শেষ ম্যাচে জ্বলে উঠবে তামিম মুশফিক মাহমুদউল্লাহর ব্যাট?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

একবার নয়, ঘরের মাঠে দুইবার নিউজিল্যান্ডকে ওয়ানডেতে তুলোধুনো ও নাকাল করে ছেড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রথমবার ২০১০ সালের অক্টোবরে (৫-১৭ অক্টোবর)। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ৪-০'তে বিজয়ী হয় টাইগাররা। পরের বার ২০১৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে তিন ম্যাচের সিরিজে কিউইদের ৩-০'তে বাংলাওয়াশ করেছে মাশরাফির দল।

এটাই শেষ নয়, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো বিশ্ব আসরেও ব্ল্যাকক্যাপসদের হারানোর কৃতিত্ব আছে টাইগারদের। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, দুই বছরও পুরো হয়নি। ২০১৭ সালের ৯ জুন কার্ডিফে সাকিব আল হাসান (১১৫ বলে ১১৪) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের (১০৭ বলে ১০২) জোড়া শতকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে এসে ৫ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয়ের রেকর্ড আছে মাশরাফি বাহিনীর।

সাকিব ও রিয়াদ দু'জনার সেঞ্চুরিসহ পঞ্চম উইকেটে রেকর্ড ২২৪ রানের পার্টনারশিপে জয় ধরা দিলেও ম্যাচ সেরা হন সাকিব আল হাসান।

সেটাই প্রথম নয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশ যখন ঘরের মাঠে প্রথমবার কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করে, তখনো চার ম্যাচের দুটিতে (প্রথম খেলায় ৫১ বলে ৫৮ আর ৪/৪১ অলরাউন্ডিং পারফর্ম করে ম্যাচ সেরা, চতুর্থ ম্যাচে ১১৩ বলে ১০৬ ও ৩/৫৪ সাকিব ম্যাচ সেরা) ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ সাকিবই সবাইকে পিছনে ফেলে হয়েছিলেন সিরিজ সেরা। তবে ২০১৩ সালে দেশের মাটিতে ব্ল্যাকক্যাপসদের বিপক্ষে সিরিজে সাকিব খেলেননি।

ওপরে গাওয়া হলো বাংলাদেশের সাফল্যের ফিরিস্তি। কিন্তু ইতিহাস জানাচ্ছে, কিউইদের কখনো তাদের মাটিতে হারানো সম্ভব হয়নি। ঘুরিয়ে বললে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গিয়ে কখনই ব্ল্যাকক্যাপসদের সাথে ওয়ানডে জিতেনি টাইগাররা।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনে প্রায় সমান তালে লড়েও শেষ হাসি হাসা সম্ভব হয়নি। ২৮৮ রানের বড় পুঁজি নিয়েও শেষ অবধি সাকিব আল হাসানের দল হার মেনেছিল ৩ উইকেট। টান উত্তেজনা ও স্নায়ুক্ষয়ী সে লড়াই শেষে ৭ বল আগে জয়ের বন্দরে পৌঁছেছিল কিউইরা।

এবার অগোছালো অবস্থায় খেলতে গিয়ে প্রথম দুই ম্যাচে এতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে না পেরে ৮ উইকেটে হেরে এরই মধ্যে সিরিজ হয়েছে হাতছাড়া। সিরিজ কিউইদের হাতে। এরকম অবস্থায় শেষ ম্যাচ কি করবে মাশরাফির দল?

হারলে ২০১৬-২০১৭'র মত আবার তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফেরা। আর জিততে পারলে ব্যর্থতার ক্ষতে একটা স্বস্তির পরশ। তা কি হবে?

নেপিয়ার ও ক্রাইস্টচার্চে ব্যাট-বল হাতে কিছুই করতে না পারা টাইগাররা সেই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে স্বস্তির জয়ের দেখা পাবে? সে প্রশ্ন সামনে রেখেই আজ ভোরে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৪টায় শুরু হবে চলতি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।

আগের দুই ম্যাচ প্রথম ব্যাট করতে নেমে তিন কিউই ফাস্ট বোলার ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি আর লকি ফার্গুসনের দ্রুত গতি ও বাড়তি বাউন্সের সামনে দাঁড়াতে পারেনি।

টপ অর্ডার মুখ থুবড়ে পড়েছে। তামিম (দুই খেলায় ৫+৫ = ১০), লিটন (১+১=২), সৌম্য (৩০+২২ = ৫২), মুশফিক (৫+২৪ = ২৯) আর মাহমুদউল্লাহ (১৩+৭ = ২০) ব্যর্থতার মিছিল করেছেন। না পারার মিছিলে ‘মোহনলালের’ মত একাই লড়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন।

Musfiq

প্রথম চার জনের কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারলেও পাঁচ নম্বরে নেমে দুই খেলায় পরপর হাফ সেঞ্চুরি (৬২+৫৭) হাকিয়ে একাই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন মিঠুন।

প্রথম দিন সাইফউদ্দীন (৪১) আর দ্বিতীয় ম্যাচে সাব্বির (৪৩) নীচের দিকে মিঠুনের পাশে দাঁড়ান শুধু। ব্যাটসম্যানদের অনুজ্জ্বলতা আর ব্যর্থতায় স্কোরলাইনও যায় ছোট হয়ে। ২৩২ আর ২২৬ রানের স্কোর থাকে সঙ্গী।

উপমহাদেশের বিশেষ করে বাংলাদেশের শেরে বাংলায় ঐ রানকে হয়ত লড়িয়ে পুঁজি বলেই ভাবা হয় কিন্তু নেপিয়ার আর ক্রাইস্টচার্চে ২৩০-২৪০ বা ২৫০ রান যে নেহায়েত কম। কিউইরা দুই ম্যাচেই মাত্র দুটি উইকেট খুইয়ে সেই রান গেছে টপকে। মার্টিন গাপটিল একাই দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে টাইগারদের হতাশায় ডুবিয়েছেন।

দুই ম্যাচের কোন সময় বাংলাদেশের বোলাররা ব্ল্যাকক্যাপসদের ওপর এতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। তাই প্রথম দিন ৩৩ বল আর শেষ ম্যাচে ৮৩ বল আগে খেলা শেষ হয়েছে।

খেলার চালচিত্র ও স্কোরলাইন পরিষ্কার বলে দিয়েছে আগে ব্যাট করে ৩০০ রানের পুঁজি গড়া ছাড়া জেতা কঠিন। রানটা অন্তত ২৮০+ হলেও লড়াই হতে পারে। এর নিচে রান করে বোলারদের দোষ দিয়ে লাভ হবে না।

অধিনায়ক মাশরাফির ধারনা নেপিয়ার ও ক্রাইস্টচার্চের তুলনায় ডানেডিনের পিচ হবে আরও ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। তার মানে গতি ও বাড়তি বাউন্স তুলনামুলক কম থাকতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিং দুই'ই ভালো হতে পারে।

বল কম গতি আর বিপজ্জনকভাবে লাফিয়ে না উঠলে টপ অর্ডারের অস্বস্তি যাবে কমে। খুব জোরে বল করতে না পারা মাশরাফি, মোস্তাফিজ ও সাইফউদ্দীনরা নিজেদের মেলে ধরতে পারবেন।

তবে যদি উইকেটের চরিত্র নেপিয়ার-ক্রাইস্টচার্চের মত হয়, তাহলে অবস্থার উন্নতি ঘটানো কঠিন। সেক্ষেত্রে ওপেনার তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর যে কোন একজনের ব্যাট থেকে লম্বা ইনিংস বেড়িয়ে আসতেই পারে।

আরও একটি প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হবে। আগের দুই ম্যাচে যার ব্যাট কথা বলেছে, যিনি দু'দুটি হাফ সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে ব্যাটসম্যানদের মান বাঁচিয়েছেন- সেই মোহাম্মদ মিঠুন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির শিকার হয়ে কাল খেলতে পারবেন না। তার ভুমিকা নেবেন কে?

‘পঞ্চ পান্ডবে’র তিন সদস্য তামিম, মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহর জ্বলে ওঠা যে খুব জরুরি। তারা সবাই একসঙ্গে ভাল খেলে রান করলে তো কথাই নেই। অন্তত দুজনার লম্বা ইনিংস যে খুব জরুরী।

এআরবি/এসএএস/জেআইএম