টাইগার অধিনায়কের এ কেমন অজুহাত!

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সিরিজ শুরুর আগে মুমিনুল হকের কণ্ঠে ছিল সাহসী ক্রিকেটের প্রতিশ্রুতি। মাঠে তার দলের ব্যাটসম্যানরা দেখালেন উল্টো চিত্র। ভারতীয় বোলারদের দেখেই যেন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন ইমরুল-সাদমান-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা। ভয়ে ভয়ে ব্যাট চালাচ্ছিলেন, না বুঝেই শট খেলছিলেন। ফলাফল, যা হওয়ার তাই হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানেই গুটিয়ে গিয়ে কোণঠাসা টাইগাররা।

টেস্টে ভারতের বোলিং আক্রমণ এখন বিশ্বমানের। সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ভারতীয় বোলাররা কি আসলেই খুব ভয়ংকর বোলিং করেছেন? উইকেটও কি 'আনপ্লেয়বেল' ছিল? টাইগার ব্যাটসম্যানদের অ্যাপ্রোচ এপ্লিকেশন দেখে কিন্তু এমনটাই মনে হয়েছে। মনে হচ্ছিল, ব্যাট হাতে মাঠে নেমে যেন ভয়ে কুঁকড়ে ছিলেন তারা।

দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুলও মেনে নিলেন, উইকেট ওতটা কঠিন ছিল না। তার ভাষায়, ‘আমার মতে উইকেট আনপ্লেয়বল ছিল না। আমার মনে হয় আমরা বিশ্বের এক নাম্বার বোলিং শক্তির দলের বিপক্ষে খেলেছি। মানসিকতা শক্ত ছিল না। আমরা মানসিকতায়ই পিছিয়ে ছিলাম। যদি উইকেট আনপ্লেয়বেল হতো, তবে ব্যাটসম্যানদের গায়ে বল লাগতো। উইকেট এমন ছিল না। আমাদের সিদ্ধান্তই ভুল ছিল।’

কিন্তু এত বছর ধরে টেস্ট খেলেও কেন মানসিকতায় পিছিয়ে থাকবে বাংলাদেশ? সেটার জবাবে মুমিনুল যা বললেন, শুনলে অনেকের অবাক লাগতে পারে। টাইগার দলের টেস্ট অধিনায়কের মতে, সাংবাদিকরাও এজন্য কিছুটা দায়ী। বারবার প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে বলে অদৃশ্য এক চাপ তৈরি করে দেন তারা।

মুমিনুল বলেন, ‘আমি যদি একটা কথা বলি আপনাদের কাছে হয়তো হাস্যকর লাগবে। যে কোনো সিরিজ শুরু করার আগে আপনাদের একটা বড় ভূমিকা থাকে। কথাটা হয়তো আমার বিরুদ্ধে আসতে পারে। আপনারা অন্যভাবে নিয়েন না। আফগানিস্তানের সঙ্গে যখন খেলি আপনারা এমনভাবে প্রশ্ন করেন যে রশিদ খান আছে এই আছে সেই আছে। জিনিসটা যতই চিন্তা না করেন আপনার মাথায় ঢুকবে। এভাবে কঠিন হয়ে যায় (খেলা)। তবে আমাদের মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে হবে।’

মুমিনুল আরও যোগ করেন, ‘আপনারা প্রশ্ন যেই করেন উত্তর আমাকেই দিতে হবে। মাঝে মাঝে হয় যে আপনি যে প্রসঙ্গ আনেন, আমি হয়তো চিন্তা করিনি আগে ওটা। মানুষের মনটাই এমন কিছু ঢুকিয়ে দিলে ভাবনা চলে আসে। তবে একমত আমার বা সবার মানসিকভাবে আরো বেশি শক্ত হতে হবে।’

এমএমআর/এমকেএইচ