নবীন না অভিজ্ঞ- ভারত সফরে প্রাধান্য পাবেন কারা?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:০০ এএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৯

মাঝে ঘরের মাঠে তিন জাতি টি-টোয়েন্টি আসরে কয়েকজন নবীনকে খেলানো হয়েছে। সামনের মাসে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও কি অমনটা ঘটবে? প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞদের পাশে নতুন কেউ কি সুযোগ পাবেন?

সাইফ হাসান, মোহাম্মদ নাইম শেখ- কারও ভাগ্যের চাকা ঘুরবে? না পুরনো ও প্রতিষ্ঠিতদের ওপরেই নির্ভর করবে টিম ম্যানেজম্যান্ট এবং নির্বাচকরা। সে প্রশ্নই এখন উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, এইচপি, ইমার্জিং ও এ দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলা সাইফ হাসানের টেস্ট দলে জায়গা পাবার সম্ভাবনা আছে। সেটা কতটা সত্য? নাকি শুধুই গুঞ্জন?

জাগো নিউজের পক্ষ থেকে এ প্রশ্ন করা হলে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু সরাসরি ‘হ্যাঁ কিংবা না’ বোধক জবাব না দিয়ে বলেন, ‘আসলে ভারত অনেক কঠিন ও শক্ত প্রতিপক্ষ। তার ওপর খেলা ওদেরই মাটিতে। এমন এক সমৃদ্ধ, শক্তিশালি, পরিণত ও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নতুন ক্রিকেটার খেলানোর অর্থ তাকে বা তাদের তোপের মুখে ঠেলে দেয়া। এক কথায় ভারতের মাটি ও ভারতের বিপক্ষে নতুন কারো অভিষেকের আদর্শ জায়গা নয়। সেখানে প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞদের ওপর আস্থা রাখাই হবে যুক্তিযুক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাইফ হাসান, নাইম শেখরা শ্রীলঙ্কায় ভাল খেলেছে। তার আগেও সাইফ ধারাবাহিকভাবে রান করেছে। তারপরও ভারতের বিপক্ষে তার টেস্ট দলে নেয়া হবে কি না? সেটা তার ও দলের জন্য ভাল হবে কি না?- তা এখনই বলা কঠিন। দেখা যাক, আমরা আগামী দুই একদিনের মধ্যেই দল নিয়ে বসবো। তারপর আমরা বসে ঠিক করবো কী করা যায়?’

তাহলে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলা নাজমুল হোসেন শান্তর কী হবে? এ ব্যাপারে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের ব্যাখ্যা, ‘এই মুহূর্তে তরুণদের মধ্যে জাতীয় দলের বাইরে থাকা অবস্থায় সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করছে শান্ত। নেটে, এইচপি, ইমার্জিং বা এ দলের হয়ে সব জায়গায় বেশ ভালো খেলেছে শান্ত। কিছু বড় ইনিংসও এসেছে ওর ব্যাট থেকে। পাশাপাশি ফিজিক্যাল ফিটনেস ও ফিল্ডিংটাও খুব ভালো ওর। সে কারণেই ওকে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে নামতেই কেমন হয়ে যায় শান্ত। আসলে জাতীয় দলের বাইরে থাকা অবস্থায় ও জাতীয় দলের হয়ে ব্যাট হাতে শান্তকে মেলানো বেশ কঠিন।’

সাইফের কথা বলতে গিয়ে বাশারের ব্যাখ্যা, ‘টেকনিক্যালি বর্তমান প্রজন্মের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে নিখুঁত সাইফ।’

এদিকে কথা উঠেছে এবারের জাতীয় লিগের প্রথম পর্বে একমাত্র সেঞ্চুরি তথা ডাবল সেঞ্চুরি করা বাঁহাতি টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসকে নিয়েও। বলার অপেক্ষা রাখে না, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ছিলেন না তিনি।

মাঝে ছেলের অসুস্থতা নিয়েও বেশ মানসিক চাপে ছিলেন ইমরুল। দেশে ও বিদেশে ছেলের চিকিৎসার জন্য ছুটোছুটি করতে হয়েছে। সে অর্থে দীর্ঘ সময় নিবিড় অনুশীলন করতে পারেননি। তারপরও এবার জাতীয় লিগের প্রথম ম্যাচেই রংপুর বিভাগের বিপক্ষে দ্বিশতক হাঁকিয়ে ইমরুল জানান দিলেন, এখনও অনেক কিছুই দেয়ার আছে তার। ইতিহাস জানাচ্ছে এমনিতেই অন্য দুই ফরম্যাটের চেয়ে টেস্টে বেশি অগ্রাধিকার পান ইমরুল।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন চলে আসে তবে কি ইমরুলও থাকবেন ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের বিবেচনায়? এ ব্যাপারে কী ভাবছেন নির্বাচকরা? প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কথায় বোঝা গেল, এক রাউন্ডের পারফরম্যান্স দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চান না তারা। বিশেষ করে নান্নুর কথায় পরিষ্কার, তারা (নির্বাচকরা) ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠ, উইকেট ও প্রতিপক্ষের বোলিং শক্তিকেও বিবেচনায় আনতে চান। কার সঙ্গে কোন মাঠে, কোন ধরনের উইকেটে, কেমন বোলিংয়ের বিপক্ষে কে কত রান করেছে- সেটা খুঁটিয়ে দেখবেন। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।

সেক্ষেত্রে খুলনার ব্যাটিং উইকেটে রংপুরের কমজোড়ি বোলিংয়ের বিপক্ষে ইমরুলের ডাবল সেঞ্চুরি নির্বাচকদের মানদণ্ডে ঠিক কত নম্বর পাবে- সেই সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

এআরবি/এসএএস/পিআর