আম্পায়ারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অগ্রণী ব্যাংকের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮

ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে রেলিগেশন প্লে অফ ম্যাচে পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা আছে, অগ্রণী ব্যাংকের মনে সেই সংশয়- সন্দেহ ছিল আগে থেকেই। দলটির সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাকসহ অগ্রণী ব্যাংক পুরো শিবির থেকেই সাংবাদিকদের কাছে বুধবার ব্রাদার্সের বিপক্ষে রেলিগেশন প্লে অফ ম্যাচ নিয়ে নানা গুঞ্জন, ফিসফাস ছিল আগে থেকেই।

আজ সকাল ১১ টা না বাজতেই সে গুঞ্জন আরও জোরালো হলো। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের পাশে একাডেমি মাঠে আবাহনী আর লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের অনুশীলন কভার করতে যাওয়া সাংবাদিক বহরে ফোন এলো বিকেএসপি থেকে।

অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার সে কি করুণ আর্তি- ‘ভাই দেখে যান কি নির্লজ্জ পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিং! চোখে দেখেও বিশ্বাস করা কঠিন! শাহরিয়ার নাফীসকে লেগবিফোর উইকেট দেয়া হলো, উইকেট থেকে অন্তত তিন চার ইঞ্চি বাইরে পা থাকার পরও। সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে খেলার পরও এলবিডব্লিউ ধীমান ঘোষ! ’

এও জানা গেল, প্রায় দেড়যুগ শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা শাহরিয়ার নাফীস সাজঘরে ফিরে প্রকাশ্যে বলেছেন, এমন বাজে লেগবিফোর উইকেটের সিদ্ধান্ত আগে দেখিনি কখনো! দিন শেষে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেটার, কোচ ও কর্মকর্তাদের সে হতাশা ও আর্তি রূপান্তরিত হলো ক্ষোভে।

অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাকের কান্না বিজরিত কন্ঠ, ‘এর নাম ক্রিকেট ! এই কি শীর্ষ পর্যায়ের আম্পায়ারিংয়ের নমুনা? এত নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব! চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে। আমি হতবাক, হতভম্ব! আম্পায়াররা কিভাবে এমন একপেশে সিদ্ধান্ত দিয়ে একটি দলের সর্বনাশ করতে পারেন? এমন নগ্ন ও পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিং হলে কি করবো আমরা? কার কাছে যাব? কোথায় ন্যায্য বিচার চাইবো?’

এক নিঃশ্বাসে এটুকু বলার পর রাজ্জাক আরও বলে ওঠেন, ‘বিশ্বাস করেন, সকালে আমাদের বিপক্ষে দুটি খুব বাজে এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত দেবার পর মনে করেছিলাম, যাক বাবা, যা হবার হয়েছে। আর বুঝি বাজে ডিসিশন হবে না। কিন্তু হায়। পরের সেশনে আরও নির্লজ্জ খেলা পরিচালনার শিকার আমরা। অন্তত চার থেকে পাঁচটি আউট এড়িয়ে গেলেন আম্পায়ার জন ও হাবিব। আমাদের দুই থেকে তিনটি লেগবিফোর উইকেটের ন্যায্য ও জোরালো আবেদন নাকচ করেই ক্ষান্ত থাকেননি আম্পায়াররা। রিয়্যাল (মাইশুকুর) কট আউট হবার পর ‘নো’ বল ডাকা হলো। কট বিহাইন্ডের আবেদনও নাকচ হলো।’

মোদ্দা কথা, অগ্রণী ব্যাংক শিবিরের দাবি, তারা পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের বলি। তাদের কথা, যে ম্যাচের বিজিত দল রেলিগেটেড হয়ে প্রিমিয়ার থেকে প্রথম বিভাগে নেমে যাবে, সেই গুরুত্বপূর্ণ খেলায় প্রতিষ্ঠিত, অভিজ্ঞ ও নামী আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি না দিয়ে বিতর্কিত আম্পায়ার দিয়ে খেলা চালানো হলো কেন?’

অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, আয়োজক সিসিডিএম কর্তৃপক্ষ একটু সচেতন থাকলে এ বিতর্ক এড়ানো যেত। অগ্রণী ব্যাংক আর ব্রাদার্সের ম্যাচটি শেরে বাংলায় আয়োজন করলে অনেক গুঞ্জন ও বিতর্ক কম হতো। আর যেহেতু রেলিগেশন প্লে অফ, সেখানে একটু প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ আম্পায়ার নিয়োগ করা হলেও বিতর্ক কম হতো। কিন্তু তার বদলে একজন চরম অনভিজ্ঞ আর আরেকজন বিতর্কিত আম্পায়ার দিয়ে খেলা পরিচালনায় এখন বিতর্ক বেড়েছে বহুগুণে। আম্পায়ারিং নিয়ে রাজ্যের অভিযোগও উঠেছে।

এআরবি/এমএমআর/এমএস