পাকিস্তানে সিরিজ-টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা আইসিসির

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
পাকিস্তানে সিরিজ-টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা আইসিসির

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা বলতে গেলে খুলেই গেলো পাকিস্তানে। আইসিসির তত্ত্বাবধানে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো পাকিস্তান এবং বিশ্ব একাদশের মধ্যে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সিরিজের আরও একটি ম্যাচ বাকি। সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার।

বিশ্ব একাদশের এই সফরের পর থেকেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবার আশা করছে তাদের দেশে আরও ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন হবে। এমনকি অন্য কোনো টুর্নামেন্ট কিংবা আইসিসি ইভেন্টও আয়োজনের জন্যও স্বাগতিক করা হবে পাকিস্তানকে।

সে আশার পালে খানিকটা বাতাস লাগিয়ে দিয়েছে আইসিসিও। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগেই আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর বিবৃতি দিয়ে, শুভ কামনা করেছেন পাকিস্তানের। একই সঙ্গে দেশটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর সিরিজটির সফলতা কামনা করেছেন। ওই সময়ই বলেছেন, এই সিরিজ সফলভাবে আয়োজন হলে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্বার খুলে যাবে এবং অন্য দেশগুলো দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যেতে সাহস পাবে।

এবার আইসিসি প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন পাকিস্তানের আশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। লাহোরে বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ম্যাচ চলাকালীন গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ডেভ রিচার্ডসন। সেখানেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তার। এরপরই কথা বলেন মিডিয়ার সঙ্গে।

জানা গেছে, বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে আয়োজিত ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপকে প্রতি তিন বছর পরপর আয়োজন করতে চায় পাকিস্তান। এই পরিকল্পনার কথা শুনে ডেভ রিচার্ডসন জানিয়েছেন, শুধু বিশ্ব একাদশের সফরই নয়, আইসিসি চিন্তা করছে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহনে পাকিস্তানে আরও কত বেশি সিরিজ আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে।

আগামী তিন বছরের জন্য পাকিস্তানে নিরাপত্তা উন্নয়নে প্রায় ১১ লাখ ডলার ব্যায় করবে আইসিসি। তারা এই অর্থ প্রদান করবে দুটি নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে। রেগ ডিকাসন এবং নিকলস স্টেইন অ্যান্ড এসোসিয়েটস চলতি ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপেও নিরাপত্তা পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আইসিসি প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আইসিসি পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে এবং নিরাপত্তা রক্ষার সামর্থ্য বাড়ানোর প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে রাজি হয়েছে।’

ডেভ রিচার্ডসন মনে করেন, ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পুরোপুরি ফেরেনি। প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটাকে নিয়মিত করাই এখন জরুরী। এ জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান এবং আইসিসিও। পিএসএলের শুধু ফাইনালই নয়, আরও বেশি কিছু ম্যাচ যেন পাকিস্তানে আয়োজন করা যায়, সে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোও পাকিস্তানে আসা শুরু করবে। এটাই হবে পাকিস্তানে স্বাভাবিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর উপায়।’

বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের সিরিজটি ভালোয় ভালোয় শেষ হলে আগামী অক্টোবরেই তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের একটি ম্যাচ পাকিস্তানে খেলবে শ্রীলঙ্কা। এরপর আগামী নভেম্বরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার জন্য পাকিস্তাস সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজও।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ধীরে ধীরে ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করবে পাকিস্তান। এরপর হয়তো চিন্তায় আসবে টেস্ট সিরিজের কথাও। তবে ডেভ রিচার্ডসন মনে করেন, এটা পুরোপুরি লম্বা একটি প্রক্রিয়া। তিনি বলে, ‘আপনাকে অবশ্যই সঠিক পদক্ষেপে এগুতে হবে। একটি টেস্ট সিরিজ মানে হলো, স্বাভাবিকভাবেই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে অনেক বড়। আমি মনে করি, পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া প্রয়োজন সামর্থ্য বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া। শুধু লাহোর নয়, এর বাইরে আরও কিছু শহর, এলাকা এবং ভেন্যুতে যাতে ম্যাচ আয়োজন করা যায় এবং সে পরিমাণ নিরাপত্তা সামর্থ্য যেন তৈরি হয় সেটাও দেখতে হবে।’

শুধু নিরাপত্তা সামর্থ্য বাড়ানোই নয়, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মত দলগুলোর আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। তারা যাতে মনে করে যে, পাকিস্তান সফর করা আর হুমকি নয়, নিরাপদ। তবেই নিয়মিত পাকিস্তানে সিরিজ আয়োজন করা সম্ভ হবে এবং একই সঙ্গে আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনও করা সম্ভব হবে।’

আইএইচএস/পিআর