বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট এবার সন্ধ্যায় কেন?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

ভারতের মাটিতে টেস্টে প্রিয় দলের অনুজ্জ্বল ও শ্রীহীন পারফরম্যান্স দেখে ভক্ত ও সমর্থকরা যারপরণাই হতাশ। তিন বিভাগেই ব্যর্থ। তার মধ্যে ব্যাটিংয়ের অবস্থা তো করুণ। তারপরও উঠেছে প্রশ্ন, ইন্দোরে প্রথম টেস্টে মুমিনুল হক বাহিনীর এমন পরিণতি কি খুব অস্বাভাবিক?

শুনতে কানে লাগতে পারে। তবে নির্জলা সত্য, যে দল আফগানিস্তানের মত টেস্ট শিশুর সাথে পেরে ওঠেনি ঘরের মাঠে, খাবি খেয়েছে। তিন দিনে ২২৪ রানের বিরাট ব্যবধানে হেরেছে। সেই দল ভারতের মাটিতে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, চেতেশ্বর পূজারা, আজিঙ্কা রাহানে, মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদব, রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের সাথে তিন দিনে ইনিংসে হারতেই পারে। হতাশাজনক হলেও সেটা অস্বাভাবিক নয়।

ধরে নেয়া যায়, খোদ বোর্ড কর্তারাও হয়তো ভেবেছিলেন, চারদিনেই খেলা শেষ হয়ে যাবে। হলো তারও একদিন আগে। তিনদিনের মধ্যেই ইনিংস পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো মুমিনুলের দল।

ভাবছেন, হঠাৎ এর মধ্যে আবার বোর্ড কর্তাদের কথা আর চার দিনে ভারতের কাছে হেরে যাওয়ার প্রসঙ্গ আসছে কেন? আসছে এই কারণে যে ইন্দোর টেস্ট ১৪ নভেম্বর শুরু, তা জানার পরও ১৭ নভেম্বর বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটের দিন তারিখ ঠিক করে রাখা হয়। বিপিএল আয়োজক, ব্যবস্থাপক কমিটি বোধ হয় ধরেই নিয়েছিলেন, চতুর্থ দিনেই শেষ হয়ে যাবে টেস্ট। তাই ঐ দিন সন্ধ্যার পর প্লেয়ার্স ড্রাফটের সূচি ঠিক করা হয়েছে।

যদিও ঐ টেস্টের সাথে বিপিএল প্লেয়ার্স ড্রাফটের কোনই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ বা মিল নেই। তারপরও খেলা চলাকালীন সময় প্লেয়ার্স ড্রাফট করার অর্থ টেস্ট থেকে খানিকের জন্য হলেও চোখ সরিয়ে নিতে হতো।

বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট মানেই সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে কাজ শেষ। কিন্তু এবারই হচ্ছে ব্যতিক্রম। ইন্দোর টেস্টের সূচি দেখেই ঠিক করা হয়েছিল, প্লেয়ার্স ড্রাফট হবে ১৭ নভেম্বর টেস্টের চতুর্থ দিন সন্ধ্যায়।

আজ বিপিএলের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে কর্তাদের আক্ষেপ, রোববার দিনে ইন্দোর টেস্ট চলতে থাকবে ভেবে সন্ধ্যায় বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠানের সময় ঠিক করা হয়েছিল। খেলাতো আজ তিন দিনেই শেষ। এখন আর সময় বদলে কাল রোববার সন্ধ্যা থেকে সকালে এগিয়ে আনার সুযোগ নেই।

৭ দলের টিম ডিরেক্টর চূড়ান্ত

রোববার সন্ধ্যায় রেডিসনে প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠানের ২৪ ঘন্টা আগে ৭ প্রতিযোগী দলের নাম, স্পন্সর পার্টনার ও টিম ডিরেক্টর এর আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করেছে বিপিএল কর্তৃপক্ষ। আগে ঘোষিত নামে অল্প কিছু রদবদল আনা হয়েছে।

ঢাকার নাম বদলেছে। প্রথমে রাখা হয়েছিল ‘ঢাকা নবাব’। এখন তা পাল্টে ‘ঢাকা প্লাটুন’ রাখা হয়েছে। টিম পরিচালক পদেও একটু পরিবর্তন এসেছে। বোর্ডের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার এনায়েত হোসেন সিরাজকে শেষ মুহূর্তে টিম ডিরেক্টর করা হয়েছে। এছাড়া জালাল ইউনুস, জাতীয় দলের সাবেক তিন অধিনায়ক-আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন ও নাইমুর রহমান দুর্জয় ঠিকই টিম ডিরেক্টর থাকছেন।

স্পন্সর পার্টনারগুলো হলো যমুনা ব্যাক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আকতার গ্রুপ, জেভিনি ফুটওয়্যার অ্যান্ড ক্রাফট, আইসিপি লিমিটেড। আর দুটি দল চলবে বিসিবির ব্যবস্থাপনায়।

যমুনা ব্যাংক হলো ঢাকার স্পন্সর পার্টনার। দলের নাম ঠিক করা হয়েছে ‘ঢাকা প্লাটুন।’ প্রিমিয়ার ব্যাংক হয়েছে ‘খুলনা টাইগার্স’র স্পন্সর পার্টনার। আকতার গ্রুপ হয়েছে ‘চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স’ এর স্পন্সর পার্টনার। জেভিনি ফুটওয়্যার হলো ‘সিলেট থান্ডার্স’র স্পন্সর পার্টনার। আর আইসিপি হলো ‘রাজশাহী রয়েলস’র স্পন্সর। আর বিসিবির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে ‘কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স’ ও ‘রংপুর রেঞ্জার্স’।

এদিকে বিসিবির ৭ পরিচালককে ৭ দলের টিম ডিরেক্টরও করা হয়েছে। বিসিবির সিনিয়র পরিচালক ও কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন সিরাজ রাজশাহী রয়েলসের টিম ডিরেক্টর। আরেক সিনিয়র বোর্ড পরিচালক জালাল ইউনুস মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের টিম ডিরেক্টর। আকরাম খান কাজ করবেন রংপুর রেঞ্জার্সের টিম পরিচালক হিসেবে। খালেদ মাহমুদ সুজন হয়েছেন খুলনা টাইগার্সের, নাইমুর রহমান দুর্জয় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের, তানজিল চৌধুরী সিলেট থান্ডার্সের টিম ডিরেক্টর। ঢাকা প্লাটুনের টিম ডিরেক্টর হলেন গোলাম মর্তুজা পাপ্পা।

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ