সিপিএলের ফাইনালে সাকিবের বার্বাডোজ

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৯

টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে শীর্ষ দুই দলের মধ্যে থাকায় ফাইনালে ওঠার জন্য দুইটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল সাকিব আল হাসানের বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের সামনে। প্রথম সুযোগে ব্যর্থ হলেও, দ্বিতীয়বারে ঠিকই বাজিমাত করেছে সাকিবের দল।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে ১২ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বার্বাডোজ। শনিবার রাতে শিরোপা লড়াইয়ে টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত থাকা গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের মুখোমুখি হবেন সাকিবরা।

ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৬০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বার্বাডোজ। জবাবে নিজেদের ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতেই ত্রিনবাগো অলআউট হয়ে যায় ১৪৮ রানে, বার্বাডোজ পায় ১২ রানের জয়। ব্যাট হাতে ১৮ রান করার পর বল হাতে ২ ওভারে ২৭ রান খরচ করেন সাকিব।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল ত্রিনবাগো। সাকিব আল হাসানের করা প্রথম ওভার থেকেই ১৬ রান তুলে নেন দুই ওপেনার সুনিল নারিন ও লেন্ডন সিমনস। ফলে সাকিবকে আর আক্রমণেই রাখেননি বার্বাডোজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।

দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে সিমন্সকে ফেরান হোল্ডার, পরের ওভারের প্রথম বলে নারিনকে সাজঘরের পথ দেখান হ্যারি গার্নি। তবু প্রথম পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটের বিনিময়ে ৫২ রান তুলে ফেলে ত্রিনবাগো। যেমন শুরুর দরকার ছিল সেটা পেয়ে যায় তারা। তবে ব্যর্থ হয় ধরে রাখতে।

পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ভেঙে পড়ে ত্রিনবাগোর ব্যাটিং লাইনআপ। ইনিংসের পরের ৬ ওভারের মধ্যে স্কোরবোর্ডে ২৯ রান যোগ করতেই তারা হারিয়ে ফেলে ৩টি উইকেট। দলীয় ৮১ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট পতনের পর উইকেটে আসেন সেকুগে প্রসন্ন। অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চেষ্টা করেন ম্যাচ জেতানোর।

রানআউটে কাঁটা পড়ে ইনিংসের ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে সাজঘরে ফেরেন পোলার্ড। তখনও ২৫ বলে ৪১ রান দরকার ছিল ত্রিনবাগোর। মাঝে ১৩তম ওভারে বোলিং করতে এসে ১১ রান খরচ করেন সাকিব। অন্য প্রান্ত থেকে তেমন সহায়তা না পেলেও মাত্র ২২ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে নিজ দলকে জয়ের পথেই রাখেন প্রসন্ন। কিন্তু পারেননি শেষপর্যন্ত।

শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য ২০ রান করলেই হতো ত্রিনবাগোকে। ১৯তম ওভার করতে এসে মাত্র ৬ রান খরচ করেন গার্নি, শেষ বলে আউট করেন ক্রিস জর্ডানকে। এরপর শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে তিন বলের মধ্যেই প্রসন্নসহ বাকি ২ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রেয়মন রেইফার।

দলকে জেতাতে না পারলেও ৪টি করে চার-ছক্কার মারে ২৭ বলে ৫১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন প্রসন্ন। বল হাতে বার্বাডোজের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন হেইডেন ওয়ালশ, অ্যাশলে নার্স, হ্যারি গার্নি ও রেয়মন রেইফার।

এর আগে ঘরের মাঠে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ত্রিনবাগো। ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি বার্বাডোজের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কেউই। ওপেনার জনসন চার্লস ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৫ রান করলেও খেলেন ৪১টি বল। ফলে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় বার্বাডোজ।

অপর ওপেনার অ্যালেক্স হেলস ১০ রান করে আউট হয়ে গেলে তিন নম্বরে নামেন সাকিব। চার্লসের রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্লথ হয়ে আসা রানের চাকা দ্রুত ঘোরানোর চেষ্টায় ১টি করে চার ও ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। কিন্তু টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ইনিংসের নবম ওভারে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১২ বলে ১৮ রান করেন সাকিব।

এরপর জেপি ডুমিনি শুরুটা করেছিলেন আশা জাগানিয়া। কিন্তু চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ৫ বলে ১০ রান করে। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শাই হোপ ১৮ বলে ২৩ রান করে আউট হয়ে গেলে বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায় বার্বাডোজের।

তবু দলকে ১৬০ রানের লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়ার কৃতিত্ব দুই বোলিং অলরাউন্ডার অ্যাশলে নার্স ও রেয়মর রেইফারের। দুজন মিলে শেষের ১৬ বলে গড়েন ৪৮ রানের জুটি। নার্স ১৮ বলে ২৪ ও রেইফার অপরাজিত থাকেন ৯ বলে ২৪ রান নিয়ে। ত্রিনবাগোর পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আলি খান, খ্যারি পিয়েরে এবং ক্রিস জর্ডান।

এসএএস/এমএস