কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে নিয়ে বড় স্বপ্ন নান্নু-দুর্জয়ের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

প্লেয়ার্স ড্রাফট শেষে কাগজে কলমে এক নম্বর দল কোনটি? জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, বিসিবি পরিচালক এবং কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের টিম ডিরেক্টর নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের চোখে, প্লেয়ার্স ড্রাফট শেষে ঢাকা একটু ভালো।

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক ঢাকাকেই এগিয়ে রাখলেন। তার চোখে কাগজে কলমের হিসেব কষলে ঢাকাকে এক নম্বর ধরতে হবে। অভিজ্ঞতাই ঢাকার মূল সম্পদ ও শক্তি। একথা বললেও নিজ দল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে একটুও পিছিয়ে রাখতে নারাজ নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তার চোখে, ‘কুমিল্লাও ভাল দল। আমরা ইচ্ছে করেই অভিজ্ঞ ও পরিণতদের চেয়ে ইয়ং প্লেয়ারদের একটু এক্সপোজার দিতে চেয়েছি। তাই দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই তরুণ। অবশ্য এর সাথে আমরা আরও দুজন ভালমানের ফরেনার ক্রিকেটার যোগ করবো।’

তারা কারা? তাদের নাম-ধাম না জানালেও ঢাকার টিম ডিরেক্টর নাঈমুর রহমান দুর্জয় মনে করেন, দু’জন ভাল ও উঁচু মানের বিদেশি ক্রিকেটার যুক্ত হলে কুমিল্লা আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালি দল হবে।

নাঈমুর রহমান তেমন মনে করতে পারেন। কারণ, ঢাকার মত এতগুলো পরিণত ও অভিজ্ঞ পারফরমার হয়তো নেই, তবে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সে আছেন কয়েকজন তরুণ, যারা সত্যিকার পারফরমার। আছেন সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন আর ইয়াসির আলী রাব্বির মত ব্যাটিং পারফরমার।

তিনজনই একদম ফ্রি স্ট্রোক মেকার। শটস খেলতে ভালবাসেন। পারেনও। সামর্থ্য আছে অনেক ভাল খেলার। এই তিন যুবা সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে কুমিল্লার ব্যাটিং অনেক দলের চেয়ে ভাল হয়ে যাবে। সঙ্গে আল আমিন হোসেন-আবু হায়দার রনির মত প্রতিষ্ঠিত পেসাররাও আছেন।

আর সাথে বাঁ-হাতি সানজামুল ইসলাম, শ্রীলঙ্কার স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা, ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের মত উইলোবাজ এবং আফগান অফ স্পিনার মুজিবুর রহমানের মত বিশ্বমানের স্পিনারও এবার কুমিল্লার জার্সি গায়ে খেলবেন।

এদের সঙ্গে আরেক লঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন সানাকাও এবার কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের। সব মিলিয়ে ব্যাটিং-বোলিংয়ে সাজানো গোছানো। বেশ ব্যালেন্সড দল। মেধা-প্রজ্ঞাও আছে যথেষ্ঠ। এখন মাঠে জ্বলে উঠলেই কুমিল্লা কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে।

দলটির টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এ দল নিয়ে আশাবাদী। তার কথা, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ম্যানেজমেন্ট যেমনটা ভেবে প্লেয়ার্স ড্রাফটের টেবিলে বসেছিলেন, ঠিক তাই হয়েছে। মানে লক্ষ্য পূরণ ঘটেছে। আর তাই নান্নুর মুখে এমন কথা, ‘দল ভাল হয়েছে। তারপরও বিদেশি ক্রিকেটার দরকার। আসলে কোয়ালিটি প্লেয়ারের সংখ্যা কম। যা আছে, তা দিয়ে ৫টির বেশি দল সাজানো কঠিন। আমরা ড্রাফটে যেমন চেয়েছি তেমন পেয়েছি। যেমন এক নম্বরে একজন দেশি ওপেনারের খোঁজে ছিলাম আমরা, তাই পেয়েছি। দুই নম্বরে টার্গেট ছিল বিদেশীর। সেটাও হয়েছে। তিন নম্বরে লক্ষ্য ছিল দেশি পারফরমারের। তাও পেয়েছি। একইভাবে চারে এবং পাঁচ নম্বর পজিসনে একজন করে ভাল মানের বিদেশি পেয়েছি।’

নাঈমুর রহমান দুর্জয় একটি বাড়তি তথ্য দিলেন। প্লেয়ার্স ড্রাফটে বিক্রি না হওয়া ব্যাটসম্যান কাম অফস্পিনার রবিউল ইসলাম রবিকেও নিয়েছে কুমিল্লা।

লাইন আপে সৌম্য, সাব্বির, ইয়াসির রাব্বি, কুশল পেরেরা, মুজিবুর রহমান, আল আমিন হোসেন, আবু হায়দার রনি ও সানজামুলদের মত একঝাঁক তরুণে সাজানো দল হলেও কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের ড্রেসিং রুম ও টিম ম্যানেজমেন্টে আছেন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের দুই উজ্জ্বল তারা মিনহাজুল আবেদিন নান্নু (টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার) ও নাঈমুর রহমান দুর্জয় (টিম বিরেক্টর)।

সাথে হেড কোচ হিসেবে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওটিস গিবসন। সব মিলে কুমিল্লাও সাজানো গোছানো ভাল দল। মাঠের লড়াইয়েও এ দলকে পিছিয়ে থাকবে না বলেই দৃঢ় বিশ্বাস তাদের। এ দল নিয়ে ভাল কিছুর স্বপ্নও দেখছেন দুই সাবেক অধিনায়ক।

এআরবি/আইএইচএস/জেআইএম