প্রাণ ফ্রুটো ইমার্জিং এশিয়া কাপে ফাইনালের হাতছানি শান্ত-সৌম্যদের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯

ইমার্জিং এশিয়া কাপে এর আগে যে দুই আসর হয়েছে প্রতিবারই সেমিফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু একবারও ফাইনাল খেলা হয়নি। প্রতিবার সেমিতে হেরেই বিদায় ঘটেছে। একবার ভারত অন্যবার শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে।

এবার ঘরের মাঠে ‘প্রাণ-ফ্রুটো ইমার্জিং এশিয়া কাপ’ টুর্নামেন্টে আবার সেমিতে টাইগাররা। আগের না পারার ব্যর্থতা ও হতাশা কাটিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল কি পারবে ফাইনাল খেলতে? কাল বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই মিলবে এর উত্তর।

২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের মুখোমুুখি হবে টাইগাররা। জিতলেই ফাইনাল। ২৩ নভেম্বর ট্রফি জেতার চূড়ান্ত লড়াইয়ে পাকিস্তানিদের সাথে লড়বেন নাজমুল হোসেন শান্ত, নাইম শেখ, ইয়াসির আলী রাব্বি, আফিফ হোসেন ধ্রুব, সুমন খান, মেহেদি হাসান ও হাসান মাহমুদরা।

‘প্রাণ-ফ্রুটো ইমার্জিং এশিয়া কাপ’-নামেই বোঝা যায় এশিয়ান ক্রিকেট খেলিয়ে দলগুলোর আগামী প্রজন্মের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। সেখানে ভারত ছাড়া সব দলই নিজেদের সম্ভাব্য সেরা দলই পাঠিয়েছে। যেখানে প্রতি দলে অন্তত দু-একজন ক্রিকেটার আছেন, যারা আগে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন বা অন্তত দু-একটি  ম্যাচ খেলেছেন।

সেই আলোকে বিচার করলে বাংলাদেশ সবচেয়ে সমৃদ্ধ, শক্তিশালী। টাইগারদের লাইনআপে আছেন চারজন ক্রিকেটার (নাজমুল হোসেন শান্ত, নাইম শেখ, আফিফ হোসেন ধ্রুব আর আমিনুল ইসলাম বিপ্লব), যারা যে কোনো ফরম্যাটে জাতীয় দলের হয়ে অন্তত একটি হলেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। শুধু তাই নয়, এই চারজনেরই পর্যাপ্ত মেধা আছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হিসেবেও এদেরই ধরা হয়।

ক্রিকেট যতই অনিশ্চয়তার খেলা হোক না কেন, নাজমুল হোসেন শান্তর দলের কাছে প্রত্যাশা বেশি। দেশের মাটিতে তাদের ট্রফি জয় তাই প্রত্যাশিত। এরই মধ্যে গ্রুপ ম্যাচে ভারতের মতো দলকে ৬ উইকেটে উড়িয়ে সে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে শান্তর দল।

হংকংকে ৯ উইকেটে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা। তারপর ভারতের বিপক্ষে ৬ আর নেপালের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটের সহজ জয়ে ‘খ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে উঠেছে বাংলাদেশ। সেমির যুদ্ধে টাইগারদের প্রতিপক্ষ আফগানরা। যে দলটি গ্রুপ ম্যাচে হার মেনেছে পাকিস্তানের কাছে।

যাদের ওপর নির্ভর করে এ ইমার্জিং কাপে গড়া বাংলাদেশ দল, সেই তিন ব্যাটিং স্তম্ভ অধিনায়ক শান্ত (হংকংয়ের বিপক্ষে ২২ নট আউট, ভারতের সাথে ৮৮ বলে ৯৪, আর নেপালের সাথে ৫৬ বলে ৫৯), সৌম্য সরকার (প্রথম দুই ম্যাচে ৮৪*ও ৭৩) ও নাইম শেখ (হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫২ বলে ৫২) এরই মধ্যে নিজেদের মেলে ধরেছেন। এছাড়া ইয়াসির আলী রাব্বি ও আফিফ হোসেন ধ্রুব তুলনামূলকভাবে সুযোগ পেয়েছেন কম।

আর বোলারদের ভেতর সবচেয়ে উজ্জ্বল পেসার সুমন খান (৪/৩৩, ৪/৬৪ ও ৩/২৯)। এছাড়া অফস্পিনার মেহেদি হাসান, মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি ও তানভির ইসলামও প্রায় খেলায় ভালো বল করেছেন। আরেক সম্ভাবনাময় পেসার হাসান মাহমুদ বল হাতে বারুদ ঝড়াতে না পারলেও প্রতিপক্ষর কাছ থেকে সর্বাধিক সমীহ আদায় করে নিয়েছেন।

সব মিলে সাজানো গোছানো দল বাংলাদেশের। লঙ্কান কোচ চাম্পাকা রামানায়েকের অধীনে এ দলটি কাল শেরে বাংলায় চির চেনা মাঠ ও অনুকূল পরিবেশ-পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের সাথে নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা উপহার দিতে পারলে না জেতার কোনই কারণ নেই।

এআরবি/এমএমআর/এমএস