আইসিসিতে ক্রিকেটার হওয়ার গল্প শোনালেন বাংলাদেশের জ্যোতি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১২ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৯

 

সারা বিশ্বব্যাপী আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শিশু কন্যা দিবস। ২০১২ সালের পর থেকে প্রতিবছর অক্টোবরের ১১ তারিখেই উদযাপিত হয় এ দিবসটি। জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত এ দিনটি পালনে পিছিয়ে নেই আইসিসিও। সকলকে কন্যা শিশুদের অধিকারের ব্যাপারে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারী ক্রিকেটারদেরকে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে আইসিসি।

সে ধারাবাহিকতায় এবারের শিশু কন্যা দিবসে আইসিসিকে নিজের জীবনের গল্প শুনিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নিগার সুলতানা জ্যোতি। শুনিয়েছেন প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্ব মঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার বন্ধুর যাত্রার কথা।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ দলের এশিয়া কাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য জ্যোতি। ছিলেন গত মাসে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলেও। অমিত সম্ভাবনা দেখে, অস্ট্রেলিয়ায় গেম ডেভেলপমেন্টের অংশ হিসেবে রোমানা আহমেদের সঙ্গে জ্যোতিকেও ডেকে নিয়েছে আইসিসি। যেখানে তিনি খেলবেন নারীদের বিগব্যাশে।

বর্তমানে সফলতার মুখ দেখলেও, সহজ ছিলো না জ্যোতির ক্রিকেট শুরুর সময়টা। তবে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় বড় পরিসরে খেলার সাহসটা পেয়েছিলেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এরপর বাকি পথটা পেরিয়েছেন কীভাবে?- তা শোনা যাক জ্যোতিরই কণ্ঠে:

‘আমি মাত্র ২ বছর বয়সে ভাইয়ের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলাম। তখন খুবই ছোট ছিলাম। আমার বড় ভাই সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছে যে আমিও ক্রিকেট খেলতে পারবো। ভাইয়ের স্বপ্ন ছিলো জাতীয় দলের হয়ে খেলার, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। তাই ভাইয়াই আমাকে সবসময় বলতো যে আমি অবশ্যই পারবো।

যখন গুরুত্বের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে শুরু করলাম, তখন আশেপাশের মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। তারা বলতো একজন মেয়ে কেনো ক্রিকেট খেলবে? এসবের ভবিষ্যৎ কী? তারা কখনোই আমার ক্রিকেট খেলাটা সহজভাবে নেয়নি। এসময় ভাইয়ার অনুপ্রেরণা ও সাহস অনেক কাজে দিয়েছে।

আমাদের দেশ মুসলিম প্রধান হওয়ায় অন্যান্য মেয়েদের জন্য ক্রিকেট খেলা বেছে নেয়া এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার কথা ভাবাটাও অনেক কঠিন ছিল। তবে এখন আমাদের দেশের মানুষের ক্রিকেটের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বদলেছে। এখন বলা যায় নারীদের ক্রিকেট খেলার জন্য বাংলাদেশের পরিবেশ অনেক ভালো।

২০১৮ সালে আমরা এশিয়া কাপ জেতার পর ক্রিকেট বোর্ড এবং দেশের মানুষ নারী ক্রিকেটের প্রতি অনেক আগ্রহ দেখাচ্ছে। এখন আমরা অনেক বেশি ম্যাচ এবং টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা এখন আগামী বছরের বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় আছি। আমরা আসলে বাছাইপর্বের কথা ভাবিওনি কারণ আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিলো অস্ট্রেলিয়াতে বিশ্বকাপ খেলা।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত ১৯টি ওয়ানডে ও ৪৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ওয়ানডেতে ১ ফিফটিতে তার সংগ্রহ ৩০২ রান। টি-টোয়েন্টিতে কোনো ফিফটি না থাকলেও ঝুলিতে জমা রয়েছে ৫৬৩ রান।

এসএএস/এমএস