‘ভবিষ্যতের তারকা’ আফিফ-জাকিরদের নিয়ে হতাশ প্রধান নির্বাচক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন পঞ্চপাণ্ডবের রাজত্ব। মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাঁধে ভর করে ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে টাইগাররা। কিন্তু তাদেরও তো একদিন শেষ হবে। তখন কি হবে দলের?

মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার, লিটন দাসের মতো তরুণরা উজ্জ্বল আগামীর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকেই হয়তো উঠে আসবে পরের 'পঞ্চপাণ্ডব'। কিন্তু এখন মিরাজ, লিটনরা দলে জুনিয়র হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটা করবে কারা? আরেকটি প্রজন্ম তো উঠে আসতেই হবে।

এই জায়গাটা নিয়ে হতাশা বাংলাদেশের। আফিফ হোসেন ধ্রুব, জাকির হাসান, মেহেদী হাসানের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলা ক্রিকেটাররা যে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারছেন না! গত ফেব্রুয়ারিতে সিনিয়রদের বিশ্রামে একসঙ্গে কয়েকজনের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল। কেউই দলে থাকার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি।

একটি দুটি ম্যাচ দিয়েই অবশ্য কারও যোগ্যতা যাচাই করা যায় না। আফিফ, জাকির, মেহেদীরা অবশ্যই নির্বাচকদের নজরে আছেন। কিন্তু তাদের তো ঘরোয়া লিগে পারফর্ম করতে হবে! উন্নতিটা দেখাতে হবে, তবেই না সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য চাপ দিতে পারবেন। সেটা কি হচ্ছে?

আফিফ বাঁহাতি ওপেনার, সঙ্গে ভালো অফস্পিন বোলিং করতে পারেন। বিপিএলে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ক্রিস গেইলের উইকেটসহ ৫ উইকেট নিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। এরপর নির্বাচকদের নজরে আসেন এই অলরাউন্ডার।

জাকির হাসান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, উইকেটরক্ষক হিসেবে দারুণ। ফিল্ডিংয়ের জন্য তার আলাদা সুনাম আছে। আর মেহেদী হাসান অফস্পিনার। তিনিও আফিফ-জাকিরের সঙ্গে বিপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স করে সাড়া ফেলেছিলেন।

নিঃসন্দেহে তাদের জাতীয় দলের ভবিষ্যত ভাবা হচ্ছে। কিন্তু যতটা আশা ছিল, ততটা তারা পূরণ করতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে হতাশাই প্রকাশ করলেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

নান্নু বলেন, ‘আফিফ আর জাকিরকে নিয়ে আমাদের অনেক বড় আশা ছিল। কিন্তু সত্যি করে বললে তারা ভীষণ হতাশ করেছে। তারা নিজেদের স্কিল ডেভলপমেন্টের সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি। গেম প্ল্যানিংয়েও নিজেদের মাথা কাজে লাগাতে পারেনি। আফিফ আর জাকির ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা ইমার্জিং এশিয়া কাপেও ভালো করেনি।’

টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন আফিফ। কিন্তু বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা এবং আয়ারল্যান্ড সফরে ছয় ইনিংসে করেন মাত্র ৬৪ রান। চলতি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের গড় মাত্র ১৬.৯০। ইমার্জিং কাপের দুই ম্যাচে সাকুল্যে করেন ২০ রান।

বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়ে জাকিরের পারফরম্যান্সও আশানুরূপ নয়। ১৩ ইনিংসে রান করেছেন ২৮.৯২ গড়ে। চলতি মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাত ম্যাচে মাত্র ৩টি হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন জাকির। ইমার্জিং কাপে অবশ্য দুই ম্যাচে একটি ৬৯ রানের ইনিংস আছে।

তাদের তুলনায় ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ ভালো করেছেন মেহেদী হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ব্যাট হাতে ৮০.৫০ গড়ে রান করেছেন তিনি। বল হাতে ২৬.৭৫ গড়ে নিয়েছেন ১৬ উইকেট।

মেহেদীকে তাই আশার বাণীই শোনালেন নান্নু। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘সে আমাদের ভাবনার বাইরে চলে যায়নি। মেহেদী হাসান মিরাজ তিন ফরমেটেই খেলছে। নাঈম হাসানও টেস্ট ক্যারিয়ারে শুরুটা করেছে দারুণ। আমরা তাকে (নাঈম) মিরাজের ব্যাপআপ ভাবছি। কিন্তু মেহেদীও অফস্পিনার হিসেবে আমাদের রাডারে আছে।’

এমএমআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :