বৈধ যানবাহনের ৭০ শতাংশই ‘অভিশপ্ত’ মোটরসাইকেল

সালাহ উদ্দিন জসিম
সালাহ উদ্দিন জসিম সালাহ উদ্দিন জসিম , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৫ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২১

দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় ৭০ শতাংশই মোটরসাইকেল। আর এই ‘অভিশপ্ত’ বাহনের কারণেই প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়কে দুর্ঘটনা। তরুণদের বিশাল একটি অংশই এই বাহন ব্যবহার করেন। আর তারাই বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। এতে অকালে ঝরছে অনেক প্রাণ। অনেকেই আবার মারাত্মক আহত হয়ে পরিবারের বোঝা হয়ে পড়ছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য মতে, দেশের নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯০টি। এরমধ্যে মোটরসাইকেলই ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার ২১৪টি। ঢাকায় আছে ১৭ লাখ ৩৩ হাজার ১৯৩টি যানবাহন। তন্মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা আট লাখ ৬২ হাজার ৭৫৪টি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, হঠাৎ করে সড়কে মোট গাড়ির তুলনায় ৫৫ শতাংশ মোটরসাইকেল সংযোজন হয়েছে। প্রতিদিন এই বাহনের দুর্ঘটনায় মানুষ মরছে। প্রাণ ঝরছে তরুণদের। যারা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে, বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে, তারাই হয় মারা যাচ্ছে, না হয় পরিবার, সমাজ ও জাতির বোঝা হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছে। এরপরও কোনোরকম দিকনির্দেশনা নেই। বরং মোটরসাইকেল সহজলভ্য করার জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি অর্ধেক করা হচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইনসেন্টিভ দেওয়া হচ্ছে।

jagonews24

অধ্যাপক শামসুল হক আরও বলেন, মোটরসাইকেলকে পৃথিবীতে বলে অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে জাতি কখনো মুক্ত হয় না। সে কারণে নিরুৎসাহিত করা হয়। জাপান নিজ দেশে বিক্রি করতে পারে না, চলে আসছে এই দেশে। কেন? আমরা কোনো কিছুই এখানে জানি না। আমার মনে হয় বিজ্ঞানটা মানা উচিত। এই বিপজ্জনক পথ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা নাহলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, দুর্ঘটনায় একটা পরিবার ও জাতির স্বপ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে সরকারের দায়িত্ব আছে।

মোটরসাইকেলের এই আধিক্য নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর। সংস্থাটির পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী জাগো নিউজকে বলেন, আসলে মোটরসাইকেল তো প্রাইভেট গাড়ি। এটার তো কোনো রুট পারমিট থাকে না। সব জায়গায় চলতে পারে। আমরা যেটা করছি, নিয়ম মানে কি না, গতি ঠিক আছে কি না, অতিরিক্ত গতিতে চালায় কি না, হেলমেট পরে কি না—এসব নিয়ম মানাতে কাজ করছি। এগুলো ঠিক থাকলে সমস্যা হয় না।

এসইউজে/কেএসআর/এইচএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]