সানিয়াকে উগ্রবাদীর প্রশ্ন : আপনার স্বাধীনতা দিবস কবে?

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৮

ভারতীয় টেনিস সেনসেশন সানিয়া মির্জা নিজ দেশের কাউকে নয়, বিয়ে করেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট তারকা শোয়েব মালিককে। এই বিয়ের পর থেকেই অবশ্য হায়দরাবাদী কন্যা সানিয়া নানা সময়ে ভারতীয় উগ্রবাদীদের নানা বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন। কখনও জবাব দিয়েছেন, আবার কখনও অবজ্ঞা করেছেন। মুখ খোলেননি।

৭২তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে পাকিস্তান এবং ভারত। ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের এবং ১৫ আগস্ট হচ্ছে ভারতের স্বাধীনতা দিবস। এবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে টুইটারে উগ্রবাদীদের খোঁচা খেতে হলো সানিয়া মির্জাকে। সানিয়াকে উগ্র ভারতীয়ের প্রশ্ন : তার স্বাধীনতা দিবস কোনটি, ১৪ নাকি ১৫ অাগস্ট। তবে এবার আর সানিয়া চুপ থাকলেন না। এবার আর চুপ না থেকে টেনিসে তার প্রিয় শট ‘ফোরহ্যান্ড’-এ জবাব দিলেন সেই ভারতীয় উগ্রবাদীকে।

টুইটারে সানিয়াকে লক্ষ্য করে প্রথম খোঁচাটা আসে মঙ্গলবার, ১৪ অাগস্ট। যে উগ্রবাদীর কাছ থেকে সেই খোঁচাটা আসে, টুইটার অ্যাকাউন্টে তার নাম রোমিও। পরিচিতি হিসেবে দেওয়া রয়েছে, তিনি একজন ‘প্রাউড ইন্ডিয়ান, প্রাউড হিন্দু’। টুইটে সানিয়াকে লেখেন, ‘হ্যাপি ইন্ডিপেন্ডেন্স মির্জা-সানিয়া, আপকা ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে আহ হ্যা না? (শুভ স্বাধীনতা দিবস!!! আপনার স্বাধীনতা দিবস আজকের দিনেই তো না?)’

টুইট পেয়ে চুপ থাকেননি সানিয়া। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিলেন, ‘মোটেই না...। আমার আর আমার দেশের স্বাধীনতা দিবস আগামীকাল (বুধবার, ১৫ অাগস্ট)। আর আমার স্বামী এবং তার দেশের আজ!!! আশা করি, এবার আপনার সংশয় দূর হয়েছে!!! আপনার স্বাধীনতা দিবস কবে? জানতে চাইছি, কারণ, মনে হচ্ছে সেটা নিয়ে আপনার যথেষ্টই সংশয় রয়েছে...।’

এর কিছু ক্ষণ পরেই পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে টুইট করেন সানিয়া। তাতে লেখেন, ‘আমার পাকিস্তানি ফ্যান ও বন্ধুদের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের ভারতীয় ভাবির পক্ষ থেকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা রইল।’

পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে টুইটারে ‘ট্রোলড’ হয়েছেন সানিয়া। শোয়েব-সানিয়ার প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে চলেছে আগামী অক্টোবরে।

খোঁচা খাওয়ার আগে গতকাল আরও একটি টুইট করেন সানিয়া। তাতে লেখেন, ‘একটু ভেবে দেখুন তো...। ঘৃণা না করাটা কি খুবই কঠিন কাজ? জন্মের পর থেকেই আমরা শিশুদের ভালোবাসতে শেখাই। আমি মনে করি, এটাই স্বতঃপ্রণোদিত। স্বাভাবিক। ঘৃণাটা তা নয়। আমরা কবে সেই সময়টায় পৌঁছাব, যখন ঘৃণাকে পুরোপুরি হারিয়ে দেবে ভালোবাসা?’

আইএইচএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :