মাঠের ন্যাক্কারজনক ঘটনা অপ্রকাশিত রাখতেই কি নিষিদ্ধ হলো মোবাইল?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪০ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

শুধু ম্যানেজারই মোবাইল বহন করতে পারবেন। খেলার দিন ক্রিকেটার, কোচ, কোচিং স্টাফ ও টিম বয়সহ কোনো ক্লাবের আর কেউ মোবাইল বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সাথে নিয়ে মাঠে যেতে পারবেন না।

চলতি প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে হঠাৎই এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সিসিডিএম। কিন্তু কেনো এই নিষেধাজ্ঞা? হঠাৎ জরুরী পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতেও তো পারে। ম্যানেজার ছাড়া আর কারও ব্যক্তিগত, পারিবারিক দরকার হতেও পারে।

সিসিডিএমের এই নিষেধাজ্ঞা জারিতে তাই ক্লাব পাড়ায় বিস্ময়। অনেকেরই প্রশ্ন, হঠাৎ কেনো এই মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহনে নিষেধাজ্ঞা? কেউ কেউ বলছেন, ক্রিকেটাররা যাতে কারও ফোনে প্রভাবিত হয়ে অনৈতিক কাজ মানে ম্যাচ ফিক্সিং করতে না পারে- সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত।

আসলেই কি তাই? অনেকেরই মত, খেলার মাঠে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং, কোনো বিশেষ দলকে সুবিধা দেয়া এবং একপেশে আম্পায়ারিং দিয়ে কোনো প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়ার ঘটনাগুলো যাতে জনসম্মুখে না আসে- সে কারণেই আসলে এই নিষেধাজ্ঞা।

এই তো সেদিন তৃতীয় বিভাগের এক ম্যাচে আম্পায়ারের পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদে এক দলের প্রতিবাদটা রীতিমত সাড়া জাগিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

খেলা শেষে এক দলের ক্রিকেটাররা জোট হয়ে আম্পায়ারকে রীতিমত ভৎসনা পর্যন্ত করেন। কেউ কেউ সে দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করলে তা রীতিমত ভাইরাল হয়ে যায়।

সাবেক বিসিবি প্রধান ও বর্তমান বোর্ডের কট্টর সমালোচক সাবের হোসেন চৌধুরীও সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন। যা সারা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

আগামীতে এমন কোন ঘটনা ঘটলে আর কেউ তা মোবাইলে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে দিতে না পারেন, হয়তো সে কারণেই মোবাইল বহনে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

খেলার মাঠে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, আম্পায়ারদের খেলা পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিসিবি ও সিসিডিএমের। ক্রিকেটাররাও যাতে অনৈতিক পথে হাঁটতে না পারে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখার দায়িত্ব দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার।

সেখানে ক্রিকেটার, কোচ, ম্যানেজার ও আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে, এই মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো, খেলার মাঠে ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো যাতে বাইরে প্রকাশ না হয়। এটা কি প্রকারান্তরে পাতানো খেলা কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিংয়ের ঘটনাগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করা নয়?

এআরবি/এসএএস/জেআইএম