‘আমরা মনে করি, মানুষের সমর্থন ছাড়া আর কোনো জায়গা নেই’

সালাহ উদ্দিন জসিম
সালাহ উদ্দিন জসিম সালাহ উদ্দিন জসিম , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪২ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২২

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আপাদমস্তক রাজনীতিক। অনেক দিন দায়িত্ব পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনবার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।

১৯৬১ সালের ১১ নভেম্বর মাদারীপুরে জন্ম নেওয়া নাছিম পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট (বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে। তৎকালীন বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিও ছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগেরও সভাপতি হন। সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন মাদারীপুর-৩ আসন থেকে।

আওয়ামী লীগের  শীর্ষ এই নেতার সঙ্গে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হয় জাগো নিউজের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সালাহ উদ্দিন জসিম।

জাগো নিউজ: বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: আশাবাদী মানুষ হিসেবে আশাবাদী রাজনীতি করি। রাজনীতি করি মানুষের জন্য, দেশের জন্য। সব পরিস্থিতিতেই আমরা ভালোর প্রত্যাশা করি, ভালোর জন্য কাজ করি। কখনো নেতিবাচক চিন্তা নিয়ে, খারাপ কিছু ভাবনায় রাখি না। তবে খরাপ যে খারাপ, সে বিশ্বাস রেখেই চলি। খারাপকে তো আর ভালো বলা যাবে না। কিন্তু খারাপ কিছু আমাদের ওপর নেমে আসুক; দেশ, মানুষ, গণতন্ত্র, রাজনীতি, রাজনীতিবিদরা খারাপ কিছুর ভেতরে নিপতিত হোক, এটা কেউ চায় না। যারা চায়—তারা বিরাজনীতিকরণ করে। তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

গণতন্ত্র শক্তিশালী করার জন্য গণতন্ত্রের প্রতি যেমন শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, তেমনি গণতন্ত্র অনুশীলনও প্রয়োজন। এটাকে ধারণ ও লালন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এটা খুব প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তার কথা চিন্তা করে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

জাগো নিউজ: রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আপনি যে প্রগতিশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চান, সেটা করতে কি কোনো বাধা আছে? বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিরাজনীতিকরণ বা অপরাজনীতিকরণ চায় এমন কেউ আছে?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: সব সময়ই আছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে অপরাজনীতির অপছায়া, দুষ্টচক্র, দেশবিরোধী চক্র সক্রিয়। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও দেশের অখণ্ডতা আমাদের মৌলিক বিষয়। এই মৌলিক বিষয়ের বিরোধী যে শক্তি, তারা তাদের অপকর্ম ও অপরাজনীতি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে চালিয়ে আসছে। মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এটা চলেছিল, তার আগেও ছিল, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলায়ও শুরু হয়। হ্যাঁ একটা সময় সীমিত ছিল, আস্তে আস্তে বিষবৃক্ষ ও বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। এটা শেষ হয়নি। এটা চলছে।

jagonews24জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম/ছবি: জাগো নিউজ

জাগো নিউজ: সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এগুলো (অপরাজনীতি) কীভাবে মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয়তাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সৃষ্টিলগ্নে ‘মুসলিম’ আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ করেছেন। অসাম্প্রদায়িক দলে পরিণত করেছেন। কত বড় সাহস নিয়ে তিনি এই মৌলিক নীতি নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করেছেন! ২৩ বছর সংগ্রাম করেছেন। এটাই ছিল মূল ভিত্তি; অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ। শান্তির বাংলাদেশ। সেই নীতিই আমাদের মূল শক্তি। এটাই আমাদের ভিত্তি। এটা থেকে আমরা পিছপা হইনি।

যদিও দেশ জাতিকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। তারপর এর ধারাবাহিকতায় অপরাজনীতি ও মিথ্যাচার শুরু হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতি, বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, দেশের মৌলিক বিষয়গুলোসহ সব কিছু ধ্বংস করা হয়েছিল; একটা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে শাসন-শোষণ- দুঃশাসন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—বাংলাদেশের মানুষ এত কিছুর পরও এই স্বৈরশাসক-সামরিক জান্তা এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের খুনিদের, যারা জামায়াত-শিবিরকে জন্ম দিয়েছে; বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে—তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা দিয়েছে। খুনিদের অবস্থান দিয়েছে, রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। দেশ-বিদেশে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে। এত কিছুর পরও সেই অপশক্তি একই ধারায় চালাচ্ছে। তারা সফল হচ্ছে না। কিন্তু ষড়যন্ত্র তো বন্ধ হয়নি। আমরা ধরেই নিয়েছি, এরা ষড়যন্ত্র করবে। যেনতেনভাবে ক্ষমতা ধরাই তাদের টার্গেট। দেশের মানুষের কতটুকু মঙ্গল হলো কি হলো না; এটা দেখে না। তারা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতি করে, স্বার্থের রাজনীতি করে।

জাগো নিউজ: জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটা ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার উৎখাত করার জন্য লবিস্ট নিয়োগ করে। সরকারি দল হিসেবে কীভাবে আপনারা এটি মোকাবিলা করবেন?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: এটা আমরা জানি। এরকমটি শুধু গত দুই বছরে করেছে, এমন নয়। (আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর) ২০০৯ সাল থেকে তারা এ পথে হাঁটা শুরু করেছে। একটা জিনিস স্পষ্ট; বিএনপি-জামায়াত জন্ম থেকে এই পথে হাঁটে। তারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে। তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের, গোষ্ঠীর এবং তাদের যারা পরিচালনা করে—বিদেশি শক্তি বা প্রভু; তাদের সন্তুষ্ট করার জন্য সবকিছু করতে পারে। বিদেশিদের সন্তুষ্ট করেই তারা ক্ষমতার পালাবদলে বিশ্বাস করে। জনগণের আস্থায় গিয়ে ভোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার চিন্তা করে না। এ কারণে তারা দেশের মানুষের অধিকার, চাহিদা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কাজ (রাজনীতি) করে না।

করোনায় মানুষ বাঁচানোর পরিবর্তে তারা বলার চেষ্টা করেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ মরে না কেন? লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেলে তাদের অপরাজনীতি করার পথ উন্মুক্ত হবে, এটা তাদের ভাবনা। তারা দেশে-বিদেশে বসে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানবিরোধী কথা বলে। অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে। এটা সংবিধানবিরোধী, শিষ্টাচারবিরোধী, জনবিরোধী, দেশবিরোধী। তাদের ভাবনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল; যেনতেনভাবে, বাঁকাপথে ও রাতের অন্ধকারে।

এখন রাজনৈতিক বিশ্বাসের জায়গায় বাংলাদেশ নেই। তবে, রাজনৈতিকভাবে সরকারের বিরোধিতা করতে পারেন। সেটা মানুষ গ্রহণ করলে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের কাছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে দেবো। এটা দিতে হবে, এটাই বাস্তবতা। ধরে রাখার সুযোগ নেই।

জাগো নিউজ: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষে সরকার দলীয় বিজয়ী প্রার্থী পরাজিত প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি নিয়ে গেছেন। পরাজিত প্রার্থীও জয়ীকে মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন। এই ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হচ্ছে—রাজনীতিবিদদের কাছে এই শিষ্টাচার আমরা প্রত্যাশা করি। তার অর্থ; এখন কি সে শিষ্টাচার নেই?

jagonews24প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম/ফাইল ছবি

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: এটা হলো পারস্পরিক শিষ্টাচার। সেই জায়গাটাতে যাওয়ার জন্য উদ্যোগটা নিতে হবে সবাইকে। এটা এককভাবে যদি কাউকে বলার চেষ্টা করা হয়, সেটা সঠিক হবে না, সমীচীন হবে না। কারণ হলো—আপনি আমাকে হত্যা করবেন, জেলে দেবেন, গ্রেনেড মেরে হত্যা করার জন্য প্রকাশ্য দিবালোকে চেষ্টা করবেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করেছেন, আমরা সেই হত্যাকারীদের বিচার চাইতে পারবো না! বিচার চেয়ে বছরের পর বছর রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছি। হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে। খুনিদের চাকরি দেওয়ার মানে কী? খুনের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা আছে! এটা বিএনপি, খুনি জিয়া, খন্দকার মোশতাকসহ জামায়াতি ঘরানার লোকেরা করেছে।

যারা বলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে—এটা ঠিক, আমরা এগিয়ে আসবো, কিন্তু খুনিদের সঙ্গে কতদূর যাওয়া যায়? বাংলাদেশের জনগণ কি এটা মেনে নেবে? বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা এটা? আমরা মিলতে চাই—নীতির প্রশ্নে, দেশের প্রশ্নে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মূল স্পিরিট যারা ধারণ করে, তাদের সঙ্গে আমরা মিলবো। আমরা তো উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। প্রগতিশীল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ না করতে পারলে আমরা ব্যর্থ হবো, আমরা ব্যর্থ হতে চাই না।

জাগো নিউজ: বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পুরো মেয়াদে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল। শেষ ভালো কাজ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন তারা উপহার দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াও চলমান। কেমন নির্বাচন কমিশন চান?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে চারটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সে আলোকে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার মতো শক্তিশালী কমিশন হোক চাই। স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহির মধ্য দিয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় একটি কমিশন হোক চাই। গত ৫০ বছরে যে আইন করতে পারিনি, সে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রণয়নের কাজটি শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার এই আইন করতে পারবে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, আইনের ভেতর দিয়ে নির্বাচন কমিশন হলে সবচেয়ে ভালো হবে। ইনশাআল্লাহ অতি শিগগির এটি বাস্তবায়ন হবে।

জাগো নিউজ: জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময় বাকি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ আছে বলে আপনি মনে করেন?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমরা জনগণের ভোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হতে চাই। সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা, মেগা প্রকল্পসহ আরও যে কাজগুলো বাকি আছে, এগুলো সমাপ্ত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। এ কাজগুলোর জন্য আরও একবার আমাদের (আওয়ামী লীগের) সরকারে থাকা প্রয়োজন। জনসমর্থন নিয়ে জনগণের ভোটের ভিত্তিতেই সরকারে থাকবো। আমরা সেই ভোটের জন্যই দলকে আরও বেশি নিবিড়ভাবে কাজ করতে বলেছি। তৃণমূল পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দলের সব নেতাকর্মীকে আরও বেশি করে জনমুখী করছি।

জনগণের চোখের ভাষা, মনের ভাষা বুঝতে হবে। সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা কী, তারা কী চায়, সেটা যেমন বুঝতে হবে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যাশা পূরণে আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে। এ কাজটি আমরা নিবিড়ভাবে করতে চাই। এই কাজের পাশাপাশি অপশক্তি ও অপরাজনীতি যারা করে, তাদের সম্পর্কেও জনগণকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। এরা কী চায়? অতীতে কী করেছে, এখন কী করতে চায়? যদি এরা কোনোক্রমে সুযোগ পায়, তাহলে বাংলাদেশের পরিণতি কী হবে? ২০০১ সালের পরে কী হয়েছে? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে দেশ কী অবস্থায় ছিল? কী কী দুর্ভোগ জনগণকে পোহাতে হয়েছে? কত হত্যা-গুম হয়েছে? ২০১৪ নির্বাচনের আগে-পরে কী হয়েছে? এগুলোর বিষয়ে জানতে হবে, জনগণকে জানাতে হবে।

jagonews24কৃষক লীগের একটি কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম/ফাইল ছবি

জগো নিউজ: স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়, জাতীয় নির্বাচনে এই বিভাজন কাটিয়ে উঠতে পারবেন?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: শেষ পর্যন্ত কিন্তু আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এক হয়ে যায়। তার জ্বলন্ত উদাহরণ; নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এটা তো আশাব্যঞ্জক। সব জায়গায় হতাশা ছড়ালে হবে না তো। আমরা ঐতিহ্যবাহী দল হিসেবে সব সময় ইতিবাচক রাজনীতি করি। আমরা মনে করি, মানুষের সমর্থন ছাড়া আর কোনো জায়গা নেই। আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দল জনগণের ওপর বিশ্বাস করি। কোনো সামরিক শক্তি বা বিদেশি প্রভুর কাছে ধর্না দেই না। তবে হ্যাঁ অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এটাই আমাদের দেশের পররাষ্ট্রনীতি, এটাই আমাদের রক্ষাকবচ। হতে পারে কখনো কখনো আমরা সবাইকে খুশি করতে পারি না। সবাইকে খুশি করা যাবেও না। প্রথমে খুশি করতে হবে বাংলাদেশের জনগণকে। প্রথম থাকতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে, এটাই আমাদের অস্তিত্ব; এর প্রতি আমাদের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি দিতে হবে। আমরা সে জায়গা থেকে বিচ্যুত হইনি।

জাগো নিউজ: চলমান বছরটি আওয়ামী লীগের সম্মেলনের। বছর শেষে সম্মেলন হবে। এতে নেতৃত্বের পরিবর্তন হবে কি না?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: কাউন্সিলে কাউন্সিলররা আসবেন, সেখানে আলাপ আলোচনা হবে। মতবিনিময় হবে। কাউন্সিলররা মতামত ব্যক্ত করবেন। কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হবেন। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল; যার ভেতরে সবচেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক চর্চা হয়। এই দলে কথা বলা যায়। যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে; বিএনপি-জামায়াতে তো কথা বলার সুযোগ নেই। রাতের বেলায় কমিটি বানায়, সকালে ভেঙে দেয়। বিকেলে বানায় একটা, পরের দিন বলে, কমিটি তো বানাইনি। এর থেকে অনেক এগিয়ে থাকা গণমুখী দল আওয়ামী লীগ। নেতাকর্মীদের মতপ্রকাশের অধিকারসমৃদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। কারণ আওয়ামী লীগের সমালোচনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেভাবে করেন, এরকম আরেকটি ক্ষুদ্র দলও বাংলাদেশে নেই। এটাই আওয়ামী লীগের সৌন্দর্য, মৌলিকত্ব।

আওয়ামী লীগের পরে অনেক দল হয়েছে না? টিকে থাকতে পারেনি। অথচ শুরুতে মনে হয়েছে, তারাই বাংলাদেশের মূলশক্তি। কারণ, জনগণের ওপর তাদের আস্থা ছিল না। এ বিষয়ে তারা যত্নশীলও ছিল না।

এসইউজে/এইচএ/জিকেএস

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে অপরাজনীতির অপছায়া, দুষ্টচক্র, দেশবিরোধী চক্র সক্রিয়

করোনায় মানুষ বাঁচানোর পরিবর্তে তারা বলার চেষ্টা করেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ মরে না কেন? লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেলে তাদের অপরাজনীতি করার পথ উন্মুক্ত হবে, এটা তাদের ভাবনা

যেনতেনভাবে ক্ষমতা ধরাই তাদের টার্গেট। দেশের মানুষের কতটুকু মঙ্গল হলো কি হলো না; এটা দেখে না। তারা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতি করে, স্বার্থের রাজনীতি করে

দেশের উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা, মেগা প্রকল্পসহ আরও যে কাজগুলো বাকি আছে, এগুলো সমাপ্ত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। এ কাজগুলোর জন্য আরও একবার আমাদের (আওয়ামী লীগের) সরকারে থাকা প্রয়োজন

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]