‘বোলিং নিয়ে আমাদের আরও কাজ করতে হবে’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:২৪ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

তিন জাতি ক্রিকেটের ফাইনালে হারের পর বলা হয়েছে উইকেট অনুকূল ছিল না। ঘরের মাঠে নিজেদের মতো উইকেট পায়নি টাইগাররা, তাই হেরেছি। ঢাকা টেস্টের পরও ঘুরে ফিরে সেই উইকেট নিয়েই কথা। আলোচনা-পর্যালোচনা আর সমালোচনা- স্পিন ফ্রেন্ডলি পিচে লঙ্কানদের সাথে খেলা যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেন টার্নিং উইকেটে টেস্ট খেলা হলো?

এসব কথাবার্তার রেশ না মিটতে চলে এলো টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এবার সেই শেরে বাংলার উইকেটের চরিত্র বদলে মাঠে নামা। ত্রিদেশীয় আসরের ফাইনালের স্লো উইকেট আর টেস্টের সেই স্পিনসহায়ক পিচও নেই। এবার একদম শতভাগ ব্যাটিং উইকেটে হলো প্রথম ম্যাচ।

ঢাকাই ক্রিকেটীয় পরিভাষায় যাকে বলে ‘তক্তা উইকেট।’ গতি ও বাউন্সে কোনো হের-ফের নেই। বল-ব্যাটে আসলো চমৎকার গতি ও সমান বাউন্সে। ব্যাটসম্যানদের হাত খুলে খেলার আদর্শ পরিবেশ। দেশের মাটিতে এমন ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে অনেক দিন পর ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে দ্যুতি ছড়ালেন মুশফিক (৪৪ বলে ৬৬*), সৌম্য (৩২ বলে ৫১) আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৩১ বলে ৪৩)।

প্রথম দু’জন, নিজেদের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান করে ফেললেন। সঙ্গে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে না পারলেও দলকে সামনে এগিয়ে নিতে রাখলেন কার্যকর ভূমিকা। এ তিনজনার চওড়া ব্যাটে দলের স্কোরবোর্ডও হলো তরতাজা। টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে টাইগারদের সর্বোচ্চ দলগত স্কোরও (১৯৩) হলো।

কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। এবারও নেতিবাচক পরিণতি। আবারও হারের বৃত্তে আটকে থাকা। ৬ উইকেটের পরাজয় এসে গ্রাস করলো। খেলা শেষ হলো ২০ বল আগে। মোটা দাগে বলতে গেলে বলতে হবে, উইকেট ফ্যাক্টর নয়। প্রথমে তিনজাতি আসরের ফাইনালে স্লো এবং সময়ের প্রবাহমানতায় আরও স্লথ হয়ে যাওয়া উইকেটে হার।

এরপর অপ্রস্তুত ও স্পিনসহায়ক উইকেটে টেস্টে করুন পরিণতি এবং সবশেষে আজ শতভাগ ব্যাটিং উপযোগী পরিবেশেও সেই পরাজয়ই সঙ্গী। তার মানে উইকেট বা কন্ডিশন নয়, আসল পার্থক্যটা শক্তিতে, সামর্থ্য। এবার শ্রীলঙ্কার সাথে শক্তি, সামর্থ্য আর জায়গামতো পারফরম করায় কিছুতেই পেরে উঠছে না বাংলাদেশ।

তবে কি শ্রীলঙ্কার এই দলের তুলনায় সত্যিই শক্তি ও সামর্থ্যে পিছিয়ে টাইগাররা? আজ খেলা শেষে এ প্রশ্ন উঠলো প্রেস কনফারেন্সে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবশ্য তা মানতে চাইলেন না। তবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করলে পরিষ্কার বোঝা যাবে, আসলে কিছু কিছু জায়গায় সামর্থ্যইে ঘাটতি আছে।

যেমন তার কথা, শেষ দিকে লঙ্কান বোলাররা ব্ল্যাকহোলে বা ইয়র্কার লেন্থে বল ফেলে তাদের হাত খুলে খেলা থেকে বিরত রেখেছে। যে কাজটি বাংলাদেশের বোলাররা বিশেষ করে পেসাররা পারেননি। লঙ্কানদের চেয়ে আসলে তার দল কতটা পিছিয়ে?

এ প্রশ্ন করা হলে মাহমুদউল্লাহর জবাব, ‘যদি ফল চিন্তা করেন, তাহলে তো অবশ্যই কিছুটা হলেও পিছিয়ে আছি।’ এটুকু বলার পর টাইগার অধিনায়ক আরও কিছু কথা বলেছেন, তার সারমর্ম হলো, লঙ্কান বোলাররা শেষ দিকে ইয়র্কার ছুড়ে তাদের ফ্রি শটস খেলা কঠিন করে দিয়েছে। তাই তারা বাধ্য হয়ে স্কুপ-রিভার্স স্কুপ খেলতে গেছেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না এই শট খেলে রিয়াদ নিজে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে আর সাব্বির বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে এসেছেন, ‘আমার মনে হয় ওরা (লঙ্কানরা) শেষের দিকে ইয়র্কারগুলো ভালোভাবে করতে পেরেছে। আমাদের রান গতি বাড়াতে অনেক পথ খুঁজতে হয়েছে। যদি মুশির ব্যাটিং দেখেন, স্কুপ-রিভার্স স্কুপ খেলেছে অনেক বল অফস্ট্যাম্পের বাইরে এসে মেরেছে। আমাদের বোলাররা সেই লেংথে বল করতে পারেনি। এজন্যই আজকে এই ফল। তারপরও মনে হয় ১৯৩ রান অবশ্যই আমাদের ডিফেন্ড করা উচিত ছিল।’

এর বাইরে প্রেস কনফারেন্সে আরও কিছু কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সব কথার মূল কথা হলো- ‘এই উইকেটে লেংথটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট খুব ভালো ছিল। ভালোভাবে ব্যাটে আসছিল। এ উইকেটে ঠিক যে লেন্থে বল করলে সফল হওয়া যায়, আমাদের বোলাররা সেই লেন্থে বল ফেলতে পারেনি।’

সেই না পারাকে একটা বড় দুর্বলতা, ঘাটতি ও চিন্তার জায়গা বলেও অভিহিত করতে ভুল হয়নি তার। তাই তো মুখে এমন কথা, ‘আমরা ভালো বোলিং করছি না, এটাই মূল পার্থক্য। ভালো জায়গায় বোলিং করলে হয়ত জিততে পারতাম। কিছু সময় ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হচ্ছে, কিছু সময় বোলাররা। আমরা একসঙ্গে জ্বলে উঠতে পারছি না। এটাই মূল কারণ। এর বাইরে কোনো কারণ নেই মনে হয়।’

অভিষেকে লঙ্কান ওপেনার গুনাথিলাকাকে আর উপুল থারাঙ্গাকে আউট করা নাজমুল অপুর (৪ ওভারে ২৫ রানে ২ উইকেট) প্রশংসা করে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘অপু খুব ভালো বোলিং করেছে। তবে শুরুর দিকে লেন্থগুলো আমরা ঠিক করতে পারিনি। লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের শটস খেলতে অনেক বেশি জায়গা দিয়েছি। আর সে কারণে তারা খুব সহজে বাউন্ডারি পেয়েছে। এগুলো আমরা ভুল করেছি। যেগুলো উচিত হয়নি।’

তরুণ সাইফউদ্দিন দুই ওভারে ৩৩ রান দিলেও তাকে তিরষ্কার করতে নারাজ বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ব্যাখ্যা, আমরা জিতি দল হিসেবে, হারিও দল হিসেবে। আমার মনে হয় না কারও দিকে আঙুল তোলা ঠিক। নাজমুল অপু ছাড়া পুরো বোলিং ইউনিটই ব্যর্থ হয়েছে। অপু ভালো বোলিং করেছে।’

টাইগার অধিনায়কের শেষ কথা, ‘আমাদের বোলিং নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।’

এআরবি/আইএইচএস/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :