সাফল্যের নতুন ইতিহাসের প্রথম অংশ রচিত হবে সিলেটেই?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা সিলেট থেকে
প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

বিজয়ের মাসে একটি অধরা ও বিরাট সাফল্যর হাতছানি টাইগারদের সামনে। ভাবছেন সেটা আবার কি? ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত বিশ্ব শক্তিকে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজে হারানোই তো অনেক বড়! এরপর আবার বড় ও অধরা সাফল্য বাকি থাকে নাকি?

হ্যাঁ থাকে। আছেও। ইতিহাস- পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠিত দলকে তিন ফরম্যাটের সিরিজে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। অর্থাৎ দেশে কিংবা বিদেশে কোন বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ বিজয়ের রেকর্ড নেই টাইগারদের।

অতীতে কয়েকবার এ সুযোগ এসেছিল; কিন্তু তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ২০০৯ সালে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ফরম্যাটে সিরিজ বিজয়ের একদম সুবর্ণ সুযোগ ছিল। তাও দেশে নয় ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে।

সেবার সাকিব আল হাসানের অসাধারণ নৈপুণ্যে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ; কিন্তু একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আর জেতা হয়নি। তাতে ২০০৯ সালের ২ আগষ্ট ৫ উইকেটে হেরে যায় সাকিবের বাংলাদেশ।

তার আগে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ তে (কিংসটাউনে ৯৫ রান ও সেন্ট জর্জে ৪ উইকেট), আর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে (৫২ রান, ৩ উইকেট ও ৩ উইকেট) জিতেছিল সাকিবের দল। এবার সেই পুরনো হিসেব চোকানোর সুযোগ সামনে। এবারও অধিনায়ক সেই সাকিব। সেই অধরা কৃতিত্ব অর্জনের পথে অনেকদুর এগিয়েও গেছে বাংলাদেশ।

ক্যারিবীয়দের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তুলোধুনো (২-০) করার পর ওয়ানডে সিরিজেও (২-১) হারিয়েছে টাইগাররা। এখন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে পারলেই ব্যাস- প্রথম তিন ফরম্যাটের সিরিজ বিজয়ের ঘটনা ঘটবে বাংলাদেশের ইতিহাসে।

আর সেটা যদি হয়, সে জন্য দরকার অন্তত দুই ম্যাচ জয়। ১৭, ২০ ও ২২ ডিসেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সাকিব বাহিনীর। সোমবার প্রথম টি-টোয়েন্টি জিততে পারলে নতুন ইতিহাসের প্রথম অংশ সুচিত হবে সিলেট থেকে। পূণ্যভুমি সিলেটে সাফল্যের সে নতুন কাহিনীর চিত্রনাট্য লিখা হবে কি?

সে প্রশ্ন সামনে রেখেই কাল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুই দফা সময় বদলে সোমবার বেলা সাড়ে বারোটায় শুরু হবে সেই ইতিহাস রচনার প্রথম ম্যাচ। সাকিবের দল কি এবার সে নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারবে? সিলেটে কালই রচিত হবে সে সাফল্যের নতুন ও সোনালী ইতিহাসের প্রথম অংশ?

কোচ স্টিভ রোডসের কথা শুনে আশাবাদী হওয়াই যায়। তার কথায় পরিষ্কার আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ আছে। শুনে মনে হলো টাইগাররা এবার তিন ফরম্যাটে সিরিজ জিতে ইতিহাস রচনায় উন্মুখ।

আজ (রোববার) দুপুরে প্রেস কনফারেন্সে কথা বলতে এসে বাংলাদেশ কোচের আশাবাদী সংলাপ, ‘আমরা জানি ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এই ফরম্যাটে ভাল দল। কঠিন প্রতিপক্ষ। তারপরও আমরা ভাল খেলে সিরিজ জিততে মুখিয়ে আছি। জানি ক্রিকেটের এই ফরম্যাটে উইন্ডিজকে হারানো সহজ নয়। তারপরও আমরা সামর্থ্যের সেরাটা উপহার দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করবো।’

ওদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্যাপ্টেন ব্র্যাথওয়েটও যথেষ্ঠ আশাবাদী। তার কন্ঠেও আত্মবিশ্বাসী সুর, ‘আমরা টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিই আমাদের প্রিয় ফরম্যাট।’

পাশাপাশি ক্যারিবীয় অধিনায়কের কণ্ঠে ভাল করার একটা অন্যরকম তাগিদও আছে। তাইতো মুখে এমন কথা, ‘দেশে সবাই বড় দিনের উপহার আশা করে। এ সিরিজ বিজয় হতে পারে ক্রিসমাসের সেরা গিফট।’

ব্র্যাথওয়েটের ওই দুই মন্তব্যই বলে দিচ্ছে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজ হারানো ক্যারিবীয়রা টি-টোয়েন্টি জিততে মরিয়া। তারাও সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করবে।

শুধু দুই শিবিরের কথোপকোথনেই যে জয়ের তাড়া, তাগিদ ও দৃঢ় সংকল্প- এমন নয়। প্র্যাকটিসেও দেখা গেল বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই দলই শতভাগ সিরিয়াস।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা অবধি সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টাইগারদের প্র্যাকটিসের শুরুতে অধিনায়ক সাকিব নেটে ব্যাটিংয়ের সময় পেসার সাইফউদ্দীনের বলে পায়ের আঙ্গুলে ব্যাথা পেয়ে মাঠ ত্যাগ করলেও টাইগারদের প্র্যাকটিসে এতটুকু ছন্দপতন ঘটেনি। সবাই যার যার মত ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন নেটে। তামিম, সৌম্য, মুশফিক, মিঠুন, সাইফউদ্দিন এমনকি পেসার আবু হায়দার রনিও নিজেদের ব্যাটিংটা ঝালিয়ে নিয়েছেন।

একটা জায়গায় দু’দলেরই ছিল দারুণ মিল। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সবাই নেট ব্যাটিংয়ের শেষ অংশে ইচ্ছেমত বিগ হিট প্র্যাকটিস করেছেন। তামিম, মুশফিক আর সৌম্য তাদের নেট ব্যাটিংয়ের শেষ অংশের প্রায় বলকেই লং অফ-লং অন আর মিড উইকেটের ওপর দিয়ে তুলে মারার চেষ্টা করেছেন।

এর মধ্যে বাঁ-হাতি সৌম্য উইকেটের সামনে বার কয়েক ‘ইয়া বড়’ ছক্কা হাঁকিয়েছেন। যে গুলো তার ব্যাটে লেগে বাতাসে ভেসে ৯০ থেকে ৯৫ গজ দুরে গিয়ে আছড়ে পড়েছে। এর বাইরে তামিমও নেটে ব্যাটিং প্র্যাকটিস শেষে ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের ছুঁড়ে দেয়া বলে অনেকটা সময় নক করলেন।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভয়ঙ্কর ওপেনার এভিন লুইস আর বিগ হিটার ব্র্যাথওয়েটও মাঠের নেটে ব্যাটিং শেষে মাঠে মাঝখান থেকে উইকেটের সামনে ছক্কা হাঁকানোর কসরত করলেন বেশ খানিক্ষণ। দু’দলের ব্যাটিং প্র্যাকটিসের অ্যাপ্রোচের পরতে পরতে ছিল ‘বিগ হিটিং।’

দেখা যাক কাল ম্যাচে জায়গামত কোন দলের ব্যাটসম্যানরা ‘বিগ হিটে’ বেশি পারদর্শিতা দেখান?

এআরবি/আএইচএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :