‘পুরো ৫০ ওভার খেলতে না পারা লজ্জার’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০১৯

ফর্মের চুড়ায় থাকা জহুরুল, ড্যাশিং ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার-সাব্বির রহমান, বলে মেধা ও গুণ বিচার করে খেলতে অভ্যস্ত মোসাদ্দেক-মিঠুন, সম্ভাবনাময় নাজমুল হোসেন শান্ত, অফ স্পিনের পাশাপাশি ব্যাটিংটাও ভাল জানা মেহেদি হাসান মিরাজ, ব্যাটিং সামর্থ্য বাড়ানোর প্রাণপন চেষ্টারত সাইফউদ্দীন এবং সংকটে, বিপদে ও প্রয়োজনে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠার রেকর্ড যার ভুরি-ভুরি- সেই মাশরাফিও আছেন। এমন এক সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ মাত্র ১২২ রানে অলআউট!

পেসার শুভাশীষ আর শহীদ এবং বাঁ-হাতি স্পিনার নাবিল সামাদের সাঁড়াসি বোলিং আক্রমণে কুপোকাত প্রিমিয়ার লিগের সেরা ব্যাটিং লাইন আপের আবাহনী।

এটা ঠিক, আবাহনী এবার যে মানের দল, ব্যাটিং যতটা সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী- মাঠে ঠিক তার প্রতিফলন মেলেনি। কাগজে-কলমের আবাহনীর দেখা মেলেনি মাঠে। তারপরও সোয়া’শো রানেরও কম পুঁজিতে সবাই আউট! হিসাব মেলানো কঠিন। কি এমন হলো হঠাৎ আবাহনীর?

সকালের সেশনে দ্রুত গতির বোলার শুভাশীষ ও শহীদ ভাল বল করেছেন। আহামরি সুইং না পেলেও খুব ভাল জায়গায় বুদ্ধি খাটিয়ে ব্যাটসম্যানের মতি-গতি খেয়াল করে একদম জায়গামত বল ফেলেছেন। কিন্তু তারপরও ২৯ রানে ইনিংসের অর্ধেকটার পতন আর মিঠুন ও মোসাদ্দেক দু’দুজন ওয়েল সেট হয়েও বিপর্যয় এড়াতে পারলেন না। মেলানো কঠিন।

আসলে কি হয়েছিল আবাহনীর ব্যাটসম্যানদের আজ? ভক্ত ও সমর্থকদের কৌতুহলি প্রশ্ন। খেলা শেষে কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছেও রাখা হয়েছিল এ প্রশ্ন।

আবাহনী কোচ অবশ্য চরম ব্যাটিং বিপর্যয় ও একপেশে হারের সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তার ধারনা, মূলতঃ আগের রাতের বৃষ্টিভেজা ময়েশ্চারযুক্ত উইকেটে টস হেরে আগে ব্যাটিং এবং ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ও অ্যাপ্লিকেশনটা পরিবেশ-পরিস্থিতি পক্ষে না থাকার কারণেই বিপর্যয় ঘনিভূত হয়েছে।

তাইতো সুজনের মুখে এমন কথা, ‘অবশ্যই টসটা তো ভাইটাল হয়েছেই। তারপরও আমাদের অ্যাপ্লিকেশন ওয়াজ নট আপ টু স্ট্যান্ডার্ড।’

নিজ দলের সমৃদ্ধ ও শক্তিশালি ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে তার মনে যতটা উচ্চ ধারনা, এবারের লিগে সেই অনুযায়ী ব্যাটিং না হওয়ার আক্ষেপও আছে তেমন। আগের দিন, বিসিবি একাডেমি মাঠে সুজন বলেছিলেনও, ‘আসলে আমাদের দল শক্তি ও সুনাম অনুযায়ী খেলতে পারেনি এখনো। আরও অনেক ভাল খেলার সামর্থ্য আছে এই দলের।’

তাতো আছেই। জহুরুলেরটা না হয় মানা গেল। একটানা অনেকগুলো ম্যাচ ভাল খেলে তিন-তিনবার দল জেতানো ব্যাটিং করে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন এবার; কিন্তু সৌম্য-সাব্বির আর নাজমুল হোসেন শান্তও তো কিছুই করতে পারেননি। মিঠুন সংকট এড়াতে খানিকক্ষণ উইকেট আঁকড়ে পড়ে থেকে যখন খোালস ছেড়ে বেড়িয়ে আসার কথা, তখনই আউট হয়েছেন।

মোসাদ্দেক অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে একদিক আগলে থাকলেও কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। মোটকথা, তারকাখচিত আবাহনী ব্যাটিং একদম ফ্লপ। দলের ব্যাটিংয়ে হতাশ কোচ সুজনও।

কন্ঠে হতাশা নিয়ে তার উচ্চারণ, ‘আসলে যে রকম ব্যাটিং সাইড আবাহনীর, সে হিসেবে আরও ভালো হওয়ার উচিত ছিল। আমরা হয়তো আজ ২৮০ করতে পারতাম। ২২০-২৩০ হলেও ফাইট করা যেত। সবচেয়ে বড় লজ্জাজনক হল, আমরা এই ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারিনি! আজ আমরা ২৪০ করেও হারতে পারতাম, ক্রিকেট খেলায় হারতেই পারি; কিন্তু ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারিনি, এটা আমাদের জন্য বড় ব্যর্থতার বিষয়।’

খেলা শেষে আবাহনীর ড্রেসিং রুমেই হঠাৎ মিটিং! নাহ আবাহনী টিম মিটিং নয়। বৈঠক হলো অধিনায়ক মাশরাফির সাথে জাতীয় দলের দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু-হাবিবুল বাশার ও সম্ভাব্য ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের।

তারা আবাহনী ড্রেসিং রুমের একদম কাঁচের দেয়ালের সামনে বসেছিলেন, তাই মিডিয়ার চোখ এড়ায়নি। মাশরাফি, নান্নু-সুমন ও সুজন যে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য স্কোয়াড নিয়ে কথা বলেছেন, তা বলাই বাহুল্য।

তা নিয়ে প্রশ্নও উঠলো। খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছে জানতে চাওয়া হলো, আপনারা কি নিয়ে আলোচনা করলেন? সুজনের জবাব, ‘এমনি কথা হচ্ছিল। অধিনায়ক কি রকম টিম দেখতে চায় এই ব্যাপারে। নাথিং স্পেশাল আসলে। নান্নু ভাইরাও এসেছেন এই কারণে। ন্যাশনাল টিমের অনেক প্লেয়ার লিগে পারফর্ম করছে না। ফর্মে নাই অনেকে। তবে ন্যাশনাল টিমের যারা খেলছে তাদের নিয়ে তো ডাউট নেই। তাদের অভিজ্ঞতা আছে বিদেশের মাটিতে খেলার। সেগুলো তো বিবেচনা হবেই। ওটা নিয়েই। কে কেমন করছে, এছাড়া আর কিছুই না।’

এআরবি/আএইএইচএস/পিআর