এবার জাতীয় দলের হয়ে রান করতে চান মিঠুন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮
এবার জাতীয় দলের হয়ে রান করতে চান মিঠুন

ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে জাতীয় লিগ, বিসিএল আর ঢাকার প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলেন, প্রতি বছর সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় মোটামুটি ওপরের দিকেই থাকে তার অবস্থান; কিন্তু জাতীয় দলের তকমাটা স্থায়ীভাবে লাগেনি- এমন ক্রিকেটারদের তালিকায় মোহাম্মদ মিঠুনের নাম থাকবে ওপরের দিকেই। টেস্ট ক্যাপ পরা হয়নি এখনো। তবে লাল সবুজ জার্সি গায়ে চেপেছে প্রায় চার বছর আগে, সেই ২০১৪ সালে।

২০১৪ সালের ১২ ফেব্রয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক । আর ওয়ানডে ক্রিকেটে যাত্রা শুরু একই বছর ১৭জুন ভারতের বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

ওয়ানডে অভিষেকটা স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারতো; কিন্তু ভাগ্য প্রতিকুলে থাকায় মিঠুনের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা স্মরণীয় হয়ে থাকেনি। অথচ অভিষেক ওয়ানডেতে তিনিই ছিলেন দলের সর্বোচ্চ স্কোরার (২৬)। ব্যাটিং ব্যর্থতায় সে ম্যাচটি এখনো দুঃস্বপ্নের এক ম্যাচ হয়েই আছে তার জন্য। ভারতকে ১০৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ যে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ৫৮ রানে!

২০১৪ সালের ১৯ জুন একই মাঠে ভারতের বিপক্ষে পরের ম্যাচটি বৃষ্টিতে ধুয়ে-মুছে যাওয়ার সাথে মিঠুনের ওয়ানডে ক্যারিয়ারেও নেমে আসে অন্ধকার। আর লাল সবুজ জার্সি গায়ে ওয়ানডে খেলা হয়নি তার। তবে বিরতি দিয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পেয়েছেন। সেটাও খুব বেশি নয়। মোটে ১২টি। সেখানেও নিজেকে মেলে ধরা সম্ভব হয়নি। আটবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে রান সব মিলিয়ে ৮৫। যার একটিতেই আছে ৪৭। জাতীয় দলের হয়ে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন, ২০১৬ সালের ২৬ মার্চে, কলকাতায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ফিরে গিয়েছিলেন ১১ রান করে।

এরপর সর্বশেষ ২২ মসে আর কোন ফরম্যাটে জাতীয় দলে জায়গা পাননি তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার আবার লাল সবুজ জার্সি গায়ে চড়বে মিঠুনের। ত্রি-দেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত ১৬ জনের দলে রাখা হয়েছে তাকে। এবারের বিপিএলে ভাল খেলাই তাকে আবার জাতীয় দলে ফিরিয়ে এনেছে।

গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মত ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে না পারলেও মিঠুন একদিক আগলে রাখার কাজটি করেছেন দায়িত্ব সচেতনতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে। চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের শিরোপা বিজয়েও মিঠুনের অবদান ছিল। খুব বড় স্কোর গড়তে না পারলেও ১৩বার ব্যাটিং করে দুবার নটআউট থেকে ৩২৯ রান করে রান তোলায় পঞ্চম স্থান দখল করে আবার জাতীয় দলে ফিরে আসলেন মিঠুন।

জাতীয় দলে জায়গা পাকাপোক্ত করতে না পারার দুঃখবোধ আছে প্রবল। আবার নাম লিখাতে পেরে মনে আনন্দও কিছু কম নয়। এ কারণে বেশ খুশি মিঠুন। মুখে এমন সংলাপ, ‘আসলে দল থেকে বাদ পড়া সব সময়ই কষ্টের। কেউই চায় না যে দল থেকে বাদ পড়তে। আর বাংলাদেশ দলে খেলা এবং পারফর্ম করা সবারই স্বপ্ন থাকে। আবার সেই স্বপ্নটা ধরা দেয়ার সুযোগ এসেছে। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব খুশি।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় নিয়মিত রানের ফলগুধারা বইয়ে দিলেও জাতীয় দলের হয়ে রান নেই। এবার সেই রান খরা কাটাতে চান মিঠুন। জাতীয় দলের হয়ে ভাল খেলাই এখন তার মূল লক্ষ্য। তাইতো মুখে এমন কথা, ‘আসলে ভালোর তো শেষ নেই। আমি যা করেছি, তার থেকেও আরও ভালো সুযোগ আছে। আমি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে করতে পারিনি। অবশ্যই প্রথম লক্ষ্য, বাংলাদেশের হয়ে ভালো খেলার। ভালো কিছু করার। আমি হয়তোবা ক্লাব কিংবা ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে ভালো খেলেছি। আলটিমেট যে গোল, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের হয়ে ভালো খেলা। আমার দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা থাকবে যে দেশের হয়ে কিছু যেন করতে পারি।’

এআরবি/আইএইচএস/আইআই