ভারতকে ১৫৪ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২১ পিএম, ০৭ নভেম্বর ২০১৯

শুরুটা হয়েছিল যেমন, টাইগার সমর্থকরা নড়েচড়ে বসেছিলেন-আজ বোধ হয় বড় স্কোরই গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে শুরুর সঙ্গে শেষের মিল পাওয়া গেল না। বাংলাদেশের ইনিংসটা থামলো ৬ উইকেটে ১৫৩ রানে। অর্থাৎ জিততে হলে ভারতকে করতে হবে ১৫৪।

রাজকোটে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে টস হেরে ব্যাটিং করতে নামে টাইগাররা। দারুণ সূচনা করেন দুই ওপেনার লিটন দাস আর নাইম শেখ। দেখেশুনে খেলেছেন তারা, বাজে বলকে সীমানার বাইরে পাঠাতেও দ্বিধা করেননি।

ফলে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিকে বিপদে ফেলতে বেগ পেতে হয়েছে ভারতীয় বোলারদের। এর মধ্যে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বাচ্চাসুলভ এক ভুল করেন পান্ত। ইয়ুজবেন্দ্র চাহালের ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিটি ডাউন দ্য উইকেট খেলতে গিয়ে অনেকটাই এগিয়ে এসেছিলেন লিটন। উইকেটকিপার পান্ত সেই বল ধরে স্ট্যাম্পও ভেঙে দেন।

লিটনও তখন সাজঘরের পথ ধরছেন। কিন্তু আম্পায়ার বললেন, তাকে দাঁড়াতে। আর রিপ্লেতে দেখা গেল পান্তের ভুলটা, উইকেটের সামনে গ্লাভস দিয়ে বল ধরেছেন তিনি। ফলে তৃতীয় আম্পায়ার নটআউট ঘোষণা করেন লিটনকে।

কিন্তু এরপর লিটন ইনিংসটা আর বেশিদূর টেনে নিতে পারেননি। চাহালের পরের ওভারের রানআউটের শিকার হন টাইগার ওপেনার। ওভারের দ্বিতীয় বলটি পায়ে লাগলে কিছু না দেখেই দৌড় দিয়েছিলেন লিটন, পান্ত সেটা একটু সামনে এসে হাতে নিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন। তাতেই ২১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে গড়া লিটনের ২৯ রানের ইনিংসটির অপমৃত্যু ঘটে।

এরপর দারুণ খেলতে থাকা নাইমও ইনিংসের এগারতম ওভারে এসে সাজঘরে ফেরেন। ওয়াশিংটন সুন্দরকে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে বোধ হয় ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাউন্ডারিতে ক্যাচ হয়ে যান তরুণ এই ওপেনার। ৩১ বলে ৫ চারে তিনি তখন ৩৬ রানে।

সৌম্য সরকার তবু চালিয়ে খেলছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ আউট হয়ে যান গত ম্যাচের নায়ক মুশফিকুর রহীম। ৬ বলে মাত্র ৪ রান করে চাহালের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ওই ওভারেই সৌম্যও ফিরলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১০৩ রানে হারায় ৪ উইকেট।

সৌম্যর আউটটি নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। লিটনের স্ট্যাম্পিংয়ের সময় যেভাবে বল ধরেছিলেন পান্ত, অনেকটা সেভাবেই স্ট্যাম্পের সামনে থেকে আরেকবার বল ধরে ফেলেন পান্ত। ফলে তৃতীয় আম্পায়ারের শরণাপন্ন হতে হয়।

সেখানেই ঘটে অবাক করার মতো এক ঘটনা। রিপ্লে দেখে সৌম্যকে ‘নটআউট’ ঘোষণা করে দিয়েছিলেন থার্ড আম্পায়ার। কিন্তু পরক্ষণেই জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘আউট’। ২০ বলে ২ চার আর ১ ছক্কায় সৌম্য করেন ৩০ রান। এরপর আফিফ হোসেন সাজঘরের পথ ধরেন ৮ বলে মাত্র ৬ রান করে।

বিপদের মুখে কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। মোটামুটি মারমুখী ব্যাটিংই করেছেন। কিন্তু যতটা ঝড় তোলার দরকার ছিল, সেই চাহিদা পূরণ করতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক। ২১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩০ রান করে দীপক চাহারের শিকার হন তিনি।

এরপরের ব্যাটসম্যানরা পারেননি টি-টোয়েন্টির ব্যাটিংটা করতে। মোসাদ্দেক হোসেন ৯ বলে ৭ আর আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৫ বলে অপরাজিত থাকেন ৫ রানে। ফলে অল্প পুঁজিতেই থামতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

ভারতের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ইয়ুজবেন্দ্র চাহাল। ৪ ওভারে ২৮ রান খরচায় ২টি উইকেট নেন এই লেগস্পিনার।

এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]