‘ইংল্যান্ডে আছে সুইং করানোর জন্য আদর্শ উইকেট’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৬ পিএম, ২৩ মে ২০১৯

বিশ্বকাপের স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক ছিলেন তিনি। তারকা পেসার তাসকিন আহমেদকে বাইরে রেখে তাকে দলে নেয়ায় হয়েছে রাজ্যের সমালোচনা। নির্বাচকরা তাকে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়েছেন দুই দিকেই সুইং করানোর বিশেষ পারদর্শিতাকে। যে কারণে সব সমালোচনার পরও ইংল্যান্ডগামী বিশ্বকাপ দলে আবু জায়েদ রাহীই গেলেন দলের পঞ্চম পেসার হিসেবে।

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মূল্যায়নটাও বেশ উঁচু তার ব্যাপারে, ‘ওর ব্যাপারে একটা কথাই বলার আছে। রাহীকেই আমি প্রথম দেখেছি যে সুইং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রানআপের সময়ই বলতে পারবে যে এটা ইনসুইং হবে না আউটসুইং। বাকিরা যারা আছে তাদের সুইংটা হয়ে যায়, রাহী নিজে করাতে পারে।’

দলের নির্বাচকমণ্ডলী ও অধিনায়কের কাছ থেকে এমন সমর্থন পাওয়ার পর বিশ্বকাপে রাহীর কাজটা সহজ হয়ে যাওয়ার কথা। যার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে। নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই নিয়েছেন ৫টি উইকেট, জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরষ্কার।

আয়ারল্যান্ডে ভালো করার অনুপ্রেরণা নিয়ে প্রতিবেশি দেশ ইংল্যান্ডেও ভালো করার ইচ্ছে সিলেটের এ পেসারের, ‘ইংল্যান্ডে গিয়েছিলাম ২০০৯ সালে। এরপর প্রায় ১০ বছর হয়ে গেছে। তাই ইংল্যান্ডে খেলার ইচ্ছা অনেক বেশি। ওই সব দেশে বোলিং করা আমাদের জন্য আদর্শ বলতে গেলে। এসব দেশে বল সুইং করানো যায়। আর যেহেতু আমার মূল অস্ত্র সুইং সুতরাং আমি আশাবাদী।’

abu-jayed-rahi-1

বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে দেখিয়েছেন নিজের সুইং করার ক্ষমতা। সেটিই ধরে রাখতে চান বিশ্বকাপের মঞ্চেও, ‘নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতা ভালো কাজে আসবে। কারণ ওদের সেরা ব্যাটসম্যান যারা ছিলো তারা ভালো বলছিলো। বলেছিলো একটু কষ্ট করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আধিপত্য করতে পারবো।’

তাকে স্কোয়াডে নেয়ার কারণে যেমন হয়েছে সমালোচনা, তেমনি তিনি নিজেও আশা করেননি সুযোগ পেয়ে যাবেন বিশ্বকাপগামী দলে, ‘সত্যি বলতে বিশ্বকাপকে ঘিরে স্বপ্ন অনেক বড়। কারণ বিশ্বকাপ অনেক বড় একটা ব্যাপার। এত বড় আসরে খেলার সুযোগ পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। সত্যি বলতে আমি ভাবতেও পারিনি যে স্কোয়াডে থাকবো। প্রথমে আমি বুঝতেই পারছিলাম না কী করবো, এটা আসলেই সত্যি কি না।’

তবে সফল হতে হলে শারীরিকভাবে ফিট থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবেও শক্ত থাকার কথা মাথায় রেখেছেন রাহী। মনে গেঁথে নিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফির অনুপ্রেরণামূলক বার্তাও।

‘অনেক লম্বা সফর, শারীরিকভাবে ফিট থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবেও শক্ত হতে হবে। যেহেতু দেশের বাইরে অনেকদিন থাকবো, তাই দেশের প্রতি যে টান, সেটা বারবার চলে আসবে। এই জিনিসটা সরাতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে। এত বড় ইভেন্টে মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিই বেশি থাকবে। কারণ অনেকে অনেক কথা বলবে, সমালোচনা করবে। তাই আমার কাছে বড় ব্যাপার হলো এই জিনিসটা ঠিকঠাক সামাল দেয়া। যাতে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে পারি।

বল সুইং করানোর জন্যই তো আমাকে নেয়া হয়েছে। মাশরাফি ভাই বলেছেন মাঠের ভেতরে যে বল সুইং করানোর চেষ্টা করিস, ভালো জায়গায় বোলিং করার চেষ্টা করিস। আমি আশাবাদি, এখন বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’

এসএএস/আইএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :