‘কৃতিত্ব মাশরাফি ভাইকেই দিতে হবে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৩ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

আগেরদিনই রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছিলেন, ‘কুমিল্লার ব্যাটিং নিয়ে আগে ভাবিনি। কিন্তু যখন দেখলাম একজনকে আউট করলে আরেকজন নামছে, তখন বুঝলাম, তাদের ব্যাটিংলাইন কত লম্বা!’

এবারের বিপিএলে সবচেয়ে লম্বা এবং গভীর ব্যাটিং লাইনআপ তাহলে কাদের? মাশরাফির উপরোক্ত মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। অথচ সেই কুমিল্লাই কি না মঙ্গলবার রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হয়ে অলআউট হয়ে গেলো মাত্র ৬৩ রানে, ১৬.২ ওভারেই।

জবাব দিতে নেমে মাত্র ১ উইকেট হারাতে হয়েছিল রংপুর রাইডার্সকে। ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে কুমিল্লাকে হারিয়ে শক্তিশালী রান রেট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে মাশরাফির রংপুর। এমন অসাধারণ সাফল্যের মূলে ছিল অধিনায়ক মাশরাফির বিধ্বংসী বোলিং। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তিনি নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। একটি মেডেনও।

মাশরাফির এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনেই বলতে গেলে তাসের মত উড়ে গেছে কুমিল্লার শক্তিশালী এবং গভীর ব্যাটিং লাইনআপ। টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন মাশরাফি।

মাশরাফির একার কাছে হেরে যাওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয় কুমিল্লার পেসার আবু হায়দার রনির কাছে। যিনি নিজেও রংপুরের একমাত্র উইকেটটি (ক্রিস গেইল) নিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি পুরো কৃতিত্বটাই দিলেন রংপুরের অধিনায়ক এবং ম্যাচের সেরা পারফরমার মাশরাফিকে। জানিয়ে দিলেন, এর সব কৃতিত্ব দিতে হবে মাশরাফি ভাইকেই।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই মাশরাফি ভাইকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তিনি অনেক ভালো বোলিং করেছেন। চমৎকার বোলিং করেছেন। আর আমি বলবো আমাদের একটি খারাপ দিন গেছে। তাই হয়তো আমরা জিততে পারিনি। আর যদি হেরে গেছি কেন, তা বলেন, আমি বলবো, আমরা যদি এভাবে চিন্তা করি তাহলে হবে না। প্রফেশনাল ক্রিকেটে এভাবে চিন্তা করলে হবে না। সব ম্যাচেই আমাদের ভালো খেলতে হবে। এর মধ্যে খারাপ দিন ভালো দিন আছে। আজকে খারাপ গেছে, হয়ত পরের ম্যাচ জিতে আমরা ঘুরে দাঁড়াবো।’

উইকেটের কি কোনো সমস্যা ছিল? কেন এভাবে সব ব্যাটসম্যান বাজেভাবে আউট হয়েছে? জানতে চাইলে আবু হায়দার রনি উইকেটের কোনো দোষ দিলেন না। তিনি বললেন, ‘উইকেটের দোষ দিয়ে আসলে লাভ নেই। আমরা ব্যাটসম্যানরা হতো বাজেভাবে আউট হয়েছি। আমি আগেই বলেছি মাশরাফি ভাই ভালো বোলিং করেছেন। আমরা ব্যাটসম্যানরা যদি আরেকটু দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারতাম তাহলে ১২০ থেকে ১৩০ হলেও এখানে চ্যালেঞ্জিং হতো। ওদের ৬৪ তাড়া করতে গিয়ে ১০ ওভারের মতো লেগেছে। আমরা যদি ১২০-১৩০ করতে পারতাম তাহলে খুব চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ হতো।’

নিজে তো বোলার। তাহলে উইকেটটা কি সত্যিই বোলারদের উপযোগি ছিল। বোলারের দৃষ্টিকোন থেকে উইকেট নিয়ে কি বলবেন রনি? জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে কাজটা চ্যালেঞ্জিং। কারণ আমাদের একাউন্টে ছিল কেবল ৬৪ রান। এই পরিস্থিতে দোটানায় থাকতে হয় দলগুলোকে। আমরা ডিফেন্সিভ যাবো নাকি অ্যাটাকিং যাবো। আমরা অবশ্যই অ্যাটাকিংয়ে গিয়েছিলাম। আমাদেরকে ক্যাপ্টেন বলেছিলেন, আমাদের তো রান কম, অ্যাটাক করব। আমরা যদি দ্রুত উইকেট ফেলতে পারি তাহলে কাজটা সহজ হবে।’

লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ সত্ত্বেও কেন এমন বাজে অবস্থা? জানতে চাইলে আবু হায়দার রনি বলেন, ‘আমাদের এ রকম কোনো পরিকল্পনা নেই। ব্যাটিং লাইনআপ বড় দেখে একজন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে অন্যজনের দিকে তাকিয়ে থাকবে। যার দায়িত্ব যা, তারা সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছে। দিনটা আমাদের খারাপ গেছে। দলের ব্যাটসম্যানরা সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। আশা করছি পরের ম্যাচে আমরা ফিরে আসবো। দলের পক্ষ থেকে সেভাবে কিছু বলা হয়নি। বলা হয়েছে সবার স্বাভাবিক খেলাটা খেলার জন্য।’

স্টিভেন স্মিথের অধিনায়কত্ব কেমন লাগছে? আবু হায়দার রনির কাছে স্মিথের অধিনায়কত্ব নিয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা একটি ইতিবাচক দিক। আমি ওর অধিনায়কত্বে একটা জিনিস দেখলাম যে, আমরা ৬৩ রান করেছি কিন্তু সে কখনোই ডিফেন্সিভ ছিল না। সবসময় অ্যাটাকিং ছিল। সবসময় একটা কথাই বলেছে, নতুন বলে আমি যদি সুইং করিয়ে আউট করতে পারি তাহলে তা দলের জন্যই ভালো। এটাই আমাকে বারবার বলছিল।’

আইএইচএস/জেআইএম