আজই অভিষেক লেগস্পিনার বিপ্লবের?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তিনি পুরোদস্তুর লেগস্পিনার নন। আগে ব্যাটসম্যান। তারপর লেগব্রেক বোলার। গুগলিও ছুড়তে পারেন। কেউ কেউ তা নিয়ে ফোড়ন কাটছেন। বলছেন, একজন ব্যাটসম্যান কাম লেগস্পিনারকে দলে নিয়ে লাভ কি? তিনি না মেধাবী ব্যাটসম্যান, না খুব ভাল স্পিনার? তাহলে তাকে নেয়া কেন?

এমন প্রশ্ন যারা করছেন, তাদের হয়তো ইতিহাস জানা নেই। ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে, বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিক করা অলক কাপালিও কিন্তু মূলত মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তারপর লেগব্রেক বোলার। কিন্তু টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাট্ট্রিকটি যে তারই। একইভাবে টপ অর্ডার আফতাব আহমেদ, যাকে সবাই ড্যাশিং উইলোবাজ হিসেবেই চিনতো, সেই অনিয়মিত স্লো মিডিয়াম পেসারই কিন্তু একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ৫ উইকেট শিকারি বোলার।

তাই আমিনুল ইসলাম বিপ্লব মূলত ব্যাটসম্যান বলেই তার লেগস্পিনটাকে ছোট করে দেখার কিছুই নেই। ইতিহাসে এমন অনেক নজির আছে, বহু ক্রিকেটার আছেন, যারা ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একভাবে, পরে হয়ে গেছেন অন্য ক্যাটাগরির ক্রিকেটার।

বেশি দূর যেতে হবে না। সীমিত ওভারের ফরম্যাটে সব সময়ের দুই ঝড়ো উইলোবাজ সনথ জয়সুরিয়া আর শহীদ আফ্রিদি দলে এসেছিলেন মূলত স্পিনার হিসেবে। এর মধ্যে আফ্রিদির ক্যারিয়ার শুরুর কাহিনীটা রুপকথার গল্পর মত। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দল গিয়েছিল কেনিয়া। সেখানে কেনিয়ানদের বধে একজন লেগি হতে পারে মোক্ষম অস্ত্র। পাকিস্তান দলের আগের লেগব্রেক গুগলি বোলার মুশতাক আহমেদের ক্যারিয়ার তখন প্রায় শেষ।

তাই পিসিবি থেকে কেনিয়ায় পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের আহ্বানে শহীদ আফ্রিদিকে পাঠানো হয়। একজন লেগস্পিনার হিসেবে দলে জায়গা পাওয়া আফ্রিদিকে নেটে হাতখুলে ‘ইয়া বড় বড়’ ছক্কা হাঁকাতে দেখে পাকিস্তানের কোচ, ক্যাপ্টেন আর সিনিয়র ক্রিকেটারদের চোখ ছানাবড়া। তাই পরের ম্যাচেই আফ্রিদিকে ওপরে মানে তিন নম্বরে পাঠানো হয়। আর সুযোগ পেয়েই এই অলরাউন্ডার ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট দুনিয়ায় হৈ চৈ ফেলে দেন।

তারপরের কাহিনী সবার জানা। আফ্রিদি লেগস্পিনারের পাশাপাশি আক্রমনাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবেও বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন। জয়সুরিয়াও তাই। দলে এসেছিলেন বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে। পরে পিঞ্চ হিটিংয়ে দারুণ দক্ষতা দেখে তাকে ওপেরে ব্যাটিং করানো হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে নয় নম্বরে ব্যাট করা জয়সুরিয়া পরে শ্রীলঙ্কার এক নম্বর ওপেনার বনে যান।

একই কথা প্রযোজ্য পাকিস্তানের শোয়েব মালিক আর আব্দুর রাজ্জাকের বেলায়ও। দুজনার গায়েই ‘অলউন্ডারের’ তকমা। তাও রীতিমত বড় অলরাউন্ডার। অথচ দুজনই ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বোলার হিসেবে। শোয়েব মালিক অফস্পিনার আর রাজ্জাক মিডিয়াম পেসার হিসেবে। পরে দুজনই ব্যাট হাতে নজর কাড়েন। প্রতিষ্ঠিত অলরাউন্ডারও বনে যান।

কাজেই এ সিরিজে দলে আসা আমিনুল ইসলাম বিপ্লবও যে ব্যাটসম্যান থেকে লেগি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন না, তাইবা কি করে বলা? জাতীয় দলে বেশ কিছু দিন ধরেই একজন লেগস্পিনারের অভাব। মূলত ব্যাটসম্যান হলেও বিপ্লব লেগস্পিন ভালই করেন। তাই আগে থেকেই তার দিকে চোখ ছিল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর।

এ প্রতিবেদকের সাথে গত কয়েক মাসে জাতীয় দল ও এইচপি নিয়ে কথা বলার সময় কোন না কোনভাবে উঠে এসেছে বিপ্লব প্রসঙ্গ। এবার তিন জাতি টি-টোয়েন্টি আসরে জাতীয় দলের প্রতিষ্ঠিত কজন পারফরমারের খারাপ ফর্ম দেখে বিপ্লবকে নেয়া। তবে সেটা যতটা তার ব্যাটিং সামর্থ্যে কারণে, তার চেয়ে বেশি লেগস্পিন বোলিং করতে পারায়।

জানা গেছে, জিম্বাবুয়ে ও আফগানদের বিপক্ষে দলে একজন লেগব্রেক গুগলি বোলারের অভাববোধ করেছেন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। তার কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পাবার পরই নির্বাচকরা আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে দলে নিয়েছেন। অবশ্য সৌম্য সরকারসহ বাকিরা ফর্মে থাকলে হয়তো বিপ্লবের ডাক পড়তো না। তখন কম্বিনেশনটাই থাকতো ভিন্ন। এখন প্রেক্ষাপট বদলে গেছে।

আজ বুধবার চট্টগামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অভিষেক হয়ে যেতে পারে বিপ্লবের। কাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নেটে বেশ খানিকক্ষণ বল করেছেন এই লেগস্পিনার। সবার প্রশংসাও পেয়েছেন।

প্রধান নির্বাচক নান্নু তাকে আজই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলানোর কথা ভাবছেন। তবে বিপ্লব খেলবেনই, এমন নিশ্চয়তা মেলেনি। সকালে জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোন আলাপে বিপ্লবকে খেলানোর প্রসঙ্গ তুলে নান্নু বলেন, ‘এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় টিম মিটিং। সেখানেই একাদশ চূড়ান্ত হবে।’

তবে নান্নুর খানিক আক্ষেপ, আজকের খেলাটি চট্টগ্রামে না হয়ে ঢাকায় হলে বিপ্লবের অভিষেকের সম্ভাবনা বেশি থাকতো। তার জন্য ভালও হতো। ঢাকার পিচ তুলনামূলক স্পিনারদের সাহায্য করে। বল একটু আধটু টার্ন করে। কিন্তু চট্টগ্রামের পিচ একদম ফ্ল্যাট। টার্ন কম। তবে কি বিপ্লবের খেলার সম্ভাবনা কম? নান্নু বলেন, ‘দেখা যাক টিম মিটিংয়ে কোচ আর ক্যাপ্টেন কি বলেন?’

তার মানে কোচ ডোমিঙ্গো আর অধিনায়ক সাকিব আল হাসান চাইলেই কেবল অভিষেক ঘটবে লেগস্পিনার বিপ্লবের। না হলে হয়তো অপেক্ষা আরও একটু বাড়বে।

এআরবি/এমএমআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]