শাহাদাতের ঘটনায় নাটের গুরু শহীদ, শাস্তি পাবেন তিনিও

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

শাহাদাত হোসেন রাজিবের ঘটনায় কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে এসেছে। শাহাদাত রাজিব আগামী তিন বছরের জন্য ক্রিকেট মাঠ থেকে নিষিদ্ধ হলেও একই অপরাধের আরেক জন আড়ালেই থেকে গেছেন।

জানা গেছে, খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে স্বাগতিক খুলনার বিপক্ষে ঢাকার তরুণ আরাফাত সানি জুনিয়রের গায়ে হাত তুলে শাহাদাত হোসেন রাজিব নিষিদ্ধ হলেও, ঐ ঘটনার মুল হোতা হলেন একই দলের ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ শহীদ।

তিনিই প্রথম ছুটে গিয়ে মিড অফ ফিল্ডার আরাফাত সানিকে শাসান এবং ধাক্কা দেন। পরে রাজিব ছুটে গিয়ে প্রথমে থাপ্পড় ও পড়ে লাথি মারে আরাফাত সানিকে। কিন্তু ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে শহীদকে সেভাবে দোষী দেখানো হয়নি।

তাই প্রাথমিকভাবে শাহাদাত হোসেন রাজিবের সঙ্গে পেসার শহীদ বড় ধরনের শাস্তির হাত থেকে বেঁচে যান। তবে আজ (মঙ্গলবার) বিসিবিতে টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকে শহীদের বিষয়টিও উঠে আসে।

শাহাদাত রাজিব ইস্যুতে আম্পায়ার্স রিপোর্ট ও ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ শিপারের দাখিল করা প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের পর জাতীয় লিগের টেকনিক্যাল কমিটি চেয়ারম্যান মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কাছে মনে হয়েছে বোলার শহীদই প্রথম তেড়ে যান এবং ঘটনার মূল হোতা তিনিই।

বলার অপেক্ষা রাখে না, শহীদের বোলিংয়ের সময়ই ঘটনাটি ঘটে। রোববার খেলা চলাকালিন শহীদের বোলিংয়ের সময় মিড অফ ফিল্ডার আরাফাত সানিকে বল ঘষে দেয়ার কথা বলেছিলেন মিড অনে দাড়ানো শাহাদাত। আরাফাত সানি তা না শোনায় ঘটে বিপত্তি। তেড়ে গিয়ে মেরে বসেন শাহাদাত রাজিব। সে খবরই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

কারণ ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ শিপারের রিপোর্টে শহীদের বিপক্ষে বড় ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধের কথা উল্লেখ ছিল না। কিন্তু আম্পায়ার্স রিপোর্ট ও অন্য সাক্ষ্য প্রমাণের পর বেরিয়ে এসেছে আরাফাত সানি জুনিয়র বল না ঘষে দেয়ায় প্রথম প্রতিক্রিয়াটা দেখান বোলার শহীদ এবং তিনিই প্রথম তেড়ে গিয়ে আরাফাত সানিকে ধাক্কা মারেন।

এ প্রসঙ্গে মিনহ্জাুল আবেদিন নান্নু জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা খুটিয়ে দেখেছি শহীদও এ অনাকাঙ্খিত ও উশৃঙ্খল কার্যক্রমের অন্যতম হোতা। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তারও দায় আছে। যেহেতু ম্যাচ রেফারি রিপোর্টে শহীদের বিরুদ্ধে বিশেষ কিছু লিখা ছিল না, তাই প্রাথমিকভাবে তার বিপক্ষে কোন বড় ধরনের ডিসিপ্লিনারি শাস্তি নেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমরা জেনেছি শহীদেরও দোষ আছে। তারও দায় কম না। তাই আমরা শহীদকেও শাস্তির আওতায় আনতে যাচ্ছি। তার বিষয়ে বসে একটা সিদ্ধান্ত হবে। এটা নিশ্চিত শহীদের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তির খরগ ঝুলবে।’

শাহাদাত রাজিবকে লেভেল-৪ শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করলেও, মূল হোতা শহীদকে বড় ধরনের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত ছিলেন ম্যাচ রেফারি আকতার আহমেদ শিপার। প্রধান নির্বাচক জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘শহীদের বিপক্ষে লেভেল-২ ধরে ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ কেটে নেয়ার কথা বলেছেন ম্যাচ রেফারি।’

এতে খানিক বিস্ময় প্রকাশ করে নান্নু বলেন, ‘শহীদের ব্যাপারেও বড় ধরনের শাস্তি দেয়া উচিৎ ছিল। যেহেতু ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুরো বিচার কার্যক্রমটা পরিচালিত হয়, তাই টেকনিক্যাল ও ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে সবসময় ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ার্স রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই মূল কাজটা করতে হয়। শাহাদাতের বিষয়ে লেভেল-৪ অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু শহীদকে দেখানো হয়েছে লেভেল-২’র অপরাধী।’

এআরবি/এসএএস/এমকেএইচ