বিজয় দিবসে জয় পেতে প্রতিজ্ঞ ছিলেন রুমানারা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১৩ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ছয় ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী 'এ' দল। মূলত 'এ' দলের মোড়কে জাতীয় দলই গিয়েছিল সিরিজটি খেলতে। ছয় ম্যাচ সিরিজের প্রথম পাঁচটি ম্যাচই হেরে যায় রুমানা-সালমারা।

সিরিজের শেষ ম্যাচটি পড়ে ১৬ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের বিজয় দিবসের দিন। আর সেদিনই ম্যাচটি জিতে যায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বিশেষ উপলক্ষে দিনে ম্যাচটি জেতার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন বলেই রুমানা আহমেদ সাংবাদিকদের জানান।

সেদিনের জয়ের কথা বলতে গিয়ে রুমানা বলেন, 'পুরো জিনিসটা ছিল যে, আমরা আগের দিন অনুশীলন থেকেই একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম; আগামী যে ম্যাচটা খেলতে যাচ্ছি সেটা কিন্তু বিজয় দিবসের দিন। সেদিন আমরা বিজয় লাভ করেছি, কাজেই আমরাও কিছু করতে চাই। আমরা এরকম একটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম আগের দিন থেকে।'

তবে কি অন্য ম্যাচে সেই প্রতিজ্ঞাটা থাকে না? রুমানার উত্তর, 'এমনটা প্রতিটা ম্যাচেই ছিলাম। ওই দিন একটু বেশি ছিলাম। আমরা প্রথম থেকেই তাই আক্রমণাত্মক ছিলাম। অন্য ম্যাচগুলোর চেয়ে ফিল্ডিং এদিন অনেক ভালো হয়েছে। কোচ অনেক খুশি ছিলেন। তিনি আমাদের বলেছেন, আজ যেটা খেলেছো এটাই হলো তোমরা।'

ভারত সফরের ব্যর্থতার জন্য বোলারদেরকেই দায়ী করলেন এই অধিনায়ক। তার মতে, 'ভারত সফর থেকে আমরা অনেক অভিজ্ঞতাই অর্জন করেছি। তবে আমরা যেমন আশা করেছিলাম, সেই অনুযায়ী ভালো হয়নি। আমরা ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে আরেকটু রান এবং বোলারদের কাছ থেকে আরেকটু ভালো বোলিং চেয়েছিলাম। এবার বোলাররা ভালো করতে পারেনি। বোলারদের নিয়ে কাজ চলবে। ভালো দলের সঙ্গে খেললে বোঝা যায়, আমরা কতটুকু পিছিয়ে আছি। আমাদের কি কি করা দরকার আছে।'

ভারতীয় 'এ' দলেও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিলেন বলে জানান রুমানা। তিনি বলেন, 'বেশ কয়েকজন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান আর বোলার ছিলেন। এছাড়া ওদের একজন ওপেনার ছিলেন যার জাতীয় দলের হয়ে সাতটা সেঞ্চুরি আছে। তো ওদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল অনেক। ওদের 'এ' দলটা অনেক আগে থেকে। যারা জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে তারা 'এ' দলে থাকে। ওদের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছিল অনেক। '

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দল ব্যর্থ হলেও ব্যাট-বল হাতে সফল ছিলেন রুমানা। তারপরও নিজের পারফরম্যান্সের আরও উন্নতি চান তিনি। নিজের প্রসঙ্গে এই অলরাউন্ডার বলেন, 'এখান থেকে তো অবশ্যই আমি অনেক কিছু শিখেছি। দল তো অবশ্যই আছে। তারপরও আমি আমার নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সবসময় চিন্তা করি। কিভাবে নিজের উন্নতি করা যায়। আজকের ম্যাচে যদি আমি ফিফটি করি, তাহলে পরের ম্যাচে আমার লক্ষ্য থাকে আরও বাড়তি ২০টি রান করার। উইকেট যদি দুইটা পাই, তাহলে আরও চারটা বানাতে হবে। আমি নিজে পরিশ্রম করি। চেষ্টা করি কীভাবে ভালো ক্রিকেটার হওয়া যায় এবং দেশের সুনাম অর্জন করা যায়।'

এই আসরে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল দুই ফরম্যাটে দুই অধিনায়ক পেয়েছে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমাদের দুই ফরম্যাটে দু'জন অধিনায়ক করা হয়েছে এই ট্যুরের জন্য। ওয়ানডেতে আমি অধিনায়কত্ব করেছি আর টি-টোয়েন্টিতে সালমা আপু করেছে।'

এমএএন/এমএমআর/আরআইপি