পাপনের মন তো ভেঙে গেছে টেস্ট শুরুর আগেই

শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ
শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ , স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এবারের ভারত সফর নিয়ে শুরু থেকেই আগ্রহ-উত্তেজনা একটু বেশিই ছিলো বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের মাঝে। সংবাদ মাধ্যমে ঘটা করে বলেই দিয়েছিলেন, ‘কেউ যদি ভারতকে তাদের মাটিতে হারাতে পারে, সেটা বাংলাদেশই।’

বিসিবি সভাপতির এই কথা যে একদমই অমূলক ছিলো না, তার প্রমাণ মিলেছে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই। যেখানে ৭ উইকেটের দারুণ এক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরে দ্বিতীয় ম্যাচটি হারলেও, শেষ ম্যাচে জয়ের আশা জাগিয়েছিল টাইগাররা।

কিন্তু শেষদিকে ব্যাটসম্যানদের অদ্ভুত ব্যর্থতায় হারতে হয়েছে সেই ম্যাচটি। ফলে খুব কাছে গিয়েও পাওয়া হয়নি ভারতকে তাদেরই মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারানোর গৌরব। যা রীতিমতো হতবাক করে দিয়েছে বোর্ড প্রেসিডেন্টকে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হয়ে প্রথম টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে, এখনও সেই শেষ ম্যাচ হারের শোকই ভুলতে পারছেন না পাপন।

প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি মাঠে বসেই দেখেছিলেন বিসিবি সভাপতি। দেশে কাজ থাকায় ছিলেন না দ্বিতীয় ম্যাচে। তবে সিরিজ জয়ের আশায় উপস্থিত হয়েছিলেন নাগপুরে সিরিজের শেষ ম্যাচে। সেখানেও জয়ের আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আবারও সেই সুযোগ হাতছাড়া করে পুড়তে হয়েছে সিরিজ হারের যন্ত্রণায়।

এতো কাছে গিয়ে সিরিজ হাতছাড়া হওয়াটা একদমই মেনে নিতে পারেননি পাপন। দেশে ফিরে নিজের বাসা থেকেই বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। কেননা তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো, এবার অন্তত টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিততে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ ম্যাচের অমন হারের কোনো ব্যাখ্যাই দাঁড় করাতে পারছেন না বিসিবি সভাপতি।

আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বঙ্গবন্ধু বিপিএল-২০১৯'র লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে এসব কথা জানিয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। আজই শেষ হওয়া টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের হতাশাজনক পরাজয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ফিরে যান টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘টেস্টের কথা কী বলবো! এই ম্যাচের আগেই তো আমার মন ভেঙে গেছে। টেস্ট তো পরে। এবারের এ সফরে অনেক আশা ছিলো। অন্তত টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিতবো। এর আগে আমরা ভারতের বিপক্ষে তিন-তিনবার একদম শেষ বলে বা শেষ ওভারে গিয়ে জেতা ম্যাচ হেরে গিয়েছি। বিশ্বকাপ, নিদাহাস ট্রফি বা এশিয়া কাপ বলেন- খুব কাছে গিয়ে হেরেছি আমরা। এর মধ্যে নিশ্চিত জেতার কথা ছিলো বিশ্বকাপ নিদাহাসের ম্যাচটা- এ দুইটা ম্যাচ হারার কোনো কারণই ছিলো না।’

তিনি বলতে থাকেন, ‘যাইহোক, এবার আমার অন্তত মনেপ্রাণে বিশ্বাস ছিলো যে, সিরিজটা আমরা জিতবো। এমন একটা সাহস ছিলো আমাদের। প্রথম ম্যাচটা আমরা ভালো খেলে জিতলাম। পরের ম্যাচটা ওরা ভালো খেলেছে, অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচটা! এটা আমাদের নিশ্চিত জেতা ম্যাচ ছিলো।’

এসময় তিনি জানান, এখনও শেষ ম্যাচের হারটা মানতে পারছেন না। বিসিবি সভাপতির ভাষ্যে, ‘শেষ ম্যাচটা হারের পর আমি নিজেই আশাহত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি বাসা থেকেই বের হইনি কয়েকদিন। আপনারাও হয়তো খেয়াল করেছেন, আমি বাসা থেকেই বের হতে চাইনি। আমি এখনও এটা মেনেই নিতে পারছি না।’

পাপন আরও বলেন, ‘নাইমের মতো একটা ছেলে যদি এই রান (৮১) করতে পারে, মিঠুন যদি এতো ভালো সহায়তা করতে পারে- আর বাকি আমাদের যারা মূল খেলোয়াড়, যাদের এতোদিন ধরে আমরা পরিচর্যা করছি...আপনি যদি শুধু হিসেব করে দেখেন সৌম্য, লিটন, মুশফিক, রিয়াদ- ওদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তো আর নেই। এরা চারজন যদি ৪০ রানও করতে পারতো- তাহলে বাকি ৭ রান এমনিই হয়ে যেত।’

‘এখন ফাইনালে গিয়ে যদি আমরা ওদের কাছ থেকে না পাই, তাহলে এটা তো আমাদের ব্যাড লাক। ওরা তো খারাপ প্লেয়ার না। হয় না কেনো জানি না। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষেই এটা আরও বেশি হয়। কিন্তু এবার একদম মনে প্রাণে বিশ্বাস ছিলো যে, আমরা জিতবোই। সেটা হয়নি, কাজেই সে শোকই এখনও ভুলতে পারছি না।’

এসএএস/এমএমআর/এমকেএইচ