ইন্দোরে বাংলাদেশ একাদশে সাত ব্যাটসম্যান, দুই স্পিনার ও পেসার!

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৪ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের টিম কম্বিনেশন কি হবে? কোন ১১ জন খেলবেন? অধিনায়ক মুমিনুল হক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সন্মেলনে তা জানাতে পারেননি।

মুঠোফোনে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুকেও। আজ বুধবার সন্ধ্যার পরে তিনিও জাগো নিউজকে একাদশ জানাতে পারেননি। কারণ, আজ ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার পরে (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে সাতটা থেকে আটটা) টিম মিটিংয়ে ঠিক হবে দল।

একাদশ না বললেও প্রধান নির্বাচকের কথায় কিছু আভাস ঠিকই আছে। প্রশ্ন ছিল ইতিহাস জানাচ্ছে, ৩৭ মাস আগে (২০১৬ সালের অক্টোবরে) ইন্দোরের এই মাঠে হওয়া একমাত্র টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং (১৩/১৪০) করে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন ভারতীয় অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই টেস্টে অফব্রেক বোলার অশ্বিন উভয় ইনিংসে পাঁচের বেশি উইকেটও দখল করে ভারতের জয়ের ভিতও গড়ে দিয়েছিলেন। তার মানে কি ইন্দোরের পিচ হবে স্লো অ্যান্ড স্পিনিং?

এই প্রশ্ন করা মাত্র নান্নুর সোজা সাপ্টা জবাব, ‘আরে না না। তিন বছর আগে কি ছিল, কে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। সেটা ধরার বিষয় নয়। এখন পিচের চেহারা কেমন, আচার আচরণ ও গতি-প্রকৃতি কেমন হবে সেটাই দেখার বিষয়। মনে হয় না স্পিন ট্র্যাক। শক্ত লাল মাটির পিচ। উপরে কিছু কচি সবুজ ঘাসও আছে।’

ইন্দোরে অবস্থানরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বেশ কয়ে জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘উইকেট শক্ত লাল মাটির। একটু হার্ড সারফেস।’

অবশ্য তার মানে এটা পেস বোলিং ফ্রেন্ডলি উইকেটও নয়। তাদের কথা, আসলে স্পোর্টিং উইকেট। জানা গেছে, বল ব্যাটে আসবে। বাউন্সটাও সমান ও স্থিতিশীল থাকবে। ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি পেসাররাও সহায়তা পাবে। তারপর সময়ের প্রবাহমানতায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকলে হয়ত পেসারদের বোলিংয়ে বুটের ক্ষত তৈরি হয়ে খানিক স্পিন সহায়কও হতে পারে।

এমন উইকেটে ভারত যে তিন পেসার নিয়ে খেলবে- তা ধরেই নেয়া যায়। অধিনায়ক বিরাট কোহলিও তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাহলে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের টিম কম্বিনেশন কি হবে?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ যথারীতি ব্যাটিং মজবুত করে, মানে লম্বা ও গভীরতা বাড়িয়েই মাঠে নামার চিন্তা ভাবনা করছে। বাংলাদেশ সম্ভবত সনাতন ধারা অনুস্মরণ করে ৭ ব্যাটসম্যান আর চার স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে দল সাজানোর কথা ভাবছে এবং সম্ভবত সেটাই হতে যাচ্ছে।

যতদুর জানা গেছে, তাহলো যেহেতু ভারত অভিজ্ঞ দল। তাদের পেস আর স্পিন বোলিংও সমান ধারালো। বৈচিত্র্যও আছে বেশ। তাই বাংলাদেশের একাদশে নতুন কারো অন্তর্ভূক্তি মানে একমাত্র নতুন মুখ সাইফ হাসানের ইন্দোরে অভিষেকের সম্ভাবনা খুব কম।

তার বদলে অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েসকে খেলানোর চিন্তাই বেশি। সাদমান ইসলামের সঙ্গী হিসেবে ইমরুলকে দেখা যাবে- এমন আভাস মিলছে সবদিক থেকেই। তিন নম্বরে অধিনায়ক মুমিনুল হক। যেহেতু মুশফিকুর রহীম কিপিং করবেন না, তাই তার চার নম্বরে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। এরপর পাঁচে হয়ত মোহাম্মদ মিঠুন আসবেন। ছয় ও সাত নম্বর পজিশন দুটি লিটন দাস আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জন্যই বরাদ্ধ। তবে কে ছয়ে আর কে সাতে তা ঠিক হয়নি এখনো।

এই সাত ব্যাটসম্যানের সাথে দু’জন করে পেসার ও স্পিনার খেলানোর কথাই শোনা যাচ্ছে। তেমন পরিকল্পনাও নাকি আছে দলের মধ্যে।

উইকেট যতই স্পোর্টিং হোক, তিন পেসার খেলানোর সম্ভাবনা খোদ প্রধান নির্বাচকই নাকচ করে দিয়েছেন। জাগো নিউজের সাথে আলাপে তিনি শুধু একটি কথাই বলেছেন। তাহলো, ‘আমরা ব্যাটিং শক্তি কমানোর কথা ভাবছি না একদমই। আর পেসার না স্পিনার বেশি? তা ঠিক হয়নি। সেটাই বসে স্থির করা হবে।’

তার মানে সাত ব্যাটসম্যান ঠিকই থাকবে। এখন দু’জন করে পেসার ও স্পিনার খেলানো হলেই দলে স্থিতি থাকে। কারণ, অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ব্যাট করতে পারেন। আরেক অফ ব্রেক বোলার নাঈম হাসানেরও ব্যাট করার ক্ষমতা আছে। তাদের যে কেউ খেলবেন। সাকিব আল হাসান যেহেতু নেই, তাই বাঁহাতি অর্থোডক্ক স্পিনার তাইজুলও অটোমেটিক চয়েজ হয়ে গেছেন। এর সাথে দু’জন পেসার। তারা কারা? মোস্তাফিজ, ইবাদত, আবু জায়েদ রাহী আর আল আমিনের যে কোন দু’জন?

পেসার নিয়ে আছে বড় ধরনের সংশয়। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভাল বল করার সুবাদে আল আমিনের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। সাথে ইবাদত না মোস্তাফিজ? সেটাই দেখার বিষয়। তার মানে কি দাড়ালো? সাত ব্যাটসম্যান প্লাস ২ জন করে পেসার ও স্পিনার।

আসুন তাহলে একাদশ মিলিয়ে নেই!

সাদমান ইসলাম, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস (উইরেকটরক্ষক), মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আল আমিন, মোস্তাফিজুর রহমান/ইবাদত হোসেন।

এআরবি/আইএইচএস/পিআর