টাইগারদের সামনে প্রধান বাধা কি তাহলে রবিচন্দ্রন অশ্বিন?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

খেলাটা টিম ইন্ডিয়ার সাথে। তবে বেশিরভাগের ধারণা ও বিশ্বাস- ইন্দোরে প্রথম টেস্টে টাইগারদের আসল লড়াই হবে ভারত অধিপতি বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পুজারা ও আজিঙ্কা রাহানের সাথে। মানে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সাথেই মূল লড়াই করতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের।

খালি চোখে এমনটাই মনে হবে। তা হবার কারণও আছে। বিরাট কোহলিতো রীতিমত রান মেশিন। এমনিতে টেস্ট পরিসংখ্যান তত সমৃদ্ধ না হলেও রোহিত শর্মার সাম্প্রতিক ফর্মও দুর্দান্ত। এছাড়া রাহানে ও চেতেশ্বর পুজারার ব্যাটেও রানের ফলগুধারা বইছে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই মনে হচ্ছে রোহিত, বিরাট, পুজারা ও রাহানের গড়া ভারতীয় ব্যাটসম্যানরাই হয়ত সিরিজ ভাগ্য গড়ে দেবেন। তারা তা পারেন। বিশ্বের যে কোন বোলিং শক্তির বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সে সামর্থ্য আছে।

এ মুহূর্তে ভারতীয় ব্যাটিংই বিশ্বসেরা। বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পুজারা, আজিঙ্কা রাহানে ও রোহিত শর্মার গড়া ভারতীয় ব্যাটিং নিঃসন্দেহে বিশ্বসেরা। কোন পরিসংখ্যান ঘাঁটারও দরকার নেই। আইসিসির বর্তমান টেস্ট র্যাঙ্কিংটা একনজর দেখলেই মিলবে এ সত্যের দেখা। আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০ ব্যাটসম্যানের চারজনই ভারতীয়- বিরাট কোহলি (১), চেতেশ্বর পুজারা (৪), আজিঙ্কা রাহানে (৫) ও রোহিত শর্মা (১০)।

এই তো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ সিরিজেও কোহলি ও রোহিত শর্মা দুজনারই ডাবল সেঞ্চুরি আছে। বিরাট কোহলি একাই একশো। টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেননি। খুব স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় অধিনায়ক আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেকে মেলে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

এমনিতেই তার রেকর্ড-পরিসংখ্যান অস্বাভাবিক রকমের ভাল। ৮২ টেস্টে রান ৭ হাজারের (৭০৬৬) ওপরে, যিনি এরই মধ্যে ২৬ টেস্ট সেঞ্চুরি ও ২২ হাফ সেঞ্চুরির মালিক- সেই কোহলি একাই টেস্টে কোন দলের বোলিং ডিপার্টমেন্টকে দুমড়ে মুচড়ে তছনচ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ।

তার সঙ্গী উইলোবজরাও কিন্তু কম ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক নন। তারা ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন। তাদের স্বচ্ছন্দ-সাবলীল ব্যাটিং এবং লম্বা ইনিংস খেলা থেকে বিরত রাখা মোটেই সহজ হবে না টাইগার বোলারদের জন্য। তাই অনেকেই শঙ্কিত, রান পাহাড়েই না আবার চাপা পড়তে হয় রিয়াদ বাহিনীকে।

কিন্তু কার্যক্ষেত্রে শুধু কোহলি, রোহিত, পুজারা ও রাহানেরা নন, বাংলাদেশের বড় চিন্তার কারণ হতে পারেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, এই অফস্পিনারই শেষ পর্যন্ত বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেন। তাকে খেলাটাই দুঃসাধ্য হয়ে উঠতে পারে।

আর যে মাঠে খেলা হবে ইন্দোরের এই হলকার ক্রিকেট স্টেডিয়াম যে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সাফল্যের স্বর্গ! এই মাঠে এর আগে একটি মাত্র টেস্ট হয়েছে। ২০১৬ সালের ৮-১১ অক্টোবরে হওয়া ওই ম্যাচে ভারতের সামনে হালি পানি পায়নি নিউজিল্যান্ড। একপেশে ওই ম্যাচে ভারত জিতেছিল ৩২১ রানের হিমালয় সমান ব্যবধানে। অধিনায়ক বিরাট কোহলি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। তার ব্যাট থেকে এসেছিল অনেক লম্বা চওড়া ইনিংস। সেটা অবশ্য কোহলি স্টাইলে নয়।

৫৩৬ মিনিট উইকেটে কাটিয়ে ৩৬৬ বলে ২০১ রানের হার না মানা ইনিংস সাজিয়েছিলেন ভারত অধিপতি। সাথে প্রথম ইনিংসে আজিঙ্কা রাহানেও (৫১৩ মিনিটে ৩৮১ বলে ১৮৮) খেলেছিলেন ১৮০ প্লাস রানের এক বিরাট ইনিংস। বিরাট কোহলি আর রাহানে জুটি চতুর্থ উইকেটে ৩৬৫ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপও গড়ে তুলেছিলেন।

পরের ইনিংসে শতরান করেছিলেন আরেক উইলোবাজ চেতেশ্বর পুজারা (১৪৮ বলে ১০১*); কিন্তু ওই তিনজনের কেউই ম্যাচ সেরা নন। সবাইকে টপকে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছে অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কারণ, এই ভারতীয় অফব্রেক বোলারের স্পিন মায়াজালেই আটকা পড়েন ব্ল্যাক ক্যাপ্সরা।

উভয় ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট শিকারি অশ্বিন প্রথম ইনিংসে ৮১ রানে ৬ আর পরেরবার ৫৯ রানে ৭ উইকেট শিকার করে ১৪০ রানে ১৩ উইকেট ঝুলিতে পুরে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগারের মালিক বনে দলের জয়ের নায়কও হন।

সেই মাঠেই কাল শুরু বাংলাদেশ আর ভারতের প্রথম টেস্ট। শুধু দুই বছর আগের সেই টেস্টের কথা বলা কেন, ভারত যে গত অক্টোবর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন টেস্ট ম্যাচের সিরিজে প্রোটিয়াদের নাকালের পাশাপাশি হোয়াইটওয়াশ করেছে, সেই সিরিজেও ভারতে সেরা বোলিং পারফরমার ছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

তিন টেস্টে তার উইকেট (৭/১৪৫+১/৪৪, ৪/৬৯+২/৪৫, ০/৪৮+১/২৮) সংখ্যা ছিল ১৫টি। কাজেই অশ্বিনই লিটন দাস, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের সামনে বড় বাঁধা হয়ে উঠতে পারেন। পাশাপাশি মোহাম্মদ শামি, উমেষ যাদব আর ইশান্ত শর্মার প্রচন্ড গতি ও বারুদ বোলিংও কিন্তু সামলাতে হবে টাইগার ব্যাটসম্যানদের।

এআরবি/আইএইচএস/পিআর