টাইগারদের জন্য গতির ভয় নিয়ে হাজির হচ্ছেন শামি!

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯

তিন বছর আগে ইডেন গার্ডেনেই ফ্লাড লাইটের আলোয় গোলাপি বলে হয়েছিল সিএবি সুপার লিগের ফাইনালে। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম গোলাপি বলের ওই ম্যাচে আগুন ঝরিয়েছিলেন মোহাম্মদ শামি।

ওই ম্যাচে শামির প্রতিপক্ষ দলের অনুষ্টুপ করেছিলেন ৮৩ রান। কিন্তু সেই অনুষ্টুপই বলছেন, গোলাপি বলে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন মোহাম্মদ শামি। তিনি নিজে বলছিলেন, ‘ আমি ৮৩ রান করলেও নায়ক শামিই। দুই ইনিংস মিলিয়ে সাত উইকেট নিয়ে ফাইনাল জিতিয়েছিল। ওর বলের গতি আরও বেড়েছে। রাতের আলোয় গোলাপি বলে শামিকে খেলাই কঠিন পরীক্ষা বাংলাদেশের।’

সেই ইডেন গার্ডেনেই ভারতের মাটিতে প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঘটনাচক্রে এটা বাংলাদেশের জন্যও প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ। এমন ম্যাচে খেলতে নামার আগে ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামির গতি নিয়েই বেশ চিন্তায় থাকতে হচ্ছে টাইগার ব্যাটসম্যানদের।

ইন্দোরেও শামির গতির কাছে হার মানতে হয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। দুই ইনিংস মিলে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তার বিষাক্ত সুইং আর গতির ঝড়- দুটোই সামলানো দায় হয়ে পড়েছিল মুশফিক-মুমিনুলদের জন্য।

নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন শামি। ইন্দোরে প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে তার সংগ্রহ যথাক্রমে ২৭ রানে ৩ উইকেট এবং ৩১ রানে চার উইকেট। এই মুহূর্তে আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়েও বোলারদের তালিকায় রয়েছেন সাত নম্বরে।

শুক্রবার ইডেন টেস্ট শুরুর আগে হুঙ্কার দিয়ে শামি জানিয়ে দিলেন, সব কিছু সহজভাবে করাটা তার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘একজন বোলারকে সব সময় উইকেটের চরিত্র ও তার আচরণের ব্যাপারটা ভাল করে বুঝতে হবে। আমি যখন দেখি উইকেট ক্রমশ মন্থর হচ্ছে, তখন নিজেই নিজেকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করি। ব্যাটসম্যানেরা অস্বস্তি বোধ করছে দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ি। সে সঙ্গে গতির তারতম্য ঘটাতে থাকি।’

তবে শুধু মোহাম্মদ শামিই নন, ভারতীয় দলের পুরো বোলিং ডিপার্টমেন্টই এখন ভয়ঙ্কর। তাদের বিপক্ষে ব্যাটিং করা যে কারোর জন্যই কঠিন। ভারতের সাবেক ওপেনার গৌতম গম্ভীর মনে করেন, ভারতীয় দলের স্পিনার ও পেসারদের সমন্বয়ে বোলিং বিভাগ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ দলগুলোর দিকে তাকান। কোনো দলে ভাল পেসার আছে। কোনও দলে ভাল স্পিনার; কিন্তু ভারতীয় দলে একই সঙ্গে দুই জন উঁচু মানের স্পিনার রয়েছে। আর তিনজন সেরা পেসার। যশপ্রিত বুমরাহ এবং ভুবনেশ্বর কুমার বাইরে থাকলেও কথাটা সত্যি।’

গম্ভীর সঙ্গে যোগ করেন, ‘সব মিলিয়ে এখনকার দলে পাঁচজন ভাল পেসার রয়েছে। ওদের সঙ্গে কুলদীপ যাদবকে যোগ করলে উঁচু মানের বোলারের মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে আট। বোলারদের প্রত্যেকেরই প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটিং প্রতিরোধ ভাঙার ক্ষমতা রয়েছে। এই একটা কারণেই শেষ দু’বছর ভারতীয় বোলাররা সব দলকে এতবার অলআউট করতে পেরেছে।’

অনুষ্টুপের বর্ণনা করা সেই ম্যাচের কোচ ছিলেন আবদুল মুনায়েম। যিনি শামিকে কলকাতা ময়দানে দেখছেন প্রথমদিন থেকে। তিনি বলছেন, ‘নব্বইয়ের দশকে পি সেন ট্রফিতে শ্রীনাথের একটা স্পেল দেখেছিলাম। বল বোঝা যাচ্ছিল না। গোলাপি বলে শামি কিন্তু শ্রীনাথের চেয়েও জোরে বল করছিল। সঙ্গে ছিল ভয়ঙ্কর বাউন্স। আমাদের কোনো চেষ্টাই কাজে লাগেনি।’ এরপরই মুশফিকুর রহীমদের জন্য তার সতর্কবার্তা, ‘বাংলাদেশও না একই সমস্যায় পড়ে। শামি কিন্তু এখন আরও ধারালো।’

আইএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]