এবারের প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি দাম মাশরাফির

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৫০ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিপিএলের রেশ নিয়ে শুরু হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও শেষের পথে। তিন ম্যাচের আর একটি শুধু বাকি। ২০ ফেব্রুয়ারি ডানেডিনে ব্ল্যাকক্যাপসদের সাথে শেষ ম্যাচ টাইগারদের। এরই মধ্যে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্লেয়ার্স ড্রাফট ঢাকা তথা দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৫০ ওভারের আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ।

আগেই জানা দেশের ক্রিকেটের পাঁচ শীর্ষ তারকা মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবা, মুশফিকুর রহীম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তথা ‘পঞ্চ পান্ডবে’র এবারের ঢাকা লিগ খেলার সম্ভাবনা কম। এর মধ্যে তামিম ও মুশফিক আগে ভাগেই বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা এবারের প্রিমিয়ার লিগ খেলবেন না।

বিসিবির যে স্ট্যান্ডিং কমিটি জাতীয় দল পরিচর্যা-পরিচালনা ও তত্বাবধানের দায়িত্বে সেই ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ক'দিন আগেই জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তামিম ও মুশফিক বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে এবারের প্রিমিয়ার লিগ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিসিবিও তাদের সে আবেদন গ্রহণ করেছে।

এর পাশাপাশি আকরাম খান জাগো নিউজকে আরও জানিয়েছিলেন যে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যারা ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ খেলবেন, সেই ৭/৮ ক্রিকেটারকেও বিশ্রাম দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

এই যখন পরিস্থিতি, তখন বাকিদের কার কি অবস্থা? বিশ্বকাপের মাত্র দুই মাস আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঠাসা প্রিমিয়ার লিগের এবারের (২০১৯) আসর আসলে খেলবেন কোন সব তারকারা? খুব জানতে ইচ্ছে করছে, তাই না?

তাহলে শুনুন, এখনো পর্যন্ত পঞ্চপান্ডবের শীর্ষ ‘পান্ডব’ মাশরাফি ছাড়া সে অর্থে শীর্ষ তারকাদের বেশীর ভাগের না খেলার সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে। মাশরাফি বিপিএল ফাইনালের দিন রাতেই জানিয়ে রেখেছেন, তিনি প্রিমিয়ার লিগ খেলবেন। তবে পুরো লিগ নয়। হয় প্রথম পর্বের শেষ দিকে না হয় সুপার লিগের শুরু থেকে খেলার ইচ্ছে আছে।

শেষ কথা, জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির সে ইচ্ছেই হয়ত বাস্তব রুপ পেতে যাচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন ও গত লিগের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী মাশরাফিকে প্লেয়ার্স রিটেইন তালিকায় এক নম্বরে রেখেছে তার ক্লাব আবাহনী। বলার অপেক্ষা রাখে না, এবারের দলবদলে হবে প্লেয়ার্স ড্রাফটে। সেখানে প্রতি দল আগের বছর খেলা তিনজনকে এবারো দলে ধরে রাখতে পারবে।

এরই মধ্যে ১০টি প্রতিযোগী দলই এবারের লিগের জন্য তিনজন করে খেলোয়াড় তালিকা বোর্ডে জমা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বোর্ড তাদের এবারের পারিশ্রমিক ও ঠিক করে ফেলেছে। মাশরাফি অতি অবশ্যই রয়েছেন 'এ+' ক্যাটাগরিতে। ঐ ক্যাটাগরিতে তার পারিশ্রমিক হলো অন্য সবার চেয়ে বেশি ৩৫ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, এর অর্ধেক মানে ১৮ লাখ টাকা প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগে অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাকে দিয়ে দিতে হবে।

এদিকে মাশরাফির সাথে আবাহনী দুই তরুণ মেধাবি ক্রিকেটারকে ধরে রেখেছে। যারা কেউ বর্তমান জাতীয় দলে না থাকলেও এই সেদিনও জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। তারা হলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আর নাজমুল হোসেন শান্ত।

এবার আইকন নেই

আগের বার থাকলেও এবারে লিগে কোন আইকন থাকছে না। গতবারের আইকনদের মধ্যে এবার একমাত্র মাশরাফিকেই রিটেইন করেছে আবাহনী। তারকাদের মধ্যে আর কে কোন দলে? কাকে কারা রিটেইন লিস্টে রেখেছে? এবারের দল বদলে কতগুলো ক্যাটাগরি থাকবে? কোন ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক কত?

এসব নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ আজ শেরে বাংলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তৌহিদ জানান, ‘জাতীয় দলের কিছু কিছু প্লেয়ার প্রিমিয়ার ডিভিশনের জন্য অ্যাভেইলেবল না। মুশফিক, তামিম ও সাকিব অবধারিতভাবে লিগ খেলবেন না।’

তবে তার কথা শুনে মনে হয়েছে মাশরাফি ছাড়া পঞ্চপান্ডবের অপর সদস্য মাহমুদউল্লাহ হয়তো পুরো সিরিজ খেলে এসে হয়তো কিছুদিন রেস্ট করে তারপর ফ্রি থাকবে।

তৌহিদ আরও জানান, ইতিমধ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে কারা কারা লিগ খেলবেন, কারা কারা কখন ও কোন পর্ব থেকে খেলতে প্রস্তুত থাকবেন।

তৌহিদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী যারা ওয়ানডে স্কোয়াডে আছেন, তাঁরা হয়তো ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে থাকছেন। যদি মার্চের প্রথম সপ্তাহে লীগ শুরু হয়, 'তাহলে ধরে নেয়া যায় তাঁরা পুরো ডিপিএলের জন্য অ্যাভেইলেবল থাকবেন। যারা টেস্ট স্কোয়াডে থাকছেন, তাঁরা ২২ মার্চের পর অ্যাভেইলেবল। কিছু কিছু প্লেয়ার আছে যাদেরকে রেস্টের জন্য সাজেস্ট করা হয়েছে। তাঁরা আরও পরে ১২-১৫ দিন বিরতি দিয়ে ডিপিএলে জয়েন করবে।'

দেখে নিন ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের ধরে রাখা ক্রিকেটারদের মূল্য তালিকাঃ

আবাহনী লিমিটেড: মাশরাফি বিন মর্তুজা (৩৫ লাখ টাকা), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (২০ লাখ টাকা), নাজমুল হোসেন শান্ত (২২ লাখ টাকা)

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব: জিয়াউর রহমান (২০ লাখ টাকা), নুরুল হাসান সোহান (২০ লাখ টাকা), তানবীর হায়দার (১৮ লাখ টাকা)

লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জ: নাঈম ইসলাম (২১ লাখ টাকা), আসিফ হাসান (১২ লাখ টাকা), নাঈম শেখ (১২ লাখ টাকা)

প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব: ফরহাদ রেজা (২২ লাখ টাকা), মার্শাল আইয়্যুব (২২ লাখ টাকা), আরাফাত সানি (১৯ লাখ টাকা)

খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি: রবিউল ইসলাম রবি (১২ লাখ টাকা), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৫ লাখ টাকা), তানভীর ইসলাম (৫ লাখ টাকা)

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স: ইমরুল কায়েস (২৫ লাখ টাকা), আবু হায়দার রনি (১৮ লাখ টাকা), মেহেদি হাসান (১৭ লাখ টাকা)

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: রকিবুল হাসান (১৫ লাখ টাকা), কাজী অনিক (৮ লাখ টাকা), ইরফান শুক্কুর (১৩ লাখ টাকা)

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: আরিফুল হক (২০ লাখ টাকা), জাকির হাসান (১৪ লাখ টাকা), আল-আমিন জুনিয়র (২২ লাখ টাকা)

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: শুভাগত হোম (২০ লাখ টাকা), আফিফ হোসেন ধ্রুব (১৩ লাখ টাকা), তৌহিদ হৃদয় (৮ লাখ টাকা)

ব্রাদার্স ইউনিয়ন: জুনায়েদ সিদ্দিকী (১৮ লাখ টাকা), মিজানুর রহমান (১৫ লাখ টাকা), ইয়াসির আলি (১৫ লাখ টাকা)

এছাড়া প্রথম বিভাগ ক্রিকেট থেকে উঠে আসা দুই ক্লাব বিকেএসপি এবং উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাব তাদের ধরে রাখা খেলোয়াড়দের নাম দেয়নি। তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি ড্রাফটের সময় তারা নিজেদের পছন্দমতো তিনজন করে খেলোয়াড় লটারির মাধ্যমে নিতে পারবে।

এআরবি/এসএএস/এমকেএইচ