প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়কে ইতিবাচক বলছেন মাশরাফি

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে দারুণ সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন দাস। দেখিয়েছেন, ‘নিজের দিনে আমিও অনেক কিছু করতে পারি। আমারও আছে শক্তিশালী, কোয়ালিটি ও ধারালো বোলিং শক্তির বিপক্ষে বীরের মত ভালো খেলার সামর্থ্য। আমিও চটকদার মার আর বাহারি স্ট্রোক প্লেতে চার-ছক্কার ফুলঝুড়িও ছোটানোর ক্ষমতা রাখি।’

আর মুশফিকের কথা নতুন করে কিইবা বলার আছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিপাটি ব্যাটিং শৈলির অধিকারী। বিশ্বের যে কোন বোলিং শক্তির বিপক্ষে যার ব্যাট সমান নির্ভরযোগ্য। বিশ্বস্ত। হাজারো বিপর্যয়, সংকটেও যিনি আস্থার প্রতিমূর্তি। ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলা এক নম্বর বাংলাদেশি ব্যাটিং পারফরমার।

এ দুজনার সাথে বাংলাদেশের বিপদের বন্ধু, আড়ালে থাকা নায়ক- মাহমুদউল্লাহও যে অনেক বড় তারকা; কিন্তু অবাক করা সত্য হলো, ২১ অক্টোবর শেরে বাংলায় এ তিনজনের কেউ ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি। দুই প্রধান তারকা তামিম-সাকিব নেই। লিটন দাস, মুশফিকুর রহীম আর মাহমুদউল্লাহ রান পাননি। রান যা করার করেছেন ইমরুল কায়েস (১৪৪), সাইফউদ্দীন (৫০) ও মোহাম্মদ মিঠুন (৩৭)। মোট রানের (২৭১) ৮০ ভাগের বেশি তুলে দিয়েছেন তারা তিনজন।

কেউ কেউ এটাকে খুব ভাল চোখে দেখছেন না। তাদের কথা, জিম্বাবুয়ের এই দুর্বল দলের বিপক্ষে প্রতিষ্ঠিত ও তারকা ব্যাটসম্যানরা যদি জ্বলে উঠে বড় ইনিংস সাজাতে না পারেন, তাহলে কি করে হবে? ওপরে ইমরুল কায়েস রান করবেন আর তামিম-সাকিবের অনুপস্থিতিতে যাদের ওপর পুরো মিডল অর্ডার ব্যাটিং নির্ভরশীল, সেই দুই ভায়রাভাই মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর অন্তত একজন লম্বা চওড়া ইনিংস খেলে স্কোর বোর্ড ৩০০ পার করে দেবেন- সেটাই তো কাম্য। প্রত্যাশিত; কিন্তু বাস্তবে তারা তিনজন (লিটন ৪, মুশফিক ১৫ আর মাহমুদউল্লাহ ০) মিলে করেছেন মোটে ১৯। যারা আশা ভরসার কেন্দ্রবিন্দু, তাদের পারফরম্যান্সের এমন হতশ্রি অবস্থা। ভাবা যায়!

বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থকরা তিন ব্যাটিং স্তম্ভের এমন অনুজ্জ্বল পারফরমেন্সে হতাশ। তারা টপ ও মিডল অর্ডারের ওই তিন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আরও কার্যকর অবদান প্রত্যাশা করেছিলেন। সবার কথা, ‘হোক আনিপ্রিডিক্টেবল, তারপরও শেরে বাংলায় প্রথম দিন যে পিচে ইমরুল কায়েস চটকদার মার, বাহারি স্ট্রোক প্লের অনুপম প্রর্দশনীতে শতরান করলেন, যার আগের তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৬, সেই সাইফউদ্দিন যে ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান, সিকান্দার রাজা-ব্রেন্ডন মাভুতার স্পিনকে সাধারণ মানে নামিয়ে মিঠুনের ব্যাটে আসে ছক্কা বৃষ্টি- সেই দলের বিপক্ষে টপ অর্ডারে লিটন দাস, মুশফিক আর মিডল অর্ডার মাহমুদউল্লাহর মত অভিজ্ঞ, পরিণত ও প্রতিষ্ঠিত পারফরমারদের ব্যর্থতা বড় ঘটনা বৈকি। টপ ও মিডল অর্ডারের অমন অনুজ্জ্বলতাকে অধিনায়ক মাশরাফি কিভাবে দেখছেন?

টাইগার অধিনায়ক প্রথম ম্যাচে ওপরের ও মাঝের ব্যাটিং ব্যর্থতায় এতটুকু হতাশ নন। বরং তিনি এটাকে ‘শাপে বর’ হিসেবেই ভাবতেই অধিক আগ্রহী। মাশরাফি পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে চান। ওপরের দিকে যাদের জ্বলে ওঠার কথা, সেই লিটন, মুশফিক আর মিডল অর্ডারে মাহমুদল্লাহ পারেননি। অথচ ইমরুল, মিঠুন আর সাইফউদ্দীন বেশ ভাল শটস খেলেছেন। রানও করেছেন।

মাশরাফি এটাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে ইতিবাচক চোখে দেখতে চান। তার কথা, ‘যদি প্রতিষ্ঠিত পারফরমাররা সবাই ভাল খেলতো, লিটন, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ রান করতো, তাদের ব্যাট থেকে ‘বিগ ইনিংস’ বেরিয়ে আসতো- তাহলে তো আর সাইফউদ্দিন ও মিঠুন রান করার সুযোগই পেতো না।’

ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, শেরে বাংলার উইকেট আনপ্রেডিক্টেবল হলেও আগে ব্যাট করতে নেমে ২৫০ থেকে ২৬০ রান করতে পারলে সম্ভাবনা বেশি থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের রান ছিল ২৭১। নিশ্চয়ই তা দেখে সন্তুষ্ট মাশরাফি? সাংবাদিকদের সাথে আলাপে প্রশ্ন উঠলো, আপনি নিশ্চয়ই প্রথম ম্যাচে ২৭০+ স্কোর দেখে সন্তুষ্ট?

উত্তর দিতে গিয়ে অনেক কথার ভিড়ে মাশরাফি বলেন, ‘২৭০ এর চেয়েও বেশি রান আশা করেছিলাম। মিরপুরের উইকেট শুরুতে আনইভেন ছিল; কিন্তু একটা জুটির পর মিঠুন ইমরুল যেভাবে ব্যাটিং করছিল ওখান থেকে স্বচ্ছন্দে ৩০০ কিংবা ৩১০ থেকে ৩১৫ করার অবস্থা ছিল; কিন্তু তা হয়নি। বিষয়টাকে যদি আরেক পাশ থেকে অন্যভাবে দেখেন সেটাও মন্দ না। বরং খুব ভালো হয়েছে। সাইফউদ্দিন রান করেছে। তার ব্যাটে রান আসাটা আমাদের জন্য স্বস্তির।’

অধিনায়ক এমন স্বস্তির কারণ একটাই। অলরাউন্ডারের তকমা গায়ে নিয়ে জাতীয় দলে ঢুকলেও আগের খেলাগুলোয় নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের কোনই স্বাক্ষর রাখতে পারেননি সাইফউদ্দিন। হোক তা দুর্বল, নির্বিষ জিম্বাবুয়ান বোলিংয়ের বিপক্ষে- তারপরও অবশেষে সাইফউদ্দিন রান পেলেন। তিনি যে রান করতে পারেন এটাও হলো জানা।

এতে করে টিম ম্যানেজমেন্ট- নির্বাচকরা তার ওপর আস্থা রাখতে পারলেন। তার নিজের আত্মবিশ্বাসটাও বাড়লো। সব মিলিয়ে ভাল। তাহলে লিটন, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহর রান না পাওয়া এবং মিঠুনের ভালো খেলতে খেলতে আউট হওয়াটা তাহলে সত্যিই ‘শাপে বর।’ তাহলে হাফ সেঞ্চুরি করা বহুদুরে, সাইফউদ্দিন তো ব্যাটিংয়ের সুযোগই পেতেন না।

এআরবি/আইএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :