমার বাবার মৃত্যু হয়। তিনি এক সময় ভোলা মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। আমার বাবার গল্পটাই মূলত আমার প্রধান অনুপ্রেরণা। আমি মনে করি ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই এখন বাংলাদেশের মানুষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জাগো নিউজ: ১২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি, সাংগঠনিকভাবে কতটুকু শক্ত অবস্থানে আছে দল? সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করতে আপনার ভূমিকা কী?

হায়দার আলী লেনিন: ১২ বছর ধরে খুন, গুম, হামলা, মামলা, নির্যাতনের পরও নেতাকর্মীরা দল ছেড়ে না যাওয়ায় এটাই প্রতীয়মাণ হয় যে, তারা দলের প্রতি আরও বেশি কমিটেড (প্রতিশ্রুতিবদ্ধ) হয়েছেন। তাই আমি বলবো সাংগঠনিকভাবে বিএনপি শক্ত অবস্থানে আছে।

দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে আমি আমার নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত গভীর যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছি।

jagonews24

জাগো নিউজ: দলীয় কোন্দল নিয়ে নানা আলোচনা আছে। বিএনপির আজকের এ অবস্থার জন্য কোন্দলকেও দায়ী করা হয়, কী বলবেন?

হায়দার আলী লেনিন: বিএনপিতে দলীয় পদপ্রত্যাশীদের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। কোন্দল রয়েছে বলে আমি মনে করি না।

জাগো নিউজ: দল হিসেবে বিএনপি যতটা বৃহৎ, আন্দোলন-সংগ্রামে এখন তার প্রতিফলন দেখা যায় না, কেন?

হায়দার আলী লেনিন: প্রতিনিয়ত সরকারি প্ররোচনায় খুন, গুম, গায়েবি মামলা, হামলা ও নির্যাতন চলছে। এর পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সব জায়গায় দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে বিরোধী দলের আন্দোলন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাগো নিউজ: বিএনপিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন নেই বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে। এমনকি সেজন্য দলীয় কার্যালয়ে তালা দিতেও দেখা যায়। আসলেই কি ত্যাগীরা অবমূল্যায়নের শিকার?

হায়দার আলী লেনিন: বিএনপি একটি বৃহৎ সংগঠন, এখানে একটি পদের যোগ্য অনেক নেতা থাকেন। কিন্তু দায়িত্ব একজনকেই দিতে হয়। তাই যিনি বঞ্চিত হন তিনি ক্ষোভ বা দুঃখ থেকে হয়তো এসব করতে পারেন বা বলতে পারেন।

jagonews24

জাগো নিউজ: ২০১৪ সালের দশম নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে অংশ নিয়েও ভরাডুবি হয়েছে। আগামী দ্বাদশ নির্বাচনের জন্য বিএনপি কতটুকু প্রস্তুত?

হায়দার আলী লেলিন: নির্বাচনের জন্য বিএনপি সর্বদা প্রস্তুত। কিন্তু নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীন। কারণ ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন ও ২০১৮ সালে রাতের ভোটের নির্বাচনের সাক্ষী এ দেশের জনগণ।

জাগো নিউজ: আপনার দৃষ্টিতে ভোলা-১ এলাকার সমস্যা এবং সম্ভাবনা কী?

হায়দার আলী লেলিন: আমাদের এখানকার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন এবং বেকারত্ব। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় এ এলাকার সম্ভাবনা অনেক। সমন্বিত প্রচেষ্টায় নদীভাঙন রোধ করে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে শিল্প-কলকারখানার ব্যবস্থা করার সুযোগ আছে, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি এখানে আধুনিক কৃষি, মৎস্য উৎপাদন ও খামারের মাধ্যমে উন্নয়ন করা সম্ভব।

জাগো নিউজ: ভোলা-১ আসনে আপনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। আসনটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

হায়দার আলীর লেলিন: ভোলা সদর থানার বাপ্তা ইউনিয়নে আমার বাড়ি। এই থানায়ই আমার জন্ম, এখানেই আমার শৈশব-কৈশোর। এখানেই আমি স্কুল-কলেজের পাঠ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই, সুতরাং এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনায় একসঙ্গে থাকা এবং এই এলাকাকে দেশের সবচেয়ে উন্নত এবং আকর্ষণীয় এলাকা হিসেবে দেখাটাই আমার স্বপ্ন।

কেএইচ/এইচএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]