মাঠের কিছু বিষয় সিনিয়রদের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে : সুজন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:২৫ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮

তিন জাতি ক্রিকেট আসর শুরুর ২৪ ঘন্টা আগে ১৪ জানুয়ারি দুপুরে শেরে বাংলায় জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফির ঘোষণা; ‘ক্রিকেটাররা এখন অনেক বেশি স্বাধীন। টিম বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম অনেক বেশি নির্ভার।’ আর ১৯ জানুয়ারি সাকিব আল হাসান জানিয়ে দিলেন, ‘এখন আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারছি।’

দুটির একটিও দীর্ঘ মন্তব্য নয়। ছোট্ট সংলাপ; কিন্তু এর ব্যাপ্তি কি ছোট? আর অন্তির্নিহিত তাৎপর্যই বা কতটুকু! নাহ মোটেই কম নয়। দুটি মন্তব্যেরই অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আছে। মাশরাফি আর সাকিব যা উহ্য রেখেছেন।

ওই দুই মন্তব্য খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করলে পরিষ্কার বেরিয়ে আসবে- হাথুরুসিংহের সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ওপর ছিল বাড়তি চাপ। সেটা হতে পারে কোচ হিসেবে হাথুরুর প্রত্যাশা বেশি ছিল, তাই ক্রিকেটাররা চাপে থাকতেন। আর সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর মত সিনিয়ররা পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার পরও ইচ্ছেমত সামর্থ্যরে প্রয়োগ ঘটানোর স্বাধীনতা পেতেন না। তাদের খেলতে হতে কোচের নির্দেশ মেনে।

সবার কৌতুহলি জিজ্ঞাসা, এখন যিনি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পদবি নিয়ে মাশরাফি বাহিনীর কোচের দায়িত্বে, সেই খালেদ মাহমুদ সুজন আসলে কি করছেন? ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে তার মূল বার্তাই বা কি?

আজ দুপুরে এক পাঁচ তারকা হোটেলে দাঁড়িয়ে সে কৌতুহলি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। অনেক কথার ভীড়ে খালেদ মাহমুদ সুজন, এমন কিছু কথা বলেছেন, যাতে পরিষ্কার হয়েছে- মাঠে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও সাকিবের ওপর ছড়ি ঘোরাতেন হাথুরুসিংহে।

হোক তা ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ের সময়। বারবার ম্যাসেজ পাঠাতেন। সুজনের দাবি, এখন তা নেই বা হচ্ছে না। তাই সুজনের মুখে এমন কথা, ‘আমরা কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছি। আমরা চেয়েছি মাঠের বিষয়গুলো ওদেরকে (সিনিয়র ক্রিকেটারদের) দিতে হবে।’

কেন দিতে চাইলেন? ‘কারণ ওরা অনেক অভিজ্ঞ। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমে সব মিলিয়ে এখন ৬০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা আছে। সাকিব, তামিম, মাশরাফি, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর ক্যারিয়ার যোগ করে দেখেন- তা পাঁচ যুগ ছাড়িয়ে গেছে। অভিজ্ঞতার কথা যদি বলি, তাহলে বলতেই হবে অনেক বছরের অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। মাঠে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং সেই ক্ষমতাও তারা রাখে।’

সেটা কিভাবে? সুজনের ব্যাখ্যা, ‘তারা সবাই ঢাকা লিগে কিংবা অন্য জায়গায় অধিনায়কত্ব করেছে ঘুরেফিরে। জাতীয় দলেও একই অভিজ্ঞতা রয়েছে। মাশরাফি এখন আছে। মুশফিক ক্যাপ্টেন্সি করেছে, সাকিব করেছে। তামিম লোকাল ক্রিকেটে করেছে। মাঠে আমরা পরামর্শ পাঠাই। যদি আমরা মনে করি, অবশ্যই ম্যাসেজ পাঠাই। সেটা তারা যদি মনে করে শুনতে চায়, তাহলে শুনে। তবে মূল বিষয় হচ্ছে, তড়িৎ দৃষ্টি তাদের দরকার। কারণ তারা খেলছে মাঠে। তারা উইকেটের চরিত্র ও গতি প্রকৃতি বুঝতে পারছে। বাইরে থেকে উইকেট সম্পর্কে সব কিছু আমরা বুঝতে পারব না। আবার দেখা গেলো, এক সময় এমন হলো- আমি যাকে বলছি বোলিং করাতে ওই সময়ে হয়ত অধিনায়ক অন্য কোনো বোলারের উপর আস্থা রাখছে। যদি আমি তাকে মেসেজ পাঠাই তাহলে আমি একটা সংশয় তৈরি করবো অধিনায়কের মনে। আমি চাই না কোন সংশয় ও দ্বীধার জন্ম হোক অধিনায়কের মনে।’

সিনিয়রদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘মাশরাফি অনেক অভিজ্ঞা। সাকিবও অনেক অভিজ্ঞ। তারা দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারে মাঠে কী হবে। তারা যদি না পারে তাহলে হয়ত বাইরে থেকে জিজ্ঞেস করতে পারে। অনেক সময় আমরা ফিল্ডিং পজিশন নিয়ে কথা বলি। অনেক সময় মাঠে হয়ত ওরা সেটা ভুলে যায়। আমরা সেটা মনে করিয়ে দেই। আবার কখনো আমরা ওই ব্যাটসম্যানের জন্য পরিকল্পনা করেছিলা, হয়তোবা পাঁচ নম্বর ব্যাটসম্যানের জন্য ওই পরিকল্পনা ছিল ওটা মনে করিয়ে দেওয়া। তাদেও বলি, তোমরা যদি এটা চাও তাহলে করতে পারো। আমি মনে করি, এটা তাদের ম্যাচ। ওরা মাঠে গিয়ে খেলে বলেই বাংলাদেশ ভালো করে। তাদের সিদ্ধান্ত তো থাকতেই হবে। তাদের লিডারশিপ ও দায়িত্ব তো থাকতেই হবে।’

এআরবি/আইএইচএস

আপনার মতামত লিখুন :