‘ড্র কিংবা টিকে থাকা নয়, ম্যাচ জিততেই মাঠে নামব’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ে মাঠের বাইরে। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে ভারত সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তামিম ইকবালও। স্বাভাবিকভাবেই এই সফরের আগে নেতৃত্বশূন্যতার বড় ধাক্কা লাগে বাংলাদেশ শিবিরে।

বিশেষ করে সবচেয়ে কঠিন ফরমেট টেস্ট নিয়েই চিন্তাটা বেশি। মাঝে সাকিবের বদলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে অধিনায়ক করে ঠেকা কাজ চালানোর চেষ্টা চলেছিল। কিন্তু তার নেতৃত্বে সেভাবে আস্থা পাননি নির্বাচকরা।

ফলে ভাবা হচ্ছিল, ভারতের মত পরাশক্তি ও কঠিন প্রতিপক্ষর বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দল পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন মুশফিকুর রহীম। ঘরের মাঠের ভারত অনেক শক্তিশালী, পরিণত, অভিজ্ঞ ও ঝাঁঝালো এক দল। তাদের বিপক্ষে মুশফিকুর রহীমই হতে পারতেন সেরা বিকল্প। এ মুহূর্তে টেস্ট দলের অনত্যম সিনিয়র সদস্য। অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে মুশফিকের রেকর্ডও ভালো।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে বিসিবি বেছে নিয়েছে মুমিনুল হককে। কক্সবাজারের এ ২৮ বছর বয়সী ছোটখাটো গড়নের বাঁহাতি উইলোবাজের কাঁধেই বর্তেছে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের নেতৃত্ব। বয়সে কম। অভিজ্ঞতায়ও পিছিয়ে। তবে পারফরমার হিসেবে মোটেই পিছিয়ে নেই মুুমিনুল হক।

এখনো টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যাটিং গড় ৪১. ৪৭ তার। টেস্ট পরিসংখ্যানটাও বেশ, ৩৬ টেস্টে রান ২৬২৩। ৮টি শতক আর ১৩ অর্ধশতক ক্যারিয়ারের বাগানে ফুলের মত ফুটে আছে।

এক কথায় টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমার। মাঝে একটু খারাপ সময় গেলেও ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কায় সেঞ্চুরি করে আবার নিজেকে ফিরে পেয়েছেন মুমিনুল। আফগানদের সাথে চট্টগ্রামে দুঃস্বপ্নের টেস্টেও মুমিনুল এক ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন।

এই মুমিনুলকে যে ভবিষ্যত টেস্ট অধিনায়ক ভাবা হচ্ছে, সেটা আঁচ করা গিয়েছিল কদিন আগে জাতীয় লিগের শুরুতেই। তামিম ইকবাল থাকার পরও জাতীয় লিগে চট্টগ্রামের অধিনায়ক করা হয় মুমিনুলকে। এবার তো পেলেন জাতীয় দলের গুরুদায়িত্ব।

প্রথমবারের মতো জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন, সেটাও আবার তারকাখচিত ভারতীয় দলের বিপক্ষে, যারা আবার টেস্টের এক নাম্বার দল। মুমিনুল এই সিরিজ নিয়ে কি ভাবছেন? এ দুই ম্যাচের সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে তার লক্ষ্য কি?

সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের মত ‘দুই দুজন’ সেরা ও সফল পারফরমার ছাড়া মাঠে নামতে কি ভয়ে বুক কাঁপছে? তাদের ছাড়া কি রক্ষণাত্মক মানসিকতায় মাঠে নামবেন? টার্গেটটা আসলে কি? বিরাট কোহলির মত সময়ের সেরা-সফল ক্রিকেটার ও শীর্ষ তারকার বিপক্ষে টস করতে নামার আগের অনুভূতিটাই বা কেমন?

এসব নানা বিষয় নিয়ে দেশ ছাড়ার আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জাগো নিউজের সাথে একান্ত অনেকটা সময় কথা বলেছেন মুমিনুল হক। কেমন ছিল সেই কথোপকথন? আসুন দেখে নেয়া যাক...

জাগো নিউজ : আপনি কি কখনো ভেবেছিলেন এত শীঘ্রই টেস্ট অধিনায়ক হয়ে যাবেন?
মুমিনুল : না, না। আমি কখনো ভাবিনি। কোন সময়ই না। এক মুহূর্তের জন্যও মাথায় আসেনি ক্যাপ্টেন হবো।

MOMI-4.jpg

জাগো নিউজ : যেহেতু টেস্টে নিয়মিত খেলেন। সাকিব, তামিম, মুশফিক আর আপনি ছাড়া সে অর্থে বাংলাদেশ দলে নিয়মিত খেলা টেস্ট খেলোয়াড়ও কম। তাই আপনার অধিনায়কত্ব পাওয়াটা তো খুব অস্বাভাবিক ছিল না। তবু কেন ভাবেননি?
মুমিনুল : ঐ ভাবে কোনদিন চিন্তা হয়নি। আসলে অধিনায়কত্ব নিয়ে আমি কখনো ভাবিইনি। কাণ আমি সব সময় ভালো পারফরমার হতে চেয়েছি। তাই আমার মাথায় অধিনায়ক হবার চেয়ে সব সময়ই একটা চিন্তা কাজ করতো, আমাকে ভালো পারফরমার হতে হবে। নিজ দলের শুধু না, বিশ্বের অন্যতম সেরা পারফরমার হতে হবে। আমার মধ্যে সবসময় চিন্তা ছিল টপ প্লেয়ার হবার। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পারফরমার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছে-আকাঙ্খাই ছিল প্রবল।

জাগো নিউজ : ভারত সফরে টেস্ট সিরিজে আপনি অধিনায়ক হচ্ছেন, আপনাকে দলনায়ক করা হচ্ছে। প্রথম কখন কিভাবে শুনলেন, জানলেন?
মুমিনুল : কোচ বলেছেন, ম্যানেজমেন্ট থেকে ফোন দেয়া হয়েছিল।

জাগো নিউজ : কোচ কি বলেছিলেন, তোমাকে অধিনায়ক করার চিন্তা ভাবনা চলছে, তুমি কি রাজি? কিংবা দায়িত্ব পেলে অধিনায়কত্ব করবে? এমন কিছু কি?
মুমিনুল : ঠিক অমন না। কোচ বললেন, আমরা তোমাকে ক্যাপ্টেন হিসেবে মনোনীত করতে চাচ্ছি, তোমার কি মত? আমি বললাম ঠিক আছে।

MOMI-4.jpg

জাগো নিউজ : অধিনায়ক হিসেবে আপনার যাত্রাই শুরু হচ্ছে বিরাট কোহলির মত সময়ের সেরা পারফরমার ও এক নম্বর তারকার সাথে। আপনার অনুভূতিটা কি? আপনি কি এক্সাইটেড নাকি থ্রিলড?
মুুমিনুল : এত বড় প্লেয়ারের সাথে টস করতে যাওয়া সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার। কারণ আমিতো আর অত বড় প্লেয়ার না। বিরাট কোহলির মত বিশ্বমানের পারফরমারের সাথে টস করতে যাওয়াটা অতি অবশ্যই একটা বড় অপরচ্যুনিটি। একটা বড় সুযোগ। আমি আসলে রোমাঞ্চিত। আমার কাছে সেটা অনেক বেশি রোমাঞ্চের। একটা অন্যরকম সুযোগ।

জাগো নিউজ : এতদিনের কাজ ছিল নিজেকে পারফরমার হিসেবে ঠিক রাখা। শারীরিক, মানসিক ও ক্রিকেটীয় প্রস্তুতিটা সেরে টেস্টের জন্য প্রস্তুত থাকা। এবার সে জায়গায় অধিনায়কত্ব, দল পরিচালনা, মাঠে ও মাঠের বাইরে অনেক দায়িত্ব চলে আসলো। সব মিলে কি কাজ একটু বেশিই হয়ে গেল না? টেস্ট ক্যাপ্টেন্সি কি একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং?

মুুমিনুল : এর ভেতরে চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জ থাকবেই। টেস্ট ক্যাপ্টেন্সি তো আর সহজ বিষয় না। নিজেদের চেয়ে দল নিয়ে ভাবতে হবে অনেক বেশি। প্রতিটি মিনিট, ঘন্টা আর সেশন মাথায় রেখে খেলতে হবে। সেভাবেই দলকে তৈরিও করতে হবে। তাই কাজটি চ্যালেঞ্জিং। তবে আপনি যদি বাড়তি চাপ অনুভব করেন, বা ভেতরে বেশি চাপ নিয়ে ফেলেন, তাহলে সমস্যা। তখন সেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমি সেভাবে না দেখে অন্যরকম ভাবতে চাই। আমার মনে হয় পজিটিভ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারলে বরং খুবই ভালো।

আপনি যখন টেস্ট বা যে কোন ফরম্যাটে ক্যাপ্টেন হবেন, তখন দায়িত্ব কর্তব্য বেড়ে যায়। আমার মনে হয় অধিনায়ক হবার কারণে একজন ক্রিকেটারকে বাস্তবতা মেনেই অনেক কিছুই বাড়তি ভাবনা চিন্তা করতে হয়। তাতে করে তার ক্রিকেট বুদ্ধি ও দূরদর্শিতা বাড়ারও একটা অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি হয়। ক্রিকেট মাথাটা আরও খুলবে। আমি সেভাবেই দেখতে চাই। এখন চ্যালেঞ্জ অনুভব করলেই বাড়তি চাপ অনুভব করবো। তখন ভালোর চেয়ে খারাপ হতে পারে বেশি। তার চেয়ে আমি অধিনায়ক হলে আমার চিন্তাভাবনা প্রসারিত হবে। ক্রিকেট জ্ঞান, মেধা ও বুদ্ধি বাড়বে। ভেতরে ক্রিকেটীয় চিন্তাও কাজ করবে বেশি। সেটা ভাবলেই আমার ক্যারিয়ারের জন্যও ভালো হবে বলে মনে করি। তখন আপনাআপনি নিজের খেলাও উন্নত হবে। ঐ পজিটিভ একটা দিক আছে।

আমি নেতিবাচকভাবে ভাবতে চাইনা। আমি বরং সেটাকে পজিটিভ ভাবে দেখতে চাই। আমার মনে, যে কোন নতুন দায়িত্বের মাঝে যে চ্যালেঞ্জটা থাকে, সেটা শুধু বাড়তি চাপই নয়। অনেক মধুর অভিজ্ঞতাও। আমি সেই মধুর অভিজ্ঞতাটাই নিতে চাই। আমি চ্যালেঞ্জটাকে মধুর চ্যালেঞ্জ ভাবতে চাই। সব কিছু ওভারকামের চেষ্টা করতে চাই।

আর সবচেয়ে চরম সত্য হলো জীবনের সব ক্ষেত্রেই আছে চ্যালেঞ্জ। কখনো কখনো সেই চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি হয়ে দেখা দেয়। আমার টেস্ট ক্যাপ্টেন্সির চ্যালেঞ্জটাও ঠিক তেমনি। আগের চেয়ে চাপ বেশি থাকবে। এখন সেই বাড়তি চ্যালেঞ্জটাকে মানিয়ে নিতে হবে। বাড়তি চ্যালেঞ্জটাকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখলে আর নিলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে। আমি বরং ঠান্ডা মাথায় কী কী বাধা আসতে পারে, সেগুলো ভেবে সমাধানের চিন্তা করতে চাই। তাতে অনেক কিছু শিখতে পারবো।

MOMI-4.jpg

জাগো নিউজ : দল পরিচালনার প্রথম পদক্ষেপেই ভারতের মত বিশ্বসেরা দল। যাদের আছে এক ঝাঁক বিশ্বমানের পারফরমার। কিভাবে দেখছেন?
মুমিনুল : আমার ক্যারিয়ারের প্রথম ক্যাপ্টেন্সিটা অনেক ‘স্ট্রং’ দলের সাথে হচ্ছে। যারা বলা যায় বিশ্বের এক নম্বর দল। বেশ কজন বিশ্বমানের পারফরমার আছেন সেই দলে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি। কারণ এই সিরিজে আমি অনেক কিছুই দেখবো, জানবো। নতুন নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তা মোকাবিলাও করতে হবে। সব মিলে অনেক কিছু শেখা ও নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের একটা বড় সুযোগ ও ক্ষেত্র তৈরি হবে। তাতে করে শুরুতেই অনেক কিছু শেখার সুযোগ থাকবে। আমার মনে হয় অনেক কিছু শিখতে পারবো। সেই শেখাটা আমার ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ের জন্য বিশেষ কার্যকর দাওয়াই হয়ে থাকবে। তখন কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে।

জাগো নিউজ : টেস্ট সিরিজ নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
মুুমিনুল : আমি সব সময় ভালো ও পজিটিভ চিন্তা করতে চাই। করতে ভালবাসি। করিও। আমি ভারতের মত শক্তিশালী ও কঠিন প্রতিপক্ষর বিপক্ষে তাদের মাটিতে খেলতে নামার আগেও সেভাবেই চিন্তা করতে চাই। কোনোরকম নেতিবাচক চিন্তা আমার মাথায় নাই। আমি ড্র‘র জন্য যেতে চাইনা। তিন দিন না চার দিন খেলার জন্যও মাঠে নামবো না।

আমি যখন মাঠে নামবো, জেতার জন্যই মাঠে নামবো। ভারত কত ভালো ও বড় দল সবই আমি জানি। তাদের মাটিতে তাদের সাথে খেলা ও হারানো যে কত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং- তাও খুব ভালোই জানি। কিন্তু মনের দিক থেকে রক্ষণাত্মক থাকতে চাইনা। ডিফেন্সিভ ওয়েতেও যেতে চাই না। জেতার জন্যই নামতে চাই।

জানি অনেকেই আমার এ চিন্তাধারার সাথে হয়তো একমত হবেন না। বলবেন এটা বাস্তবতা নয়। ভারতের মত বিশ্বসেরা দলকে তাদের মাটিতে হারানোর চিন্তা মাথায় নিয়ে মাঠে নামা, বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু আমি আসলে সেভাবে মানে ডিফেন্সিভ ওয়েতে ভাবতে চাই না। আপনি যদি কোন কিছুকে আগে থেকেই মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে ফেলেন, আগে থেকেই যদি ধরে নেই বা মনে স্থির করি ভারতের সাথে জেতার কথা মাথায় রেখে নামলে পারবো না, তাহলে তো চলবে না। আমি বিশ্বাস করি মানুষের ব্রেইন কখনো রিয়্যালিটিতে বিশ্বাস করেনা, যেটা চোখে দেখে সেটাই বিশ্বাস করে।

জাগো নিউজ : জিততে হলে তো দরকার ২০ উইকেট শিকার। ভারতের ২০ উইকেট শিকারের ক্ষমতা কি আছে আপনার দলের বোলারদের?
মুমিনুল : খুব শক্ত প্রশ্ন। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি জানি অনেকে ওভাবেই ভাবছেন। সত্যিই কি আমাদের ভারতকে দুইবার অলআউট করার ক্ষমতা আছে? ভারতীয়দের ২০ উইকেট দখলের মত বোলিং শক্তি আমাদের আছে কি? এ নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হচ্ছে।

আছে কি নেই, আমি আসলে সেভাবে দেখতে চাই না। তা নিয়ে পড়েও থাকতে রাজি নই। আমার দলের বোলারদের ভারতের ২০ উইকেট পতনের ক্ষমতা নেই, এ চিন্তা মাথায় থাকলে আমাদের টেস্ট খেলাই উচিত না। আমার যা আছে, তা নিয়েই খেলতে হবে। সেটা নিয়েই মাঠে নামতে হবে। এবং ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই খেলতে হবে। আমি তো আর আগে থেকে ছেড়ে দিতে পারি না। আমি মাঠে নামার আগে হারতে চাইনা। আমার যে শক্তি, তা যেমনই হোক তা নিয়েই খেলতে নামবো।

আমি ‘প্রফেশনাল’ ওয়েতে আমার কাজটা করতে চাই। যতটুকু পারি, যতক্ষণ পারবো-প্রানপন চেষ্টা করবো। পেশাদার মানসিকতা আর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই দেখতে চাই। আমার নিজের কাছেও একটা জবাবাদিহিতা আছে। আমি সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখতে চাই।

MOMI-4.jpg

জাগো নিউজ : সাকিব আল হাসানকে কতটা মিস করবেন? তার অভাববোধ হবে কতটা?
মুমিনুল : অবশ্যই মিস করবো। সাকিব ভাইকে ১০০ % মিস করবো। সাকিব ভাই আর তামিম ভাই দুইজনেরই খুব অভাব ফিল করবো।

জাগো নিউজ : সাকিব ও তামিমের না থাকাটা কিভাবে দেখছেন?
মুমিনুল : দলের শক্তি কমে যাওয়াই শুধু নয়, সাকিব ভাই না থাকায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় দল সাজাতে। টিম কম্বিননেশনে খুব প্রবলেম হয়। আর সাকিব ভাই থাকলে দল সাজানো খুব সহজ হয়। কারন একজন পারফরমার দিয়ে সাকিব ভাইয়ের জায়গা পূরণ করা সম্ভব হয় না। দুজন লাগে। বাজে একটা ডিসিশনও হয়ে যায়। একজন পারফরমারের জায়গায় দুজনকে খেলানো সহজ নয়। সেই মনোনয়নটা যথার্থ হবেই এমন নয়। একজনের নির্বাচন বা মনোনয়ন খারাপ হলে আরেক সমস্যা। মোট কথা দল সাজানো অনেক কঠিন হবে। মিস তো করবই। কিন্তু কিছুই করার নেই। পরিস্থিতি মেনে নিয়েই খেলতে হবে। যা আছে তা নিয়েই নামতে হবে।

জাগো নিউজ : ওপেনার তামিম ইকবালের অভাববোধ হবে কতটা, আলাদা করে বললে?
মুমিনুল : অনেকটা। তামিম ভাই শুধু যে তিন ফরম্যাটে আমাদের সফল ব্যাটসম্যান তা নন। তার উপস্থিতি দলের ব্যাটসম্যানদের অনুপ্রাণিত করে, সাহস জোগায়। তামিম ভাই শুরুতে ভালো খেলতে থাকলে শুধু যে স্কোর বোর্ড সচল থাকে, রান ওঠে তাই নয়। ড্রেসিংরুমও চাঙ্গা হয়। পরবর্তী ব্যাটসম্যানরাও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। আর তার অভিজ্ঞতাটাও কাজে দেয় অনেক। ভালো খেলার অনুপ্রেরনা হিসেব কাজ করে। এতে করে ব্যাটিং ডিপার্টমেন্ট চাঙ্গা থাকে। তাই তামিম ভাইকেও অনেক মিস করবো।

জাগো নিউজ : আপনার নিজের পারফরমেন্স নিয়ে কি ভাবছেন? বিশেষ কিছু করার তাগিদ বা ইচ্ছে কি ভেতরে কাজ করছে?
মুমিনুল : আপাতত ঠিক নিজের পারফরমেন্স নিয়ে ভাবছি না। আমার ভাবনাটা এখন দলকে নিয়ে । আমার মনে হয় দলকেন্দ্রিক চিন্তা করলে আপনা আপনি নিজের পারফরমেন্সের চিন্তাটাও চলে আসবে মাথায়। দলের কথা চিন্তা করলে অটোমেটিক নিজের দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্যর কথাও মাথায় চলে আসে। যখন অধিনায়ক ছিলাম না। সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে নেমেছি, তখনো যখন দলের কথা ভেবেছি, তখন নিজ থেকেই নিজের দায়িত্ব সচেতনতা চলে এসেছে। আমি সেভাবেই দেখতে চাই।

জাগো নিউজ : সবাই বলেন, ভারতের মাটিতে ‘টিম ইন্ডিয়া’র পাশাপাশি ভারতীয় মিডিয়াকে সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ। কিভাবে সামলাবেন? ভারতীয় প্রচার মাধ্যম তো অনেক কিছু জিজ্ঞেস করবে, যা আগে কখনো করেনি। তা নিয়ে কোন বিশেষ ভাবনা?
মুুমিনুল : আমি সেটা জানি। আমার পূর্ব ধারণা আছে। আমার মনে হয় আমি পুরোপুুরি প্রস্তুত। ভারতীয় মিডিয়াকে কিভাবে সামলানো যায়, সেজন্য নিজেকে তৈরী করে ফেলেছি।

এআরবি/এমএমআর/এমএস