বিপিএলে সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড গড়ল খুলনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

প্রথম দেখায় হেরেছিল রাজশাহী। খুলনা রয়েছে জয়ের রাস্তায়। নিজেদের জয়ের রাস্তাতেই রেখেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। শেষ চার প্রায় নিশ্চিত হওয়ার পথে তাদের। তবে, আজ বিকেলের ম্যাচে চিটাগংয়ের বিপক্ষে ঢাকা ডায়নামাইটসের জয়ের কারণে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান হারিয়েছে খুলনা। রাজশাহীর বিপক্ষে মাঠে নেমে জয়ের সঙ্গে তাদের ইচ্ছা, হারানো স্থানটি পূনরূদ্ধার করা।

সে পথেই আপাতত হাঁটছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। কারণ, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রীতিমত রান উৎসবে মেতেছে খুলনার ব্যাটসম্যানরা। চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রেকর্ডই গড়ে বসেছে তারা। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে খুলনার সংগ্রহ ২১৩ রান। জয়ের জন্য রাজশাহীকে করতে হবে ২১৪ রান।

চট্টগ্রাম পর্বেই স্বাগতিক দল চিটাগং ভাইকিংস গড়েছিল ২১১ রানের রেকর্ড। বিপিএলের চলতি আসরে ওটাই ছিল এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের স্কোর। এছাড়া ঢাকা ডায়নামাইটস দু’বার ২০০ প্লাস স্কোর গড়েছিল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের নায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট আজও ঝড় তুলেছিলেন। ১৪ বলে ৩৪ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। ৩টি বাউন্ডারির সঙ্গে মেরেছেন ৩টি ছক্কা। তার ঝড়েই মূলতঃ চলতি বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে খুলনা টাইটান্স। শুধু ব্র্যাথওয়েটের কথা বলা কেন, খুলনার এই ইনিংসে অনেক বড় অবধান তরুণ ক্রিকেটার আফিফ হোসেন ধ্রুবর।

অনুর্ধ্ব-১৯ দলের এই ক্রিকেটারকে বিপিএল চেনে কেবল বোলার হিসেবে। একটু-আধটু ব্যাটিং করতে পারেন, এটাও হয়তো সবাই জানে; কিন্তু তিনি যে পুরো দস্তুর একজন ব্যাটসম্যান, তা জানা গেলো আজ। শেষ পর্যন্ত যে তিনি অপরাজিত থাকলেন ৩৮ বলে ৫৪ রানে! তার ইনিংসে কোনো বাউন্ডারি নেই। মেরেছেন ৫টি ছক্কার মার।

হাফ সেঞ্চুরি করেছেন আরেক ক্যারিবিয়ান নিকোলাস পুরান। ২৬ বলে তিনি খেলে দিয়ে যান ৫৭ রানের ইনিংস। ওপেনার নাজমুল হাসান শান্ত খেলেন ৩১ বলে ৪৯ রানের ইনিংস।

টস জিতে খুলনাকেই প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় রাজশাহী। সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না সেটা হয়তো এখন বেশ ভালোভাবেই চিন্তা করছে রাজশাহীর টিম ম্যানেজমেন্ট। আমন্ত্রিত হয়ে ব্যাট করতে নামার পর দলীয় ২৮ রানে ব্যাক্তিগত ৬ রানে আউট হয়ে যান রিলে রুশে। এরপর তিন নম্বরে নামিয়ে দেয়া হলো আফিফ হোসেন ধ্রুবকে।

নাজমুল হাসান শান্তর সঙ্গে মিলে তিনি গড়েন ৪৫ রানের জুটি। ৩১ বলে ৪৯ রান করে শান্ত আউট হয়ে গেলেও টিকে থাকেন ধ্রুব। একপাশ আগলে রাখার দায়িত্বই যেন বর্তেছিল তার ঘাড়ে। মাহমুদউল্লাহ ১ রানে ফিরে গেলেন টলে যায়নি তরুণ ধ্রুবর পা।

বরং নিকোলাস পুরান, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট এবং আরিফুল হকের সঙ্গে ছোট-বড় জুটি গড়ে খুলনাকে এনে দিলেন চলতি বিপিএলের সবচেয়ে বড় স্কোরের রেকর্ড। ধ্রুব নিজে ছিলেন অপরাজিত। ৩৮ বল খেলে ৫টি বড় বড় ছক্কায় করেন ৫৪ রান। কোনো বাউন্ডারির মার নেই তার ইনিংসে। শেষ পর্যন্ত আউটই করতে পারেনি তাকে রাজশাহীর কোনো বোলার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে খুলনা টাইটান্স।

বল হাতে আজ ঠিক মোস্তাফিজকে চেনা যায়নি। ৪ ওভার পুরো বল করলেন। রান দিলেন ৪৮টি। ১২ করে ইকনোমি রেট। উইকেটের খাতা পুরো শূন্য। এমন মোস্তাফিজকে তো কেউ দেখতে চায় না।

তবে রাজশাহী কিংসের ইনিংসে মোস্তাফিজের চেয়েও বেশি রান দিয়েছেন আরেকজন। জেমস ফ্রাঙ্কলিন ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন ৫০ রান। যদিও উইকেট নিয়েছেন তিনি ৩টি। ৪৬ রান দিয়েছেন কেসরিক উইলিয়ামস। ৪২ রান দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

সবচেয়ে কম খরুচে বোলার ছিলেন মোহাম্মদ সামি। ২২ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট।

আইএইচএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :