এদেশের মানুষ একবার রাস্তায় নামলে বিজয় ছাড়া ঘরে ফেরে না

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪০ এএম, ২৬ অক্টোবর ২০২১

অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে কখনো চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি।

২০২৩ সালের শেষ দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনি। সেজন্য নির্বাচনী এলাকায় সাংগঠনিক প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আসনটি নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন রফিক শিকদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন।

জাগো নিউজ: রাজনীতিতে কেন এলেন? শুরুটা কেমন ছিল?

রফিক শিকদার: সামাজিক প্রয়োজনে ও পারিপার্শ্বিক কারণে মানুষ সংগঠিত হয়। সমাজ ও জীবনের সঙ্গে অধিকার নিবিড়ভাবে জড়িত। সেই দাবি থেকেই মানুষ বিভিন্ন সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। একার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই গোষ্ঠী বা দলভিত্তিক হয়ে মানুষ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে শক্তি ও সংগঠনের তাগিদ অনুভব করে। দেশ ও জনগণের মৌলিক অধিকার এবং চাহিদা আদায় করতেই রাজনীতিতে আসা।

১৯৮৫ সালের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দেখলাম সাধারণ ছাত্রদের অধিকারের মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে। জানতে পারলাম ১৯৮৩ সালে মজিদ খান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে স্বৈরাচারের ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করা হয় সেলিম দেলোয়ারকে। এমনিভাবে জয়নাল, জাফর, দিপালী সাহা, রাউফুন বসুনিয়ার তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় পিচঢালা রাজপথ। স্বৈরাচারের নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে সেদিন আমিও রাজপথে নেমে আসি, ‘শহীদ’ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পতাকা হাতে।

১৯৮৭ সালের নভেম্বর মাসে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে টিএসসি থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পল্টনে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনীর টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জের শিকার হই। ম্যাডাম এবং অনেক জাতীয় ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী আক্রান্ত হই সেখানে। আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নেওয়া হয়।

jagonews24সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রচারণায় তিন দশক ধরে সরব অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার

পরে আমরা হারাই ছাত্রদলের শ্রেষ্ঠ সংগঠক ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক বাবলু ভাইকে। ওই বছরের শেষদিকে কারাবরণ করি।

সময়ের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আমানউল্লাহ আমান ও সর্বদলীয় ছাত্রনেতাদের যুগপৎ আন্দোলনে এবং বেগম খালেদা জিয়ার নয় বছরের আপসহীন নেতৃত্বে স্বৈরাচারের পতন হয় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।

তবে তখন ছাত্রদলের রাজনীতি ও অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে একসঙ্গে এক টেবিলে চা খাওয়ার সংস্কৃতিটা ছিল। আবাসিক হলে সব সংগঠনের ছাত্রদের সহাবস্থান ছিল, যা আজ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা করতাম, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে পড়তে বসতাম, লাইব্রেরিতে পড়তাম, কবি জসীমউদ্দীন হল রিডিং রুমে নিউজ ফিড দেখতাম। ’৫২, ’৬২, ’৬৯, ’৭১ এবং সর্বোপরি ’৯০ এর চেতনায় আমরা ছিলাম উজ্জীবিত ও আন্দোলিত।

জাগো নিউজ: আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অনুপ্রেরণা এবং চ্যালেঞ্জ কী?

রফিক শিকদার: ‘শহীদ’ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ গড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপ ও আপসহীন সংগ্রামই আমাকে অনুপ্রাণিত করে, প্রেরণা জোগায়।

নিজ এলাকার মানুষের ভালোবাসা তথা দলের নেতাকর্মীদের আদর, স্নেহ, মায়া, মমতা এবং সারাদেশে ও প্রবাসে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী এবং শুভানুধ্যায়ীর আন্তরিকতায় আমি সিক্ত।

দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা; গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা; বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা; দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে একটি যৌক্তিক, সাহসী ও শক্তিশালী গণমুখি আন্দোলন করে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সব অপশাসন ও অপশক্তির অবসান ঘটানো সময়ের চ্যালেঞ্জ।

সংগঠনকে আরও শক্ত ও মজবুত করে ১১ কোটি ৪৭ লাখ ভোটারের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা; ১৮ কোটি জনগণের জন্য হত্যা ও গুম, খুনমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক নিরাপদ বাসযোগ্য আধুনিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জাগো নিউজ: ১২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি, সাংগঠনিকভাবে কতটুকু শক্ত অবস্থানে আছে দল? সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করতে আপনার ভূমিকা কী?

রফিক শিকদার: প্রতিষ্ঠার সাড়ে চার দশকে বিএনপি গৌরব, সাফল্য, উন্নয়ন ও সংগ্রামের পরীক্ষায় রাজনৈতিক দল হিসেবে ইতিহাসে এক কালোত্তীর্ণ অহংকার। দেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সব সময় সোচ্চার। ক্ষমতা না-জনতার, আপস না-সংগ্রাম’স্লোগানও বিএনপি নেতাকর্মীরা দিতে জানেন। সেজন্য ১২ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও জনগণের শক্ত ভিত্তির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে এই গণমুখী দল।

jagonews24নির্বাচনী এলাকা বাঞ্ছারামপুরে সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার

ছাত্রজীবন থেকেই আমি সাংগঠনিক কাজে দায়িত্বে ছিলাম। কবি জসীমউদ্দীন হলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, গণঅভ্যুথানের পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ ছাত্ররাজনীতির পরিক্রমায় পুরো দেশে সংগঠনকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

আমার বৃহত্তর কুমিল্লা তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে জাতীয় ও দলীয় কর্মসূচি পালন করেছি তিন দশক আগে থেকেই।

বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকা বাঞ্ছারামপুরে কাজ করে যাচ্ছি নিরলসভাবে।

জাগো নিউজ: দলীয় কোন্দল নিয়ে নানান আলোচনা আছে। বিএনপির আজকের এ অবস্থার জন্য কোন্দলকেও দায়ী করা হয়, কী বলবেন?

রফিক শিকদার: আজকের এ অবস্থার জন্য দেশের সামগ্রিক রাজনীতি দায়ী, শুধুই বিএনপি নয়। রাজনীতি আজ রাজনীতিকদের হাতে তেমন একটা নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এজন্য প্রধানত দায়ী।

তাছাড়া কোন্দল নয়, প্রতিযোগিতা ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা না থাকলে দল কখনো শক্তিশালী ও টেকসই হয় না। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝখানে কখনো রাজনীতিবিরোধী অপশক্তি ঢুকে এর অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়, কিন্তু সফল হয় না বেশিদূর।

রাজনীতি স্রোতস্বিনী নদীর মতোই প্রবাহিত হয়। বহতা নদীর মতো চলবে তার স্বাভাবিক গতি। রাজনীতি হোক রাজনীতিকদের জন্য এবং জনগণের জন্য। তবেই সাংগঠনিক শক্তি স্থায়ী ও মজবুত থাকবে।

জাগো নিউজ: দল হিসেবে বিএনপি যতটা বৃহৎ, আন্দোলন-সংগ্রামে এখন তার প্রতিফলন দেখা যায় না, কেন?

রফিক শিকদার: বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে একটি বৃহৎ সংগঠন। সেজন্য রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে সরকার তথা শাসকগোষ্ঠী ভয় পায়। মামলা-হামলা, হয়রানি-নির্যাতন করে আন্দোলন ব্যাহত করতে চায়।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরু, হুমায়ুন কবির পারভেজ, সুমন, দিনারসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করে জনমনে আতংক সৃষ্টি করতে ব্যর্থ চেষ্টা করেছে এ সরকার। কিন্তু এত কিছুর পরও বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগ্রামী একটি দল। এর পথ রুদ্ধ করা এত সহজ নয়।

ভোটের অধিকার ও মুক্তির সংগ্রামে সারাদেশেই জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে এবং সময়ের দাবিতে রাজপথ সরব হবে। একটা কথা বলতেই হয়, এদেশের মানুষ যখন তখন রাস্তায় নামে না; একবার নামলে বিজয় অর্জন না করে ঘরেও ফেরে না।

জাগো নিউজ: বিএনপিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন নেই বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ ওঠে এবং কার্যালয়ে তালা দিতেও দেখা যায়। আসলেই কি ত্যাগীরা অবমূল্যায়নের শিকার?

রফিক শিকদার: দলের ত্যাগী পরিবার হিসেবে ‘শহীদ’ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকেই সবচেয়ে বেশি ত্যাগী হিসেবে সবাই স্বীকার করে। সময়ের প্রয়োজনে ত্যাগী ও সাহসীরাই মাঠে থাকে। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হলে কখনো অনুপ্রবেশকারী, হাইব্রিড ও ভুঁইফোঁড়রা এসে জায়গা দখল করতে পারবে না ।

jagonews24সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রচারণায় তিন দশক ধরে সরব অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার

ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হয় না বিএনপির রাজনীতিতে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া। ত্যাগ ছাড়া যেমন ত্যাগী হওয়া যায় না, তেমনি আন্দোলন করা ছাড়া সংগ্রামী হওয়া যায় না। শুধু লাফালাফি করলেই সংগ্রামী হওয়া যায় না।

একটা কথা আছে ‘যারা যোগ্য তারাই টিকে থাকবে এবং সংগ্রামের মধ্যেই নেতৃত্ব গড়ে ওঠে’।

জাগো নিউজ: শোনা যাচ্ছে, নেতৃত্বে তারুণ্যকে সামনে আনার কথা ভাবছে বিএনপি? এর ফল কেমন হতে পারে?

রফিক শিকদার: এত বড় রাজনৈতিক দলে প্রবীণ ও নবীনদের সমন্বয়েই কমিটি গঠিত হয়। তাছাড়া তারুণ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েই এখন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো চলছে সমান্তরাল গতিতে। নিশ্চয়ই সবার সমন্বিত অংশগ্রহণে ইতিবাচক ফলাফল ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

জাগো নিউজ: ২০১৪ সালের দশম নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়েও ভরাডুবি হয়েছে। আগামী দ্বাদশ নির্বাচনের জন্য বিএনপি কতটুকু প্রস্তুত?

রফিক শিকদার: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি শুধু বিএনপি নয়, সব রাজনৈতিক দল বয়কট করেছিল। এমনকি জনগণও। ১৫৪টি আসনে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতে। ২০১৮ সালে বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচনে গিয়ে প্রমাণ হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া সঠিক ছিল। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ ডিসেম্বর রাতেই কমিশন ও শাসকগোষ্ঠী মিলে সম্পন্ন করে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কের দাগ আঁকে।

আমি আগেই বলেছি, বিএনপি একটি নির্বাচন ও জনমুখী রাজনৈতিক দল। সুষ্ঠু নির্বাচন করেই বারবার ক্ষমতায় আসার ইতিহাস এদেশে বিএনপি স্থাপন করেছে প্রথম।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন যদি মধ্যবর্তী সময়ও অনুষ্ঠিত হয়, তবু বিএনপি নির্বাচন করতে মাঠে লড়াই করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

জাগো নিউজ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে আপনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। আসনটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

রফিক শিকদার: ২০১৮ সালে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত হওয়ার আগেই মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় আমাকে। আবারও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আমি মনোনয়নপ্রত্যাশী। আমার আসনে আমি কাজ করছি সেই লক্ষ্য নিয়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ এর বাঞ্ছারামপুর ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, অর্থনীতি, ব্যবসা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ প্রগতির পথে আমার প্রিয় এই উপজেলা।

এখানে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট তথা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধার উৎকর্ষতায় গবেষণার ব্যবস্থা করা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা, অসহায় ও এতিম মানুষের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা করা, কৃষিক্ষেত্রে খাল খনন করে বেড়িবাঁধ দিয়ে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করা, নদী খনন করা, প্লাবনভূমিতে মাছের চাষ তথা রুপালি বিপ্লব ঘটানো, ছোট ও মাঝারি খামার, শিল্প-কারখানা তৈরি করে বেকারত্ব দূর করা এবং দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করার স্বপ্ন আমার আছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়েই আমি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই বাঞ্ছারামপুরকে।

মূলত একটি নিরাপদ, শান্তিময় বাসযোগ্য আধুনিক আবাসভূমি হিসেবে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হলো আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও লালিত স্বপ্ন।

কেএইচ/এইচএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]