‘একটা খেলোয়াড় বলতে পারবে, কিছু চেয়েছে দেইনি?’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে বিস্ময়ে বিমূঢ় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তার দাবি, প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে। সব কিছু নিয়েই কথা হয়। কিন্তু আন্দোলনে যাওয়ার আগে কেন তারা জানানোর প্রয়োজনবোধ করলো না, মাথায় আসছে না বিসিবি প্রধানের।

খেলোয়াড়দের শুধু খেলার বিষয়ে নিয়ে নয়, ব্যক্তিগত অনেক সমস্যাতেও পাপন এগিয়ে এসেছেন। তার কয়েকটি উদাহরণ তিনি তুুলে ধরলেন সংবাদ সম্মেলনে। এত কিছু করার পরও বোর্ডের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ খেলোয়াড়রা কিভাবে তুলল, মানতে পারছেন না বিসিবি বস।

কথা প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘ধরুন ইমরুলের বাচ্চা অসুস্থ। আমাকে রাতে ফোন করলো, ওর বাচ্চার অবস্থা খারাপ। অ্যাপোলোতে হচ্ছে না, সিঙ্গাপুরে নিতেই হবে। বলল, আমার ভিসা নেই, কালকের মধ্যে ভিসা করতে হবে। আমি বললাম-টিকিট কেটে ফেলো। আমি একদিনের মধ্যে সব ব্যবস্থা করলাম। রাতে আমাকে ফোন করলো, বাচ্চার অবস্থা খারাপ ভিআইপিতে নিলে ভালো হয়। সেটাও করে দিলাম।’

তামিম-সাকিবের সঙ্গেও কেমন ব্যক্তিগত সম্পর্ক তুলে ধরতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘জাতীয় লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে হঠাৎ দেখি তামিমের নাম নেই। তাকে ফোন করলাম-তামিম তুমি খেলছো না? তামিম বলল-একটু ব্যথা পেয়েছি, চার পাঁচদিন রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। বড় কিছু না। সাকিব যখন সিপিএলে, আমি নিজে থেকে দুইবার ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছি-কি অবস্থা কেমন আছো? কবে আসবা? সে-ও আমাকে নিজে থেকে ফোন দেয়। ভারত সফর নিয়ে একবার জানতে চাইলাম, কেমন হবে স্কোয়াড, কি করবে। বললাম, একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে- ও তো ফর্মে নেই, কেন রাখছো, নতুন কাউকে নাও। সাকিব বলল, না, ওকে আমার দলে দরকার।’

খেলোয়াড়দের সঙ্গে এই যোগাযোগটা নিয়মিতই হচ্ছে উল্লেখ করে পাপন বলেন, ‘তাদের সঙ্গে এটা কিন্তু নিয়মিতই। আমি তো দূরে থাক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার যোগাযোগটাও তাদের আছে। এটাই বাস্তবতা। যদি তাদের কিছু বলার থাকে, তবে তো আমাকেই বলার কথা।’

বেতন বাড়ানোর দাবির বিষয়ে পাপন যোগ করেন, ‘শ্রীলঙ্কায় গতবার সিরিজ খেলে এসেছে দল। আমরা যখন আসি তাদের বেতন ছিল দেড় লাখ টাকা। আমরা সেটা বাড়িয়ে করেছি আড়াই লাখ। শ্রীলঙ্কা থেকে আসার পর এয়ারপোর্টেই মাশরাফি আর তামিম আমাকে ধরে বলে-ভাই, আমাদের বেতনটা একটু বাড়িয়ে দেন না। আমি বলি-বাড়ানো তো হয়েছে। তারা বলল-আরেকটু বাড়ান না, ভাই! আমাকে একজন বলল-একটু বেশি করে বাড়িয়ে দেন। আরেকজন বলল-পঞ্চাশ হাজার বাড়িয়ে দেন। তাহলে হয় তিন লাখ। কিন্তু আমি বললাম, তোমাদের বেতন এখন থেকে চার লাখ। এটাই আমাদের মধ্যে সম্পর্ক। এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় বলতে পারবে, কিছু চেয়েছে আর আমি দেইনি? আমি বুঝতে পারছি না, কি কথা হচ্ছে কেন হচ্ছে। আসলেই বিশ্বাস হচ্ছে না।’

এমএমআর/পিআর