পুঁচকে আফিফের বুকে এত সাহস!

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৮ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:২৫ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭
পুঁচকে আফিফের বুকে এত সাহস!

বয়সটা মাত্র ১৮ বছর ৬৬দিন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নিয়মিত পারফরমার। এতটুকুন বয়সের একটা ছেলেকে ক’জনই বা আর চেনে? যুব দলের হয়ে খেলার ফলে হয়তো কিছু মানুষ তাকে চেনার কথা; কিন্তু আফিফ হোসেন ধ্রুবকে যে জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটারের চেয়েও বেশি চেনে মানুষ! বয়স ১৮ হলে কী, হবে এ এতটুকুন বয়সেও তার বুকে কী সাহস! না হয়, সামি, মোস্তাফিজ, উইলিয়ামস এবং জেমস ফ্রাঙ্কলিন, মিরাজদের বল মোকাবেলা করে বিশাল বিশাল ৫টি ছক্কা মারতে পারার কথা নয়!

আফিফকে তো বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা চিনেছে গত বছর বিপিএলের সময়ই। তখন তার বয়স ১৭ বছর। মাত্রই কৈশোর পার হওয়া এ পিচ্চিটাকে হঠাৎ সেবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে নামিয়ে দিয়েছিল রাজশাহী কিংস। ঢাকার পরিকল্পনা সব নস্যাৎ করে দিয়ে ধ্রুব একাই নিলেন ৫ উইকেট। ৪ ওভার বল করে ২১ রান দিয়ে নিলেন ১টি মেডেন ওভারও।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করা সেই আফিফ হোসেন ধ্রুবকে এবার আর রাজশাহী ধরে রাখতে পারেনি। কিনে নিয়েছে খুলনা টাইটান্স। যে দলটিতে রয়েছে তার সতীর্থ সাইফ হাসান, অগ্রজ নাজমুল হোসেন শান্তর মত তরুণ ক্রিকেটার। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সূচির কারণে বিপিএলের শুরু থেকে খেলার সুযোগ পাননি। খেলছেন মাঝপথ থেকে।

আফিফ হোসেন ধ্রুব তো এ নিয়ে খেলছেন মাত্র ৩য় ম্যাচ। আগের দুই ম্যাচের মধ্যে প্রথমটাই ছিল রাজশাহীর বিপক্ষে। ব্যাট হাতে ৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নেন ১ উইকেট। এরপর রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নিলেন ৯ রান। বল হাতে নেন ২ উইকেট। রাজশাহীর বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে আবারও সুযোগ পান ধ্রুব।

এবার তাকে তিন নম্বরেই নামিয়ে দেয়া হলো ব্যাট করার জন্য। ৬ রান করে রিলে রুশো আউট হয়ে গেলে ব্যাট করতে নামেন ধ্রুব। দু’জন মিলে গড়েন ৪৫ রানের জুটি। ৩১ বলে ৪৯ রান করে শান্ত আউট হয়ে গেলেও টিকে থাকেন ধ্রুব। একপাশ আগলে রাখার দায়িত্বই যেন বর্তেছিল তার ঘাড়ে। মাহমুদউল্লাহ ১ রানে ফিরে গেলেন টলে যায়নি তরুণ ধ্রুবর পা।

বরং নিকোলাস পুরান, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট এবং আরিফুল হকের সঙ্গে ছোট-বড় জুটি গড়ে খুলনাকে এনে দিলেন চলতি বিপিএলের সবচেয়ে বড় স্কোরের রেকর্ড। ধ্রুব নিজে ছিলেন অপরাজিত। ৩৮ বল খেলে ৫টি বড় বড় ছক্কায় করেন ৫৪ রান। কোনো বাউন্ডারির মার নেই তার ইনিংসে। শেষ পর্যন্ত আউটই করতে পারেনি তাকে রাজশাহীর কোনো বোলার।

আইএইচএস/আরআইপি