ভাষাটা সবাই বুঝে বলেই কি এতটা সফল স্পিন কোচ জোসি?

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

এমনিতেই প্রতিবেশি দেশ ভারত। তার উপর আকাশ সংস্কৃতির কল্যাণে বাংলাদেশের মানুষদের কাছে হিন্দি ভাষাটা বেশ পরিচিত। খেলোয়াড়রাও এর ব্যতিক্রম নন। তারা ভালো হিন্দি বোঝেন, কেউ কেউ বলতেও পারেন।

বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ সুনীল জোসির দেশও ভারত। ভাষা হিন্দি। এটাই যেন বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে টাইগার শিবিরে। জোসি মনে করছেন, ভাষার প্রতিবন্ধকতা কম থাকাতেই বাংলাদেশ দলে কাজ করা তার জন্য বেশ সহজ হয়েছে। শিষ্যদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ একটা সম্পর্কও গড়ে উঠেছে তার।

টাইগার দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে ভারতীয় এই কোচ বলেন, 'আমার মনে হয় খেলোয়াড়রা খুবই বন্ধুভাবাপন্ন এবং আমি তাদের খুব পছন্দ করি। আমাদের ভাষাগত বাধা হিসেবে হিন্দি রয়েছে বলেই পরস্পরের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক। আমরা হিন্দিতে বেশ সাবলীল। তারাও সাবলীল, আমিও। খেলোয়াড়রা যদি খুশি থাকে, আমিও থাকি।'

এখন তিনি কোচ। কিন্তু একটা সময় ভারতীয় দলেও খেলেছেন জোসি। দেশের হয়ে ১৫টি টেস্ট আর ৬৯টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাবেক এই স্পিনারের।

জোসি জানালেন, যেহেতু নিজে স্পিনার ছিলেন। তাইজুল-মিরাজ-সাকিবদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করাও সহজ হয় তার জন্য। টাইগার কোচের ভাষায়, 'আমি এখন কোচের ক্যাপ পড়েছি, কিন্তু আমিও কিন্তু খেলোয়াড়। তাই আমি সবসময় খেলোয়াড় হিসেবেই চিন্তা করি যে একজন স্পিনারের মনোভাব ঠিক করার জন্য কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখাতে কি প্রয়োজন।'

তাইজুল ইসলাম এখন টেস্ট ফরমেটে নিজের মনোযোগ আটকে রেখেছেন। এই ফরমেটে খুব ভালোও করছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ তো অভিষেকের পর থেকেই দলে অপরিহার্য। এর মধ্যে নাঈম হাসানের মতো তরুণরা উঠে আসছেন। জোসি বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের উজ্জ্বল ভবিষ্যতই দেখছেন।

বিশেষ করে সাকিব আল হাসানের আলাদা প্রশংসা করেছেন এই স্পিন বোলিং কোচ। সাকিবকে নিয়ে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় সাকিব শুধু আমাদের জাতীয় মর্যাদা ও মেধাই নয়, আপনি তাকে বলতে পারেন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে সেরা ক্রিকেটার। তার অবস্থান নিয়ে আমি কিছু বলছি না। আপনি যদি তার গুণাগুণের দিকে লক্ষ্য করেন; আমি তার গুণের দিকে তাকিয়েই বলছি-বোলার, ফিল্ডার ও ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি দুর্দান্ত প্রতিভাধর, দক্ষতাসম্পন্ন এতজন খেলোয়াড়। এমনকি আমি বলব তার দক্ষতা দেখাতে মাত্র কয়েক সেশনই যথেষ্ট। সময়মতোই তা দেখা যায়, সঠিক জায়গায়ই সে জ্বলে উঠে। তার কৌশলী অভিজ্ঞতা দলকে অনেক লাভবান করে তোলে।’

এমএমআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :