খেলতে মুখিয়ে বিপ্লব, তবে...

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। তারপরও শনিবারের ম্যাচকে ২৪ সেপ্টেম্বরের ফাইনালের ‘ড্রেস রিহার্সাল’ ভাবা হয়েছে। সেই ড্রেস রিহার্সেলে আফগানদের হারিয়ে সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করেছে সাকিবের দল।

মাঝে আফগান আতঙ্কে ভুগতো পুরো দল। বিশেষ করে দুই আফগান স্পিনার মুজিবুর রহমান আর রশিদ খান রীতিমত মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে। কাল শনিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ আর সাব্বির রহমানরা সে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে না পারলেও অধিনায়ক সাকিব বুক ভরা সাহস নিয়ে দুই আফগান ‘স্পিন মিসাইলকে’ মোকাবিলা করে দলকে সাফলের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন।

খুব স্বাভাবিকভাবেই টিম বাংলাদেশের মনোবল এখন অনেক চাঙ্গা, ‘আমরা আফগানিস্তানকে হারাতে পারি, আফগান স্পিন বোলিংয়ের মোকাবিলায় আগের মত সমস্যা হয় না-’ এই সাহস সঞ্চিত হয়েছে। নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা উপহার দিতে পারলে আফগানিস্তান বধ খুব কঠিন নয়- এ ধারণাও জন্মেছে।

সুতরাং, মঙ্গলবারের ফাইনালে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সাকিব বাহিনী থাকবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, উদ্যমী ও অনুপ্রাণিত। তারপরও ফাইনালের আগে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে উঠছে। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, ‘আচ্ছা! তরুণ লেগ স্পিনিং সেনসেশন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব কি ফাইনালে খেলতে পারবেন? তার বাঁ-হাতের তালুর ব্যাথা কি কমেছে? তার কি খেলার মত কি অবস্থা আছে?’

১৮ সেপ্টেম্বর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম দিন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক মাসাকাদজার জোরালো ড্রাইভ ঠেকাতে গিয়ে বাঁ-হাতের তালু আর আঙ্গুলের মাঝখানে পুরনো ফেটে যাওয়া জায়গায় আবার আঘাত লেগেছে। জাতীয় দলে আসার আগেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন তিনি। যে কারণে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ কারণে তাকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচে বিশ্রামেও রাখা হয়েছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে গত দিন খেলতে না পারা লেগি বিপ্লব কি আগামী ৪৮ ঘন্টার ভিতরে সুস্থ হয়ে খেলতে পারবেন?

জাগো নিউজের সাথে আলাপে বিপ্লবের খেলা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। নান্নু এমন কথা বলেননি যে, ‘হ্যাঁ, বিপ্লব খেলবেই।’ আবার তার পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না- তাও বলেননি।

নান্নুর প্রথম কথা, আসলে বিপ্লব তো ব্যাথার ওপরে ব্যাথা পেয়েছে। আগের ছড়ে যাওয়া জায়গার ঠিক ওপরেই আবার বলের আঘাতে সেলাই দিতে হয়েছে। কাজেই তিন সপ্তাহ আগে বিপ্লবের হাতের ক্ষত শুকানোর সম্ভাবনা খুব কম। সেলাই এখনো কাটা হয়নি। তবে একটা আশার ব্যাপার হলো যে, তার ক্ষতটা বাঁ-হাতে। বিপ্লব তো বল করবে ডান হাতে। কাজেই একটা আশার জায়গা কিন্তু আছে। দেখা যাক কি হয়? আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখবো।’

মুখে তেমন আশার বাণী না শোনালেও ভিতরে ভিতরে প্রধান নির্বাচকও চাচ্ছেন বিপ্লব খেলুক। তাতে তাদের একটা বোলিং অপশন বাড়ে। কারণ, লেগ স্পিনার বিপ্লবের বদলে শনিবার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান খেলার কারণে একজন বোলার কমে গিয়েছিল। ৪ ওভারে দুই অনিয়মিত অফ স্পিনার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মোসাদ্দেককে দিয়ে সারতে হয়েছে। কাজেই বিপ্লব খেললে বোলিংটা হবে আরও ধারালো। ফাঁক-ফোকরমুক্ত। তারচেয়ে বড় একজন লেগ স্পিনার দিয়ে আফগান ব্যাটসমানদের অন্তত পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেয়া যাবে।

এদিকে ভেতরের খবর, বিপ্লব নিজেই খেলতে মুখিয়ে রয়েছেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অনুপস্থতিতে যিনি অস্থায়ী স্পিন কোচ হিসেবে কাজ করছেন, সেই সোহেল ইসলাম আজ সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘বিপ্লব খেলতে মুখিয়ে আছে। এ তরুণ প্রচন্ড সাহসী। সে খেলতে চায়। বারবার বলেছে, স্যার আমি খেলতে চাই। আশা করি বল করতে পারবো। কোন সমস্যা হবে না।’

ক্ষত, কাটা বা ছেঁড়া যাই বলা হোক না কেন, সেটা যেহেতু বাঁ হাতে, তাই ডান হাতি লেগি বিপ্লবের বল করায় কোন সমস্যা হবার কথা নয়। তারপরও ব্যাটিং এবং ফিল্ডিংয়ের সময় হয়ত সমস্যা হতেই পারে। কারণ বোলিংটা ডান হাতে করলেও বল ধরতে এবং ব্যাটিংয়ের সময়তো দুই হাতই লাগবে।

বাঁ-হাতে সাপোর্ট ছাড়া ব্যাটই ধরতে পারবেন না। ফিল্ডিং-ক্যাচিং করতেও দুই হাত প্রয়োজন। আজকাল অনেক আধুনিক ও নিরাপদ ব্যান্ডেজ বেরিয়েছে। এখন চিকিৎসকরা ভালমত ব্যান্ডেজ করে দিতে পারলে আর টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা তাকে দলে পেতে এমন আগ্রহী হলে হয়ত বিপ্লবকে খেলতে দেখা যাবে। না হয় নয়।

এআরবি/আইএইচএস/জেআইএম