জানেন? সৌম্যর আগেও ঢাকার ক্রিকেটে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছিল

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

সাফল্য-কৃতিত্ব, অর্জন আর প্রাপ্তি হঠাৎ বা রাতারাতি পৌঁছে দেয় পাদপ্রদীপের আলোয়। মাঝে অনেকদিন রান খরায় ভোগা সৌম্য সরকার এখন একজোড়া নজরকাড়া সাফল্যে হঠাৎ শিরোনামে।

অথচ এই ক’দিন আগেও অফ ফর্মের সৌম্যকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সৌম্য বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তার ব্যাট কথা বলছে না, রান নেই। তাকে কেন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেয়া হয়েছে?

কিন্তু ঠিক ২৪ ঘন্টা আগে দৃশ্যপট বদলে গেছে ভোজবাজির মত। মঙ্গলবার সাভারের বিকেএসপি মাঠে ২০১৯ সালের প্রিমিয়ার ক্রিকেট সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ১৬ ছক্কার নতুন রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন সৌম্য সরকার।

তাতে অতিবড় সৌম্য বিরোধীরাও গেছেন চুপসে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ঢাকার প্রিমিয়ার ক্রিকেট এখন লিস্ট ‘এ’র মর্যাদাভুক্ত আসর। সেই আসরের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান এবং সর্বাধিক ১৬ ছক্কা হাঁকানোর দূর্লভ কৃতিত্বের এককভাবেই এখন সৌম্যর দখলে।

এখন সবার মুখে তাই শুধু সৌম্যর নাম। তার প্রশংসা চারদিকে। যত কথা সাতক্ষীরার ২৬ বছর বয়সী এ বাঁ-হাতি উইলোবাজকে নিয়ে। প্রশংসা, স্তুতি বন্দনার পাশাপাশি আছে বিস্ময়, মুগ্ধতা। অনেকেই অবাক! বিস্মিত! কারো কারো মনে কৌতুহল, ‘আচ্ছা! কেউ যা পারেননি, সৌম্য তা পারলেন কি করে?’

এতদিন শুনতাম রোহিত শর্মা, বিরেন্দর শেবাগ, শচীন টেন্ডুলকার কিংবা ক্রিস গেইলরা ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকাচ্ছেন। এবার বিদেশের গন্ডিতে নয়, দেশের মাটিতেও যে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো যায়, সেই বিশ্বাসটা জন্ম দিয়ে দিলেন সৌম্য সরকার। এই সাহস এবং বিশ্বাসে ভর করেই হয়তো শুধু লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট নয়, আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচেও বাংলাদেশের কেউ ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বসতে পারেন।

৫০ ওভারের এক ম্যাচে ২০০ রান করা কি চাট্টিখানি কথা? আর চার হালি ছক্কা (১৬টি), সেটাও আরেক বিস্ময়! এতগুলো ছক্কা সৌম্য হাঁকালেন কিভাবে? মঙ্গলবার বিকেএসপিতে সৌম্যর ব্যাটে কি অন্য কিছু ভর করেছিল? এর বিপরীতে হাতে গোনা ক’জন আবার অন্য গন্ধও খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

তবে সে সংখ্যা এত কম যে, তা ধর্তব্য নয়। সৌম্য বন্দনার পাশাপাশি আরও একটি কৌতুহলী প্রশ্নের উদ্রেক কিন্তু ঘটেছে। তাহলো, বাংলাদেশের লিস্ট এ ক্রিকেটে না হয় সৌম্যই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। কিন্তু ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে সৌম্যর আগে আর কেউ কোন দিন ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেননি?

স্বাধীনতার পর সেই ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট। গত ৪৫ বছরে ঢাকা মেট্রোপলিশ প্রথম বিভাগ, সিনিয়র ডিভিশন আর প্রিমিয়ার লিগ (তখন প্রিমিয়ার লিগ লিস্ট-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল না), এমনকি বাংলাদেশের কোন মানসম্পন্ন জেলা লিগেও কি এর আগে একদিনের ফরম্যাটে কোন ডাবল সেঞ্চুরি হয়নি?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে জবাব। হ্যাঁ, করেছেন। ঢাকাই ক্লাব ক্রিকেটে (অবশ্যই ৫০ ওভারের ফরম্যাটে) এর আগে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে। তাও একটি নয়। দু’দুটি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে।

যার প্রথমটি করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অলরাউন্ডার সৈয়দ আশরাফুল হক। ঠিক দিনক্ষণ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। তবে একদম চোখে দেখা বেশ ক’জন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়েই বলা, আশির দশকের ঠিক মাঝামাঝি ঢাকার প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে ৪৫ ওভারের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন সৈয়দ আশরাফুল হক। খেলা হয়েছিল ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

পরবর্তীতে যিনি ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে দেশ ও বিদেশে সমাদৃত হয়েছিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক হবার পাশাপাশি এশীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা এসিসির প্রধান নির্বাহীও হয়েছিলেন। দেশের হয়ে ১৯৭৯ সালের প্রথম আইসিসি ট্রফি খেলা সৈয়দ আশরাফুল হক ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ঢাকা তথা দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট ক্লাব ‘আজাদ বয়েজের’ হয়ে। প্রতিপক্ষ ছিল পুরান ঢাকার ক্লাব ‘ইলেভেন স্টার।’

এর পর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের মূল আসর প্রিমিয়ার লিগেও (তখনো প্রিমিয়ার লিগ লিস্ট ‘এ’-র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়নি) আছে একটি ডাবল সেঞ্চুরি। সেটি করেছিলেন এক পাকিস্তানি। নাম জিয়াউর রহমান।

অবাক করার মত ঘটনা হলো, জিয়া কিন্তু পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্রিকেটার ছিলেন না। তার বড় ভাই তারেক মেহমুদও কখনো পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলেননি। লাহোরের ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন বেশ কয়েকবছর। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও অংশ নিয়েছেন। আর ৯০-এর দশকের প্রায় পুরোটা সময় (১৯৯৪-১৯৯৫ থেকে) ঢাকা লিগে ওয়ারি, মোহামেডান, কলাবাগান এবং আবাহনীর হয়ে খেলেছেন তারেক মেহমুদ।

তারেক ও জিয়ার আরেক ভাই ছিলেন আতাউর রেহমান। ৯২ থেকে ৯০ দশকের প্রায় পুরোটা সময় পাকিস্তানের হয়ে ৩০টি ওয়ানডে এবং ১৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন সাবেক ফাস্ট বোলার আতাউর রেহমান। প্রসঙ্গতঃ আতাউর রেহমানও ঢাকা লিগ খেলেছেন। তবে তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।

তবে বড় ভাই তারেক মেহমুদের হাত ধরে ৯০ দশকের মাঝামাঝি সম্ভবত ১৯৯৬-১৯৯৭ মৌসুমে ঢাকা লিগ খেলতে এসে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

ভাবার কোন কারণ নেই, সেটা প্রথম বিভাগ বা অন্য কোন লিগের। ঢাকা তথা দেশের সবচেয়ে বড় ও জমজমাট ৫০ ওভারের ফরম্যাটের একমাত্র জমজমাট আসর প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করে বসেন আনকোরা জিয়া। খেলাটি হয়েছিল ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। জিয়া খেলেছিলেন ৯০ দশকে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত শক্তি কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে। প্রতিপক্ষ ছিল ধানমন্ডি ক্লাব।

দেশ বরেণ্য ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব, সাবেক ক্রিকেটার, জাতীয় দল তথা দেশের দুই প্রধান ক্রীড়াশক্তি মোহামেডান-আবাহনীর সাবেক প্রশিক্ষক এবং নামী ক্রিকেট লেখক জালাল আহমেদ চৌধুরী নিজে স্মৃতিচারণ করলেন ওই ম্যাচের।

প্রসঙ্গতঃ জিয়া যে দলের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন, জালাল আহমেদ চৌধুরী ছিলেন সেই দলের (ধানমন্ডি ক্লাবের) কোচ। আজ বিকেলে জাগো নিউজের সাথে জিয়ার ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুলেখক জালাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার বছরটা ঠিক মনে নেই। তবে ৯০ দশকের মাঝামাঝি হবে হয়ত। ভেন্যু আর প্রতিপক্ষ মনে আছে। কারণ আমরা মানে ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষেই হয়েছিল সেই ডাবল সেঞ্চুরি। কলাবাগানের সাথে সেই ডাবল সেঞ্চুরির কাছেই আসলে আমরা হেরে গিয়েছিলাম। খেলা হয়েছিল ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, এ প্রতিবেদনটি পুরোপুরি স্মৃতি থেকে লেখা। জন্মসূত্রে ঢাকার ছেলে বলে ঢাকাই ক্লাব ফুটবল, ক্রিকেট, হকি দেখার সুযোগ পেয়েছি সেই হাফপ্যান্ট পড়া অবস্থা থেকেই। তারপর নব্বই দশকের প্রথম ভাগে ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু করার পর যা দেখেছি, সেগুলোই স্মৃতিপটে আঁকা আছে। তার উপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন। কাজেই সন তারিখ কিছুটা গড়বড় হতেই পারে, এখানেও হয়েছে। অবশেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পাকিস্তানি টেস্ট ক্রিকেটার আতাউর রেহমানের ছোট ভাই জিয়াউর রহমান ঢাকার প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে।

বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যার সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরি, সেই তুষার ইমরান এবং বর্তমানে ম্যাচ রেফারি ও কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল নিশ্চিত করেছেন, জিয়া সেঞ্চুরি করেছিলেন ১৯৯৯-২০০০ সালে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে। খেলা হয়েছিল ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে (আবাহনী মাঠ)।

দেবব্রত ও তুষার দুজনই জানিয়েছেন, ওই ম্যাচে তারা ছিলেন বিজিত ধানমন্ডি একাদশের খেলোয়াড়। আগেই বলা হয়েছে, জিয়া খেলেছেন কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে।

ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন নান্নুও

এতো গেল ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরিয়ানদের কথা। এর বাইরেও আছে আরো এক ডাবল সেঞ্চুরির কাহিনী। সেটা ঢাকার ক্রিকেটে নয়। জেলা শহর (এখন বিভাগীয় শহর) কুমিল্লা লিগে ৪০ ওভারেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন নান্নু।

আসুন জেনে নেই সেই ডাবল সেঞ্চুরির গল্প। সময়কাল আশির দশকের মাঝামাঝি। তবে সেটা ঢাকার প্রিমিয়ার লিগে নয়। কুমিল্লা লিগে। যে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন আজকের প্রধান নির্বাচক ও দেশের সব সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটিং প্রতিভা মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

নান্নুর ডাবল সেঞ্চুরিটি ছিল কুমিল্লা স্টেডিয়ামে। আজ সন্ধ্যায় জাগো নিউজের সাথে ওই ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে নান্নু বলেন, ‘খুব সম্ভবত ১৯৮৪-১৯৮৫ মৌসুমের কথা। আমার নিজ দল এবং প্রতিপক্ষ কোনটারই নাম মনে নেই। তবে আমার বন্ধু সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এনামুল হক মনিদের নিজের ক্লাব ছিল সেটা। আমি সেই দলের হয়ে খেলতে গিয়ে ২০৮ রানের এক ইনিংস খেলেছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ম্যাচটি ছিল ৪০ ওভারের। আমি ৩০ ওভারের দিকে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে শেষ ৮-৯ ওভারে গিয়ে পরের শতক হাঁকিয়ে বসি। এখনো মনে আছে, কুমিল্লা স্টেডিয়ামের বাইরে একটি পুকুর ছিল। আমার গোট তিনেক ছক্কার বল গিয়ে পড়েছিল সেই পুকুরে।’

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ বিজয়ী দলের অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা, লঙ্কান ক্রিকেটের সব সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ও মারকুটে উইলোবাজ সনাৎ জয়সুরিয়া, ইংলিশ ওয়ানডে স্পেশালিস্ট নেইল ফেয়ার ব্রাদার, পরবর্তীতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে আজীবন নিষিদ্ধ হলেও পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সব সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান সেলিম মালিক, আশির দশকের শেষভাগ থেকে ৯০‘র মাঝামাঝি অবধি পাকিস্তান তথা বিশ্ব ক্রিকেটের তুখোড় হার্ডহিটার ইজাজ আহমেদ, ভারতের সাবেক বরেণ্য ক্রিকেটার অজয় জাদেজা, শ্রীলঙ্কার অতুলা সামারাসেকেরা, ভারতের রমন লাম্বা, কেনিয়ার স্টিভ টিকোলোসহ বিশ্বের অনেক নামি-দামি ব্যাটসম্যান খেলে গেছেন; কিন্তু শুনলে অবাক হবেন, তাদের কেউ যা পারেননি, আনকোরা ও অখ্যাত জিয়াউর রহমান ৯০ দশকের মাঝামাঝি সেই দূর্লভ কৃতিত্বটি দেখিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি করে।

প্রায় দুই যুগ পর বাংলাদেশের সৌম্য সরকার সৈয়দ আশরাফুল হক আর জিয়াউর রহমানের পর ঢাকা লিগে আবার ডাবল সেঞ্চুরি করলেন। লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর প্রথম, তবে ঢাকার ক্লাব লিগে সময়ের হিসেবে প্রায় দুই যুগ পর এই প্রথম কারো ডাবল সেঞ্চুরি।

অবশ্য এর আগে দেশের এক নম্বর ওপেনার তামিম ইকবাল (২০০৬-২০০৭ মৌসুমে) আর সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার রকিবুল হাসানের সামনেও ছিল ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি। তারা খুব কাছাকাছি গিয়েও পারেননি। তামিম ১৮৮ আর রকিবুল লিস্ট ‘এ’তে ২০১৭ সালে বিকেএসপি মাঠে মোহামেডানের হয়ে আবাহনীর বিপক্ষে করেছিলেন ১৯০ রান।

এক সময় ছিল কল্পনা; কিন্তু এখন আর তা কল্পনা বা স্বপ্ন নয়। বাস্তব। তাও একটি দুটি নয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন গুণে গুণে আট-আটটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে। ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মা একাই করেছেন তিনটি। প্রথমটি ২০১৩ সালের ২ নভেম্বর ব্যাঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৯। দ্বিতীয়টি ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর কোলকাতার ইডেন গার্ডেনে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪ এবং তিন নম্বরটি ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর মোহালিতে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০৮।

এছাড়া অপর দুই ভারতীয় বিরেন্দর শেবাগ (২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর ভারতের ইন্দোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৯, শচীন টেন্ডুলকারের তো ওয়ানেড ইতিহাসেই প্রথম, ২০১০ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি গোয়ালিয়রে দক্ষিণে আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ২০০ রানের ইনিংস খেলেন। ভারতীয়দের বাইরে নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল ২০১৫ সালের ২১ মার্চ ওয়েলিংটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৩৭, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্যানবেরায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৫ এবং পাকিস্তানের ফাখর জামানও ২০১৮ সালের ২০ জুলাই বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে করেন ২১০ রানের গৌরবময় ইনিংস।

কে জানে আগামীতে হয়ত সৌম্যর দেখানো পথে হেঁটে বাংলাদেশেরও কোন ব্যাটসম্যান আবার প্রিমিয়ার লিগে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সাড়া জাগাবেন। সাড়া জাগাবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ডাবল সেঞ্চুরি করে।

এআরবি/আইএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :