আবারও চট্টগ্রামে লুইস ঝড়!

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:২৯ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১১:৪০ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭
আবারও চট্টগ্রামে লুইস ঝড়!

সবার চোখ ক্রিস গেইল আর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দিকে। কেন সবার দৃষ্টি ওই দুই বিশ্ব তারকার দিকে? তা আর নতুন করে বলার দরকার নেই। সবার জানা, সীমিত ওভারের ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁ-হাতি গেইল আর নিউজিল্যান্ডের ম্যাককালাম অনেক বড় নাম। দুই শীর্ষ তারকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের টপ স্কোরার (৭১ ম্যাচে ৭০ ইনিংসে ২১৪০ রান) ম্যাককলাম। ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান গেইল। আর এ ফরম্যাটে সর্বাধিক (১০৩) ছক্কার মালিকও গেইল। আর দ্বিতীয় সর্বাধিক (৯১) ছক্কা এসেছে ম্যাককালামের ব্যাট থেকে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের নিয়ে সবার আগ্রহ। এ দুই শীর্ষ তারকা যে দলের হয়ে খেলতে এসেছেন, সেই রংপুর রাইডার্স সাপোর্টাররা ছাড়াও বিপিএলের বেশিরভাগ দর্শক তাকিয়ে গেইল-ম্যাককালাম ঝড় দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন। এরমধ্যে বিপিএলের আগের চার আসরে অংশ নেয়া গেইল প্রথম বার (২০১২ সালে) একজোড়া আর পরেরবার (এক ম্যাচ খেলতে এসেই) একটিসহ সর্বাধিক তিন সেঞ্চুরির মালিক। খুব স্বাভাবিকভাবেই ফোকাসটা তার ওপরই বেশি।

কিন্তু আরও একজন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান আছেন দুই তারকা গেইল-ম্যাককালামের পাশে তার নামটা ঢাকা পড়ে গেছে; কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সেই টপ অর্ডারও বড় নাম। ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট ফরম্যাটের আরেক বিধ্বংসী উইলোবাজের নামটি হচ্ছে; এভিন লুইস। যিনি দু’বছর আগে প্রথম বিপিএল খেলতে এসে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন। করেছিলেন সেঞ্চুরি।

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২৮টি সেঞ্চুরি হয়েছে। চারজন মাত্র ব্যাটসম্যান সমান দুটি করে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এখনো যৌথভাবে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে রয়েছেন। সেই তালিকার অবশ্যই ক্রিস গেইল আর ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পাশাপাশি আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার এভিন লুইসের নামও।

মাত্র দুই বছর ১৮ মাসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রায় ২৬ বছরের (২৫ বছর ৩৩৫ দিন) এ বাঁ-হাতি যুবাও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই সেঞ্চুরির মালিক। ম্যাচের সংখ্যাকে নিয়ামক ধরলে ম্যাককালাম, গেইলের চেয়েও অনেক এগিয়ে লুইস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেরুণ জার্সি গায়ে মাত্র ১৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়ে দুইবার তিন অঙ্কে  পা রেখেছেন লুইস।

দুটি শতরানই ভারতের বিপক্ষে। প্রথমটি ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট লোডারহিলে। সেই ম্যাচে ২০৪.০৮ স্ট্রাইক রেটে ৪৯ বলে ১০০ (৯ ছক্কা ও ৫ বাউন্ডারি) করেছিলেন লুইস। আর শেষ শতকটি এ বছর ৯ জুলাই; কিংস্টনে। ওই ম্যাচে ২০১.৬১ স্ট্রাইক রেটে ৬২ বলে এক ডজন ছক্কা এবং হাফ ডজন বাউন্ডারিতে ভারতের বিপক্ষে ১২৫ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দিয়েছেন লুইস।

ইতিহাস জানাচ্ছে লুইস দু’বছর আগে প্রথম বিপিএল খেলতে এসে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে বিপিএলের তৃতীয় আসরে বরিশাল বুলসের হয়ে খেলতে এসে সাত ম্যাচে ৬বার ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ১৪৫ রান করেছিলেন লুইস। সঙ্গে একটি সেঞ্চুরিও ছিল।

দিনটি ছিল ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে; ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৬৫ বলে ৬ ছক্কা ও ৭ বাউন্ডারিতে ১৫৫.৩৮ স্ট্রাইক রেটে ১০১ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দিয়ে দলকে ৯ উইকেটের বড় জয় উপহার দিয়েছিলেন লুইস। ঢাকার ১৫৮ রানের জবাবে খেলতে নেমে আট বল আগে জয়ের লক্ষে পৌঁছেছিল বরিশাল বুলস। অবশ্যই জয়ের নায়ক লুইস।

আর গতবারের মতো এবারো লুইসের বর্তমান দল ঢাকা। মনে হচ্ছিল, আজও চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে বুঝি ২ বছর আগের সেই রেকর্ডর পুণরাবৃত্তি ঘটাতে যাচ্ছেন এ ক্যারিবীয়; কিন্তু অল্পের জন্য হয়নি। চিটাগাং ভাইকিংসের ১৮৭ রানের বড়-সড় স্কোরের জবাবে যেমন উত্তাল উইলোবাজি দরকার ছিল, ঠিক সেটাই করে দেখাচ্ছিলেন লুইস।

চিটাগং বোলারদের ইচ্ছেমতো তুলোধুনো করেছেন। তার ব্যাট থেকে আসা বাহারি আর আক্রমণাত্মক স্ট্রোকগুলো উইকেটের চারিদিকে চার ও ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে চলে যাচ্ছিল সীমানার ওপারে। মনে হচ্ছিল, দুই বছর আগের সুখ স্মৃতি বুঝি ফিরিয়ে আনবেন এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুবা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঝড়ের বেগে ব্যাট চালিয়ে কাঙ্খিত শতক থেকে ২৫ রান দুওে থেকে ফিওে গেলেন। আরেক ক্যারিবীয় পেসার রায়াদ এমরিতের বলে ইতি ঘটে এ টর্নেডো ইনিংসের। এমিরেতের ফুলটচ বলে কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েছিলেন লুইস। বল সোজা চলে যায় ডিপ কভারে ফিল্ডারের হাতে। ২৪১.৯৩ স্ট্রাইকরেটে ৩১ বলে ৯টি বিশাল ছক্কা আর ৩ বাউন্ডারিতে ৭৫ রানে আউট হলেন তিনি। নিশ্চিতপ্রায় শতরান হাতছাড়া।

তাতে কি? বড় ও কঠিন লক্ষ্যের পিছু ধেয়ে দলকে জয়ের খুব কাছে পৌছে দিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই ঝড়ো ব্যাটিংয়েই দুই ম্যাচ পর আবার জয়ের বন্দরে সাকিবের ঢাকা। আর তাতেই ম্যাচ সেরার পুরষ্কার তুলে নিলেন তিনি।

এবার বিপিএলে লুইসের ব্যাট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। ঢাকা ডায়নাইমাইটস তার ব্যাট থেকে পাচ্ছে নিয়মিত রান। এখন পর্যন্ত টপ স্কোরার (আট ম্যাচে ৩১৪) লুইস। দুটি ইনিংসছাড়া সব ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলা লুইসের আগের ইনিংসগুলো ছিল এমন : ২৬, ৬৬, ৪৪, ৪, ৬৪, ৭ ও ২৮।

এভিন লুইসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনেই উড়ে গিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। ১৮৭ রান করেও জিততে পারলো না স্থানীয় দলটি। হেরেছে ৭ উইকেটের ব্যবধানে।

এআরবি/আইএইচএস/আইআই