যে বলে বেশি বেশি খেলতে চান মিরাজ!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

ব্যাট ও বলের পারফরমেন্সকে মানদন্ড ধরলে বিশ্বকাপে আহামরি পারফরমেন্স নেই। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্য ওভালে ভাইটাল ব্রেক থ্রু আর শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের সাথে দারুণ স্পেল অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজকে ঠিকই মনে রেখেছেন সমর্থক ও ভক্তরা।

একইভাবে বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও মিরাজ সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তিন ম্যাচে উইকেট মোটে দুটি (১/৫৬, ১/৫১ ও ০/৫৯)। আর ব্যাট হাতে রানও বেশ কম (২+৪৩+৮) = ৫৩।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অফ ফর্মটা অবশ্য দীর্ঘ পরিসর ক্রিকেটে ততটা প্রকট হয়ে দেখা দেয়নি। আফগানিস্তানের সাথে চট্টগ্রামে একমাত্র টেস্টে মিরাজের ব্যাট যথারীতি অনুজ্জ্বল (১২ ও ১১), ব্যর্থ। আর বোলিংটা মন্দের ভাল (২/৩৫, ১/৭৩)।

সব মিলিয়ে দিনকাল খুব ভাল যায়নি। তবে কি সম্ভাবনাময় মিরাজও সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান ও মিঠুনদের মত ধীরে ধীরে অন্ধকারে তলিয়ে যাবেন?

সমর্থকদের মনে চিন্তা এসে বাসা বেঁধেছিল। তবে আশার কথা, শ্রীলঙ্কায় ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে গিয়ে লঙ্কান ‘এ’ দলের বিপক্ষে দীর্ঘ পরিসরের খেলায় বল ও ব্যাট হাতে আবার নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন মিরাজ।

দুই ম্যাচে তিন ইনিংস বোলিং করে তুলে নিয়েছেন ১২ উইকেট। একবার ১১৮ রানে উইকেটশূন্য থাকলেও বাকি দু’বার ৫ বা তার বেশি উইকেটও (৫/১৫০, ৭/৮৪) শিকার করেছেন।

আর দুই ম্যাচে দু’বার ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে খেলেছেন ৫৭ ও ৩৮* রানের দুটি দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস। শ্রীলঙ্কায় দুটি চারদিনের (প্রথমটি অবশ্য বৃষ্টিতে একদিন কমে তিনদিনে রুপান্তরিত হয়েছিল) ম্যাচ খেলে মিরাজ কাল মঙ্গলবারই দেশে ফিরে এসেছেন।

খুলনার হয়ে জাতীয় লিগ খেলতেই ফেরত আসা। বলার অপেক্ষা রাখে না, ওই দুই দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচে জয়ের নাগাল পায়নি ‘এ’ দল। দুটি ম্যাচই ড্র থেকে গেছে। আজ বুধবার শেরে বাংলায় এসে মিডিয়ার সামনে দাড়িয়ে ওই দুই ম্যাচ এবং তার নিজের পারফরমেন্স সম্পর্কে অনেক কথাই বলেছেন এ অলরাউন্ডার।

তার মূল্যায়ন, বৃষ্টির কারনে প্রথম ম্যাচে জয়-পরাজয়ের সম্ভাবনা যায় কমে। আর তার নিজের পারফরমেন্সের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মিরাজের মনে হয়েছে, ওই দুই ম্যাচে লম্বা সময় বোলিং করতে পারাটা তার জন্য ভাল হয়েছে।

অগামী মাসে ভারত সফরে সেই লম্বা স্পেলে বোলিং করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে- এমন বিশ্বাস থেকে মিরাজ বলে ওঠেন, ‘আসলে ওখানে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। যে সময়ে খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। আমার কাছে মনে হয়, আমার জন্য ভালো হয়েছে। সেখানে অনেক সময় ধরে বোলিং করার সুযোগ পেয়েছি। অনেকদিন পর এমন সুযোগ পেয়েছি, যেটা দেশের বাইরে। বেশ কয়েকদিন ধরেই সাদা বলে বেশি খেলা হয়েছে, লাল বলে খেলার তেমন সুযোগ পাইনি। আমার জন্য এটা অনেক বড় একটি সুযোগ ছিল, দুটি চারদিনের ম্যাচ খেলার। আমার যেখানে বল করা উচিত ছিল, লাইন-লেন্থে আমার কিছু সমস্যা ছিল, সেগুলো এই দুই ম্যাচ খেলার ফলে অনেক উন্নতি হয়েছে। সামনে এনসিএলের খেলা আছে, আশা করি আসন্ন ম্যাচগুলোতে আরও উন্নতি করতে পারব।’

একটি ম্যাচ না জিতলেও মিরাজের ধারণা টিম পারফরমেন্স ভাল হয়েছে। তাই মুখে অমন কথা, ‘আসলে দেখেন যে বৃষ্টির জন্য আমাদের একটু সমস্যা হয়েছে। তারপরই যারা খেলেছে ওভার অল সবাই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং ভালো পারফর্ম করেছে। আমার কাছে সামনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচের জন্য এই ম্যাচ দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য। বিশেষ করে এখানে সৌরভ ভাই খেলেছে, সাদমান খেলেছে, মিঠুন খেলেছে, বেশিরভাগ টেস্ট প্লেয়াররা খেলেছে। পরবর্তী সময়ের জন্য আমার কাছে মনে হয় এই দুইটা চারদিনের ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সামনে আমাদের অনেক সাহায্য করবে এই দুইটি ম্যাচ।’

লঙ্কান ‘এ’ দলের হয়ে এই বোলিং সাফল্য ও অনেক্ষণ টানা বোলিংটা ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে কতটা কাজে দেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা আমার এবং আমাদের দলের জন্য খুবই কাজে লাগবে। আমি আগেও বলেছি, দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করার সুযোগ হয়েছে। সেখানে আমি অনেক বোলিং করেছি, সামনে এটা আমাকে অনেক সাহায্য করবে। আমি মনে করি যারা ব্যাটসম্যান ছিল সৌরভ ভাই একটা হাফ সেঞ্চুরি করেছে, সাদমানও রান পেয়েছে। মোটকথা এখানে সবাই অবদান রেখেছে, পরবর্তীতে সবার জন্য অনুপ্রেরণা হবে এই দুই ম্যাচ।’

সর্বশেষ তিন জাতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলে জায়গা পাননি। দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেটাকে কিভাবে দেখছেন? আগামীতে আবার দলে ফেরার আশা কতটা?

এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মিরাজ যা বললেন, তার সারমর্ম হলো, তিনি এখন টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন। এক কথায় ২০ ওভারের ফরম্যাটে দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই তার। তবে লাল বল, মানে টেস্টে দলে থাকাই তার বড় লক্ষ্য এবং স্বীকার করেছেন, মাঝে লাল বলে বোলিং ভাল হয়নি। লাইন ও লেন্থে সমস্যা হচ্ছিল। শ্রীলঙ্কায় ‘এ’ দলের হয়ে খেলা এবং ভাল বোলিং করায় আগামীতে লাল বলে ভাল করার একটা রসদ বলে বিশ্বাস মিরাজের।

‘আসলে একটা জিনিস দেখেন আমার কাছে মনে হয়, বিশেষ করে লাল বলে ফোকাসটা বেশি দিতে হবে। কারণ সামনে আমাদের অনেক টেস্ট ম্যাচ আছে। আর আমিও বিগত কয়েকটি টেস্ট ম্যাচে ভালোভাবে বোলিং করতে পারছিলাম না, এলোমেলো হচ্ছিল। আমার কাছে মনে হয় এটা আমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা। সামনে টেস্ট ম্যাচ আছে, সেখানে যেন ভালোভাবে ফিরে আসতে পারি সে জন্য হয়তো আমাকে চিন্তা করেছে। আমি নিজেকে আরও পরিণত করতে যাচ্ছি সামনে ভালো কিছু করার জন্য।’

এআরবি/আইএইচএস/পিআর