মোহামেডানের জয়রথ থামিয়ে দিল রূপগঞ্জ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৯

মোহামেডানের জয়রথ থামলো রূপগঞ্জে। টানা তিন ম্যাচ জিতে চতুর্থ পর্ব শুরুর আগ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি আবাহনীর সঙ্গে যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল মোহামেডান। আজ (মঙ্গলবার) সেই শীর্ষস্থানচ্যুত হলো সাদা-কালোরা। অধিনায়ক নাঈম ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও তরুণ জাকির আলির চমৎকার ফিনিশিংয়ে মোহামেডানকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টেবিলে নিজেদের অবস্থান সমৃদ্ধ করলো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।

সমান চার খেলায় মোহামেডানের প্রথম পরাজয়ের বিপরীতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের এটা তৃতীয় জয়। এর আগে আবদুল মজিদের সেঞ্চুরি আর নাদিফ চৌধুরীর অনবদ্য হাফসেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ২৯৫ রানের বড় স্কোর গড়েও শেষ হাসি হাসতে পারল না মোহামেডান।

প্রথম তিনটি ম্যাচই মোহামেডান জিতেছিল রান তাড়া করে। এবারের লিগে আজই প্রথম আগে ব্যাট করতে নেমে বড়সড় স্কোরই গড়েছিল রকিবুল হাসানের দল। শেষদিকে শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার চতুরঙ্গ সিলভা হাত খুলে খেলে (৯ বলে ২৩) মোহামেডানকে তিনশোর কাছাকাছি পৌঁছে দেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দেখেশুনে এগিয়েছে মোহামেডান। ১৪২ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে নাদিফ চৌধুরীকে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়েন আবদুল মজিদ। ওই জুটিই মূলত বড় সংগ্রহে ভিত গড়ে দেয়। ১২৬ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ১০৭ রান করে মোহাম্মদ শহীদের শিকার হন মজিদ। নাদিফকেও তুলে নেন এই পেসারই। ৪৭ বলে ৪টি করে চার ছক্কায় ৬৪ রান করেন নাদিফ।

৪৯ নাম্বার ওভারে উইকেটে গিয়ে চতুরঙ্গ এক পর্যায়ে ৪ বলে ৩ ছক্কা আর ১ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বসেন শহীদকে। তখন মনে হচ্ছিল, মোহামেডান তিনশো পেরিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতীয় অলরাউন্ডার ঋষি ধাওয়ান শেষ ওভারে দুটি ওয়াইড করার পরও মাত্র দেন ৪ রান। এটাই মোহামেডানকে পিছিয়ে দেয়।

২৯৬ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও (৪০ রানে ২ উইকেট) পরে সেটা দারুণভাবে সামলে নেয় রূপগঞ্জ। তিন নাম্বারে নামা মুমিনুল হক করেন হাফসেঞ্চুরি (৫৪ বলে ৫৫)। তারপরও ১২২ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল রূপগঞ্জ।

সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে ৯৯ রানের ম্যাচ জেতানো এক জুটি গড়েন নাঈম ইসলাম আর ঋষি ধাওয়ান। ৫১ রানে ধাওয়ান ফেরেন। তবে অধিনায়ক নাঈমকে যখন মোহামেডান রানআউটের ফাঁদে ফেলেছে, তখন জয় থেকে মাত্র ৪ রান দূরে রূপগঞ্জ। ৯২ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৮৫ রান করেন নাঈম। ২৬ বলে হার না মানা ৩৪ রানে জাকের আলি দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন।

দিনশেষে যতকথা আবদুল মজিদ (১০৭), নাদিফ চৌধুরী (৬৪), মুমিনুল হক (৫৫), নাঈম ইসলাম (৮৫), ঋষি ধাওয়ান (৫১), জাকির অালি (অপরাজিত ৩৪); এই ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। কেউ হয়তো আমলে আনছেন না শেষ ওভারে ঋষি ধাওয়ানের ওই কিপটে বোলিংয়ের কথা।

৪৯তম ওভারে মোহাম্মদ শহীদের দেয়া ২৩ রানের পর ঋষি ধাওয়ান যদি ৪ রান না দিয়ে ১২-১৪ রান দিয়ে বসতেন, তাহলে খেলার চালচিত্র ভিন্ন হতে পারতো। তখন শেষ ওভারে রূপগঞ্জের ৪ রানের বদলে দরকার পড়তো ১৫-১৬ বা তারও বেশি, কে জানে তখন কি হতো!

তাই মোটা দাগে লিখে দেয়াই যায়, রূপগঞ্জ অধিনায়ক নাঈম ইসলামের হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠলেও জয়ের পেছনে গত বছর আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে খেলা ঋষি ধাওয়ানেরও অবদান কম নয়।

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :