‘বিএনপির সময়ের র‌্যাব আর এখনকার র‌্যাব এক নয়’

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০০ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২২
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ

মাহবুব-উল আলম হানিফ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। জন্ম ১৯৫৯ সালে কুষ্টিয়া জেলায়। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

রাজনীতির সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন জাগো নিউজের। বিএনপি-জামায়াত অব্যাহতভাবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের র‌্যাব-পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা অযৌক্তিক। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সায়েম সাবু

জাগো নিউজ: স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করলো বাংলাদেশ। এত দীর্ঘ সময়ও বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ঠিক করা যায়নি। নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন করার তাগিদ থাকলেও তাও সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার এ ব্যাপারে আইনের উদ্যোগ নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন বিল পাস হয়েছে সংসদে। তবে নানা প্রশ্নও উঠেছে এই আইন নিয়ে। আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

মাহবুব-উল আলম হানিফ: সরকারের ভালো কাজের বিরোধিতা বা প্রশ্ন না ওঠার সুযোগ খুব কম। বাংলাদেশের রাজনীতির ট্রেন্ডটা আপনাকে বুঝতে হবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশে দুই ধারার রাজনীতি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির রাজনীতি চলছে। আদর্শিকভাবে এই দুই শক্তির মধ্যে সমঝোতা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং হবেও না।

বিএনপি-জামায়াত কখনোই চায় না বাংলাদেশ সফল রাষ্ট্রে পরিণত হোক এবং এখানে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক। পাকিস্তান এদেশের জামায়াত ইসলামীকে এখনো তাদের আদর্শের সৈনিক মনে করে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর শুরু হলো, তখন পাকিস্তানের পার্লামেন্টে শোক প্রস্তাব তোলা হয়। ১৯৭১ সালে জামায়াত ইসলামী পাকিস্তানের সৈনিক ছিল, তা সবাই জানি। কিন্তু ২০১৩ সালেও তারা পাকিস্তানের সৈনিক, এটি জানা ছিল না। পাকিস্তান ফের প্রমাণ করেছে। আমরা বারবার বলে এসেছি, জামায়াত পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।

jagonews24নির্বাচন কমিশন গঠন আইন নিয়ে আলোচনা চলছে দেশজুড়ে

সেই জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে। সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপি শুধু নির্বাচন কমিশন আইন নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সব ভালো কাজের বিরোধিতা করছে।

জাগো নিউজ: কিছু রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনটি পাসে তড়িঘড়ি করা হয়েছে। অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেনি সরকার।

মাহবুব-উল আলম হানিফ: ১০ দিন আগেও বিএনপি দাবি করেছে একদিনের মধ্যেই আইনটি করা সম্ভব। রাষ্ট্রপতি যখন সংলাপের আহ্বান জানালেন, তখন বিএনপি বললো, আমরা আগে আইন চাই। সরকার আইন তৈরি করার ব্যবস্থা করছে। এখন তারা বলছে, এটি তড়িঘড়ি করে করছে সরকার। মানুষ বিএনপিকে বিশ্বাস করবে কেন?

এর আগে বিএনপিও তো একাধিকবার ক্ষমতায় ছিল। তারা করেনি কেন? বাস্তবতার বাইরে গিয়ে কথা বললে তো হবে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি আইন তৈরি করা কঠিন কাজ। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এর আগেই নির্বাচন কমিশন আইন করতে হবে। অথচ বিএনপি এখন বিরোধিতা করছে।

জাগো নিউজ: বিএনপি আইনের ধারা নিয়ে বিরোধিতা করছে...

মাহবুব-উল আলম হানিফ: আইনের বিরোধিতা নয়, বিএনপি সরকারের বিরোধিতা করছে এবং এ বিরোধিতা যে কোনো ইস্যুতেই তারা করে আসছে। সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি বিরোধিতা করছে। মূলত বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে যা প্রয়োজন তাই করছে তারা।

জাগো নিউজ: সরকার ব্যর্থ না হলে বিরোধীদল এভাবে একটি রাষ্ট্রকে ব্যর্থ বানাতে পারে?

মাহবুব-উল আলম হানিফ: ব্যর্থ হবে কি হবে না, তা পরের বিষয়। কিন্তু অপশক্তির অপচেষ্টাকে তো আপনাকে আমলে নিতে হবে।

আমরা ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডব দেখেছি। যুদ্ধাপরাধের বিচার ভণ্ডুল করতে জামায়াত-শিবির কী করেনি! অনবরত হরতাল। গাড়ি ভাঙচুর। অগ্নিসংযোগ। মানুষ হত্যা। সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে অন্যভাবে উপাস্থাপন করার চেষ্টা করলো। সাধারণ মানুষ প্রতিহত করছে বলে বাংলাদেশ ভাবমূর্তি নষ্ট হয়নি।

jagonews24আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ

২০১২ সালের পর থেকেই বিরোধী জোট বিদেশিদের কাছে ধর্না দিচ্ছে। কেউ যেন বিনিয়োগ করতে না আসে তার ব্যবস্থা করা। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ দাতা সংস্থাগুলোর কাছে মিথ্যা নালিশ করা অব্যাহত রেখেছে। এই কর্মতৎপরতা তো গণবিরোধী। বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে এলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে, সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে তারা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। এসবের মধ্য দিয়ে অগ্রগতি তো কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়ই।

জাগো নিউজ: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে বাংলাদেশের র‌্যাব-পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞাকে কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছেন আপনারা?

মাহবুব-উল আলম হানিফ: অবশ্যই গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। সরকার পরিচালনা করতে গেলে সব বিষয়েই গুরুত্ব দিতে হয়। আমরা দেশের ভেতর এবং বাইরে থেকে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছি।

আমরা অবাক হয়েছি, একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে বিতর্কিত করতে পারে। তারা লবিস্ট নিয়োগ করে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। এই টাকা দিয়ে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে। বিএনপি-জামায়াতের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব-পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এটি র‌্যাবকে বিতর্কিত করার চেষ্টামাত্র।

jagonews24যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা/প্রতীকী ছবি

অথচ, এই র‌্যাব কিন্তু বিএনপির আমলেই সৃষ্টি। বিএনপির আমলে এই র‌্যাব দিয়ে আওয়ামী লীগের ৬৫ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি সরকার পরিকল্পিতভাবে বহু মানুষকে হত্যা করেছে ক্রসফায়ারের নামে।

জাগো নিউজ: আপনি বলছেন বিএনপির আমলে বহু মানুষকে হত্যা করেছে র‌্যাব। তাহলে তো র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুরানো। নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা…

মাহবুব-উল আলম হানিফ: না। এখন এভাবে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে না। বিএনপির সময়ের র‌্যাব আর এখনকার র‌্যাব এক নয়। এখনকার র‌্যাবের কার্যক্রম দেখেন আপনি। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে র‌্যাব কী ভূমিকা রাখছে, তা আপনাকে আমলে নিতে হবে। র‌্যাব বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা-নিরাপত্তায় অসামান্য ভূমিকা রাখছে। আর এটি করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে নানা অপশক্তির অপতৎপরতা ছিল। জঙ্গিবাদের বিস্তার তো দেখেছি। এই অপশক্তি দমনে র‌্যাবের অবদান তো অস্বীকার করতে পারবেন না।

বাংলাদেশের মতো দেশে অপরাধ দমন করা খুবই কঠিন। অন্য দেশেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি করে মানুষ মারা যায়। যুক্তরাষ্ট্রেও বহু মানুষ বিচারবহির্ভূতভাবে মারা যায়। তাই বলে কি সেখানকার বাহিনীগুলো নিষিদ্ধ হয়ে যায়? রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই অপরাধীদের দমন করতে হয়। দমন করতে গিয়ে গোলাগুলিতে কেউ মারা গেলে একটি বাহিনীর ওপর তা বর্তায় না। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে গোটা একটি বাহিনীকে আপনি বিতর্কিত করতে পারেন না।

এএসএস/এইচএ/এমএস

২০১২ সালের পর থেকেই বিরোধী জোট বিদেশিদের কাছে ধর্না দিচ্ছে। কেউ যেন বিনিয়োগ করতে না আসে তার ব্যবস্থা করা, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ দাতা সংস্থাগুলোর কাছে মিথ্যা নালিশ করা অব্যাহত রেখেছে

অথচ, এই র‌্যাব কিন্তু বিএনপির আমলেই সৃষ্টি। বিএনপির আমলে এই র‌্যাব দিয়ে আওয়ামী লীগের ৬৫ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রেও বহু মানুষ বিচারবহির্ভূতভাবে মারা যায়। তাই বলে কি সেখানকার বাহিনীগুলো নিষিদ্ধ হয়ে যায়? রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই অপরাধীদের দমন করতে হয়। দমন করতে গিয়ে গোলাগুলিতে কেউ মারা গেলে একটি বাহিনীর ওপর তা বর্তায় না

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]