আল-আমিনের সেঞ্চুরি ম্লান করে জিতল মোহামেডান

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আবাহনীর মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতিটা বেশ ভালোভাবেই সেরে নিলো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আজ প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ব্যাটসম্যন আল আমিনের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিকে ম্লান করে দিয়ে ৩ উইকেটের ব্যবধানে জয় তুলে নিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের ৬ষ্ঠ রাউন্ডেই, অর্থ্যাৎ সোমবারই মুখোমুখি হচ্ছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাব আবাহনী এবং মোহামেডান। ঘরোয়া ক্রিকেটে মোহামেডান সাম্প্রতিক সময় অনেকটাই পিছিয়ে। তবে, মোহামেডান-আবাহনী মুখোমুখি হওয়া মানেই শ্বাসরূদ্ধকর এক লড়াই। এক মহারণ। সেই মহারণের আগে মোহামেডানের একটি জয় খুব প্রয়োজন ছিল।

সেই প্রয়োজনীয় জয়টাই প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে তুলে নিল মতিঝিলের সাদা-কালো শিবির। ২৬০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৮.৫ ওভারেই ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মোহামেডান। মিডল অর্ডারে রাকিবুল হাসান খেলেন ৬৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। এছাড়া ওপেনার রনি তালুকদার খেলেন ৬০ রানের ইনিংস।

জয়ের জন্য ২৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জনি তালুকদার এবং রনি তালুকদার ৬০ রানের জুটি গড়ে তোলেন। ব্যক্তিগত ১৫ রানে বিদায় নেন জনি তালুকদার। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দাঁড়াতেই পারেনি অধিনায়ক শামসুর রহমান শুভ। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ইরফান শুকুর ১২ রান করে বিদায় নেন। এরই মধ্যে ৬৬ বলে ৬০ রান করে বিদায় নেন রনি তালুকদার।

৯২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে মোহামেডান যখন ধুঁকছিল, তখনই আমিনুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়েন রাকিবুল হাসান। দু’জনের জুটিতে উঠে আসে ৭০ রান। ২৭ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন আমিনুল ইসলাম। ভারতীয় ব্যাটসম্যান বিপুল শর্মা করেন ৯ রান। দলীয় ২০৫ রানের মাথায় বিদায় নেন রাকিবুল হাসানও। ৫৯ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৬৪ রানের ইনিংষ খেলেন রাকিবুল।

লেট অর্ডারে মোহাম্মদ এনামুল হক আর তাইজুল ইসলাম মিলে ৫৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন। দুই বোলার যখন পুরোপুরি ব্যাটসম্যান, তখন মোহামেডানের জয় ঠেকায় কে? ৩৩ বলে ৩২ রান করে এনামুল এবং ৩৬ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন তাইজুল ইসলাম।

তার আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে প্রাইম ব্যাংক। ১৭ রানে ৫ এবং ৩৬ রানে হারায় ৬ উইকেট। এই অবস্থায় একটি দল কতদুর যেতে পারে? বড়জোর ১০০ থেকে ১২০ রান। কিন্তু মিডল অর্ডারে আল আমিন দাঁড়িয়ে যান লেট অর্ডারে আরিফুল হককে নিয়ে। দু’জন মিলে গড়েন ১৬১ রানের বিশাল এক জুটি।

১২৬ বলে ১১০ রান করে আউট হন আল আমিন। ৯টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কার মার মারেন তিনি। আরিফুল হক খেলেন ৮৭ রানের ইনিংস। ৪টি করে বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন আরিফুল। ১৪ বলে ২৫ রান করেন দেলোয়ার হোসেন। মোহামেডানের হয়ে তাইজুল ইসলাম নেন ৩ উইকেট এবং ২টি করে উইকেট নেন বিপুল শর্মা ও কাজি অনিক।

আইএইচএস/জেআইএম