মাশরাফি ভাই চেয়েছেন, তাই আমি দলে : মিঠুন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮

প্রথম দিকে তেমন হইচই না করলে শেষ দিকে ক্রিকেটার নির্বাচন তথা দল গঠনে ভীষণ রকমের মাতব্বরি ফলাতেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তিনি এখন নেই। সাবেক হয়ে গেছেন। তাতে করে এবারের দল নির্বাচনে দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আর হাবিবুল বাশার সুমন- গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা পেয়েছেন।

পাশাপাশি এবার দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আর সাকিব আল হাসানের সম্পৃক্ততাও ছিল আগের চেয়ে বেশি। খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মাশরাফি আর সাকিবের সাথে বসে জাতীয় দলের আগামী দিনের কর্মতৎপরতা, লক্ষ্য এবং কৌশল নির্ধারণ নিয়ে অনেক খোলামেলা আলোচনা করেছেন।

তাদের মতামতও নিয়েছেন। এছাড়া নির্বাচকরাও দল সাজাতে গিয়ে এবং ক্রিকেটার নির্বাচনে অধিনায়কদের মত নিয়েছেন। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানিয়েছেন, তারা তিন জাতি স্কোয়াড আর শ্রীলঙ্কার সাথে হোম সিরিজে দল নির্বাচন নিয়ে দুই অধিনায়কের মতামত নিয়েছেন। জানা গেছে, দল নির্বাচনে মাশরাফির মতামত এবার বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বিপিএলে মাশরাফির দল রংপুর রাইডার্সের হয়ে বেশ দায়িত্বপূর্ণ ব্যাটিং করেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। রংপুরের শিরোপা বিজয়েও মিঠুনের অগ্রনী ভুমিকা ছিল। বিপিএলের শিরোপা বিজয়ের রাতে প্রেস কনফারেন্সে মাশরাফি উচ্চকণ্ঠে মিঠুনের উচ্ছসিত প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘মিঠুন আমাদের সাফল্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে।’

মিঠুনও মনে-প্রাণে বিশ্বাস করছেন, বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ভাল খেলাই তাকে আবার জাতীয় দলে ফিরিয়ে এনেছে। আর সেই ভাল খেলার মূল অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন মাশরাফি। তাকে দায়িত্ব-কর্তব্য বেঁধে দেয়ার পাশাপাশি বুদ্ধি-পরামর্শও বাতলে দিয়েছেন অধিনায়ক। জাতীয় দলে আবার জায়গা পেয়ে তাই মাশরাফির ওপর যারপরনাই কৃতজ্ঞ মিঠুন। সোমবার বিকেলে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে মাশরাফির প্রতি তার কৃতজ্ঞতাই ফুটে উঠেছে।

মাশরাফির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে মিঠুন বুঝিয়ে দিয়েছেন, তার জাতীয় দলে ফিরে আসার পিছনেও মাশরাফির ভূমিকা ছিল, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে আমার দল রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি ভাই বাংলাদেশ দলেরও অধিনায়ক। তিনি আমার উপরে আস্থা রেখেছেন। উনি আমার উপরে আস্থা রেখেছেন বলেই আমি আজ এখানে। উনি আস্থা না রাখলে আমি এখানে থাকতে পারতাম না।’

মাশরাফির কারণেই বিপিএলে ভালো খেলতে পেরেছেন বলে মনে করেন মিঠুন। তিনি বলেন, ‘মাশরাফি ভাই আমাকে বিপিএলে ভাল খেলার সাহস জুুগিয়েছেন। আমার দায়িত্ব-কর্তব্যও ঠিক করে দিয়েছেন। আসলে মাশরাফি ভাই আমাকে বলে দেন, ব্যাটিংয়ে আমার রোল কি হবে। আমার কাছ থেকে তিনি আসলে কি চান। তাতেই আমার খেলা সহজ হয়ে যায়। আমি বুঝে যাই আমার করণীয় কি! অধিনায়ক তথা টিম ম্যানেজমেন্ট আমার কাছে আসলে কী চান। আমি বিশ্বাস করি, কোন ক্রিকেটাকে তার দায়িত-কর্তব্য ঠিক করে দিলে তার ভাল খেলা সহজ হয়ে যায়।’

সমালোচকরা বলছেন বিপিএলে ভাল খেলা আর জাতীয় দলের হয়ে পারফরম করা এক নয়। দুটির মানগত পার্থক্য আছে। মিঠুন অবশ্য তা মানতে চান না। তার মত, বিপিএল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়ে খুব পিছিয়ে নেই।

তাই তো মুখে এমন ব্যাখ্যা, ‘বিপিএলের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেকটাই মিল আছে। আমি যেটা ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব বেশি বিদেশি থাকে না। ক্যামেরা-ক্রাউড থাকে না; কিন্তু বিপিএলে সবই থাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আবহাওয়ার সাথেও বিপিএলের মিল পাওয়া যায়। বিপিএলে হয়তোবা পাঁচজন বিদেশি আর বাকি সবাই দেশি। তারপরও পাঁচজন বিদেশির বিপক্ষে তাদের খেলতে হয়েছে। আবার একসঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ারও করতে হয়েছে। এছাড়া ক্রাউডেরও (দর্শকের) চাপ ছিল। সবকিছু মিলিয়ে বিপিএলের সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মিল আছে।’

সুযোগ পেলে জাতীয় দলকে অন্তত একটা ম্যাচ জেতাতে চান মিঠুন। তার টার্গেট কি হবে? জানতে চাইলে মিঠুন বলেন, ‘দেশের হয়ে যদি একটা ম্যাচ জেতাতে পারি তাহলে এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। তারপরও কখন আমি কোন পরিস্থিতি পাব কিংবা কিভাবে আমি নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারব- এটা এখন বলতে পারব না। অবশ্যই সুযোগ আসলে ম্যাচ জেতানোর চেষ্টা করবো। যদি খেলি, যতটুকু অবদান রাখা সম্ভব তা থেকেও বেশি কিছু করার চেষ্টা থাকবে।’

রংপুর রাইডার্সে তার ব্যাটিং রোলটা জেনে গিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি ও কোচ টম মুডির কাছ থেকে। ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে একাদশে জায়গা পেলে তার করণীয় কি হবে? সেটা জানার অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছেন মিঠুন।

‘আসলে আমি দলে মাত্র এসেছি। এখনই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবো না। আমার নিজের একটা পরিকল্পনা আছে। আমাদের দলের সঙ্গে নিজের পরিকল্পনা মিলিয়ে অ্যাডজাস্ট করতে হবে। আর এখনও আমি জানি না আমার রোলটা কি হবে। আমি যখন জানতে পারব তখন আমি নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করার চেষ্টা করবো।’

অধিনায়ক মাশরাফি ছাড়াও রংপুরের হয়ে খেলে যাওয়া দুই বিশ্ব তারকা ক্রিস গেইল আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম মিঠুনকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার ব্যাটিং মেধা-প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেছেন। তাদের কাছ অনেক কিছু শিখেছেনও মিঠুন।

সোমবার শেরেবাংলার একাডেমি মাঠে প্র্যাকটিসে মিডিয়ার সাথে আলাপে সে প্রসঙ্গ উঠতেই মিঠুন বলেন, ‘গেইল ও ম্যাককলামের মত গ্রেটদের সঙ্গে পুরো মৌসুম ছিলাম। অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি। ক্রিস গেইল, ম্যাককালাম কিংবা মাশরাফি ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার চেষ্টা করেছি। কারণ আমাদের দলে অভিজ্ঞতার দিক থেকে ওয়ার্ল্ডের সেরা এবং টপ টপ খেলোয়াড়রা ছিল। সুতরাং, তাদের থেকে অনেকেটা উৎসাহিত হয়েছি। তারা আমাকে নিয়ে যখন ইতিবাচক কথা বলেছেন সেটা আমার নিজের কাছে অনেক ভাল লেগেছে।’

এআরবি/আইএইচএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :