ট্রিপল সেঞ্চুরির পথে নাসির

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১১ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

জাতীয় ক্রিকেট লিগে এসে দারুণ জ্বলে উঠেছে জাতীয় দলের অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের ব্যাট। দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরির পর এবার ট্রিপল সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে চলেছেন বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের এই অধিনায়ক। এবারের জাতীয় লিগেই একটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন নাসির হোসেন। ওই ইনিংসটি ছিল ২০২ রানের। এবার সেটিকে তো ছাড়িয়েই গেলেন, জাতীয় লিগের ৬ষ্ঠ রাউন্ডের এই ম্যাচে এসে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে রয়েছেন একেবারে ট্রিপল সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে।

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামের ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে নাসির হোসেন অপরাজিত রয়েছেন ২৭০ রানে। ট্রিপল সেঞ্চুরি থেকে আর মাত্র ৩০ রান দুরে রয়েছেন তিনি। আরিফুল হককে নিয়ে দুর্দান্ত এক জুটি গড়ার পর বরিশাল বিভাগের সামনে বিশাল রানের লিডও দাঁড় করিয়ে দিয়েছে নাসিরের রংপুর বিভাগ।

বরিশালের ৩৩৫ রানের জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় দিনেই নাসির হোসেন অপরাজিত ছিলেন ১০১ রানে। তার সঙ্গে আরিফুল হক ছিলেন ৩৪ রানে অপরাজিত। ১৮৫ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ার পর জুটি বাধেন নাসির আর আরিফুল। দু’জনে মিলে গড়েন ৩৬৮ রানের বিশাল জুটি। ১৬২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আরিফুল হক বিদায় নিলেও আরেক পাশ আগলে রয়েছেন নাসির হোসেন। নাসিরের ২৭০ রানের ইনিংসটি সাজানো ৪৬৭ বলে। ক্রিজে কাটিয়েছেন ৫৪৮ মিনিট সময়। বাউন্ডারি মেরেছেন ২৯টি এবং ছক্কা ৩টি।

ধীমান ঘোষকে (৫) সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেন নাসির। দিন শেষে রংপুরের রান ৫ উইকেট হারিয়ে ৫৭০। প্রথম ইনিংসে বরিশালের চেয়ে ২৩৫ রান এগিয়ে রংপুর। যদিও দিন বাকি রয়েছে আর একটি।

বিপিএলের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন নাসির। ব্যাট-বলে সিলেটকে টানা কয়েকটি ম্যাচে জয়ও এনে দিয়েছিলেন। যদিও পরে নিজের ছন্দ হারিয়ে ফেলেন তিনি, সঙ্গে তার দলও। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে আবারও জ্বলে উঠলো জাতীয় দলের এই অলরাউন্ডারের ব্যাট।

৬ষ্ঠ রাউন্ডের তৃতীয় দিনে আজ খুলনার ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের পর ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করেন নাসির হোসেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটা নাসিরের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনেই তিনি দেখা পেয়ে যান ডাবল সেঞ্চুরির। ৩৫১ বলে খেলে এই ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান তিনি।

নাসিরের ডাবলের সঙ্গে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বিপিএলে খুলনা টাইটান্সের হয়ে ঝড় তোলা আরিফুল হক। ২৯০ বল খেলে ১০ চার আর ২ ছক্কায় ১৬২ রান করে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে আউট হয়ে যান তিনি।

নাসিরের আগে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেন খুলনার এনামুল হক বিজয়। যদিও তিনি আউট হয়ে গিয়েছেন ২০২ রান করে। বিকেএসপিতে ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে ১৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন বিজয়। তার সঙ্গে ১৬৮ রানে অপরাজিত ছিলেন মেহেদী হাসান। তৃতীয় দিনে এসে ১৭৭ রান করে মেহেদী আউট হয়ে গেলেও বিজয় দেখা পান ডাবল সেঞ্চুরির।

২৪৮ বলে ২৩ চার ৪ ছক্কায় এই মাইলফলক পেরিয়েছেন জাতীয় দলের এই ডানহাতি ওপেনার। তবে ডাবল সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই তারকা ব্যাটসম্যান। ২৫১ বলে ২০২ রান করে শুভাগত হোমের বলে আউট হয়ে যান তিনি। বিজয় আউট হয়ে যাওয়ার পরই অবশ্য ৮ উইকেটে ৪৫৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে খুলনা বিভাগ।

আইএইচএস/এমএস