পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সাকিব

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:২২ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৬ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮
পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সাকিব

তামিম আর মাশরাফিকে পেছনে ফেলেছেন অনেক আগেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ম্যাচ সেরার লড়াইয়ে অনেক আগেই সবার ওপরে সাকিব আল হাসান। আজসহ ১৮ বার ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠলো সাকিব আল হাসানের হাতে। একই আসরে পরপর দুই ম্যাচে দলকে জেতানোর ভূমিকায়। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৩ উইকেট ও ৩৭ রান আর আজ ৬৭ রান ও ৩/৪৭ অলরাউন্ডিং পারফরমেন্সে আবারো ম্যাচ সেরা সাকিব।

একে দল পরপর দুই খেলায় বোনাস পয়েন্টসহ জিতে ফাইনালে। তার সঙ্গে তিনি নিজে পরপর দুই খেলায় ম্যাচ সেরা। সব মিলে অন্যরকম ভালো লাগা। বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ। কিন্তু সাকিব তা মানতে নারাজ। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের কথা, ‘না। জয় আমাদের কাছে কেবল জয়ই। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। এই টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা হিসেবেও যদি দেখি এই ম্যাচটা জেতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল ফাইনালে যাওয়ার জন্য। দুটি ম্যাচেই আমরা যেভাবে প্রভাব বিস্তার করে জিতলাম, অবশ্যই এটা আমাদের অনেক বড় আত্মবিশ্বাস দেবে পরের দুটি ম্যাচ জেতার জন্য। ’

কিন্তু আপনি যে পরপর দুই খেলায় ম্যাচ সেরা। ব্যক্তিগতভাবে পরপর দুইদিন ম্যাচ সেরা পারফরমার হিসেবে প্রেস মিটে এখানে আসতে পারা, অনুভূতি কেমন?

সাকিবের ব্যাখ্যা, দলের জন্য কন্টিবিউট করা তো সবসময় ভালো একটা ফিলিংস। শেষ দুইদিন ধরে ভালো পারফরম্যান্স হচ্ছে ব্যাটিং-বোলিং সব বিভাগেই। আলহামদুলিল্লাহ, চেষ্টা থাকবে এটা যেন ধারাবাহিকভাবে করতে পারি।’

আউট হওয়ার পর আক্ষেপ আছে কিনা?

পুরো ব্যাটিং করলে তো সেঞ্চুরি অবশ্যই হতো। সুযোগও ছিল। অবশ্যই আউট হলে সবার মধ্যেই হতাশা কাজ করে। যে যত রানই করুক। সেটাই ছিল। এর বাইরে তেমন কিছু না।
শ্রীলঙ্কা এক সময় কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে অনেক বেগ দিত। এখন কাকে এগিয়ে রাখবেন? এমন প্রশ্নর জবাবে সাকিব জানালেন, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবসময় কাউকে এগিয়ে রাখা কঠিন ব্যাপার। কারণ ওই দিনটাতে কে ভালো খেলবে সেটা বলা মুশকিল। কাউকে এগিয়ে রাখা কিংবা পিছিয়ে রাখার ব্যাপার এখানে না। আমাদের কাজ থাকবে, কীভাবে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি। যেভাবে আমরা শেষ দুটি ম্যাচ খেলেছি, সেভাবে পরের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারলে আামাদের পক্ষে খুব ভালোভাবেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভব।’

তিন নম্বর পজিশন ব্যালেন্স হচ্ছে কিনা?


এটা এখনই বলা সম্ভব না। আমাদের ব্যাটিংটা আরও অনেক বেশি সলিট হবে এখন। আমাদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর একটা প্রতিযোগিতা সবসময় কাজ করে। দলের মধ্যে কে বেশি রান করছে, কে বেশি উইকেট পাচ্ছে। এটা দলের মধ্যে সবসময়ই আমরা ইতিবাচকভাবে আলোচনা করি। আমার কাছে মনে হয়, প্রতিযোগিতাটা আরও ভালো হবে।

তিন ফরম্যাটে ১০ হাজার রান পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে ...


‘তাই নাকি আলহামদুলিল্লাহ! দেখুন এমন একেকটা ল্যান্ডমার্ক ছুঁতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগে। চেষ্টা থাকবে আরও যত বেশি করতে পারি। সবসময় হয় না। আবার সবসময় হবেও না, সেটাও নয়। এখন ভালো হচ্ছে। চেষ্টা থাকতে আরও কত দ্রুত মাইলফলকগুলো ছোঁয়া যায়।

তামিমের সঙ্গে রান করার প্রতিযোগিতা নিয়ে কিছু বলেন?


‘এই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাটা আমার কাছে মনে হয় খুব জরুরি। সবার তো সবার প্রতি অবশ্যই একটা প্রত্যাশা থাকে। নিজের সঙ্গে নিজের একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। এমন প্রতিযোগিতা দলের জন্য অনেক ভালো। আমরা হয় তো তিন চারজন আছি খুব কাছাকাছি রানের দিক থেকে। প্রতি ম্যাচেই আমাদের চিন্তা থাকে কার থেকে কে বেশি রান করবে। চিন্তাটা এমন নয় যে সেম আউট হয়ে যাক। যে যত বেশি করবে, তার চেয়ে বেশি করতে পারাটা আলাদা একটা স্বস্তির ব্যাপার। আমরা যারা আছি, এটা খুব ভালোভাবে অনুভব করি। আমার কাছে মনে হয় আমাদের তিনজনের এই প্রতিযোগিতাটা খুব ভালো। এটা যত বেশি দিন চলতে থাকবে, আমাদের দল তত ভালো খেলতে থাকবে। মুশফিক ভাইয়ের প্রায় ৫ হাজারের মতো রান। আর আশেপাশে নেই মনে হয় কেউ।’

ওআর