দুই বছর আগের ঘটনার ‘প্রতিশোধ’ নিলেন কোহলি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৯ এএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

মাঠের বাইরে যেমন-তেমন, মাঠের ভেতরে সর্বদা ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’ মন্ত্রেই উজ্জীবিত থাকেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। আর তাই তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২০৭ রান করলেও দমে যাননি তিনি। উল্টো ৫০ বলে ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ১৮.৪ ওভারেই দলকে নিয়ে গেছেন জয়ের বন্দরে।

শুক্রবার রাতের এ ম্যাচে রেকর্ড হয়েছে ভারতের, রেকর্ড গড়েছেন কোহলি নিজেও। প্রথম রেকর্ডটি হলো, নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতা এবং বিশ্বের একমাত্র দল হিসেবে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে তিনবার ২০০’র বেশি রান তাড়া করে জেতা। আর ৯৪ রানের ইনিংসটি কোহলির নিজেরও ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ইনিংস।

তবে ম্যাচ শেষে এসব আলোচনাকে ছাপিয়ে গেছে অন্য একটি ঘটনা। যেখানে ম্যাচের মধ্যেই দুই বছর আগের এক ঘটনার প্রতিশোধ নিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক কোহলি। যার ভুক্তভোগী ক্যারিবীয় পেসার কেসরিক উইলিয়ামস।

২০১৭ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২২ বলে ৩৯ রান করে কেসরিকের বোলিংয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরেছিলেন কোহলি। সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে একটি নোটবুক বের করার ইঙ্গিত করে, সেখানে কোহলির নাম টুকে নেন কেসরিক। যা তার খুবই জনপ্রিয় একটি উইকেট উদযাপন।

কিন্তু এটিকে ভালোভাবে নিতে পারেননি কোহলি। নিজের মনের মধ্যেই পুষে রেখেছিলেন প্রতিশোধ নেয়ার ইচ্ছা। আর সে কারণেই শুক্রবার কেসরিকের মুখোমুখি হয়ে দারুণ এক ফ্লিকে ছক্কা হাঁকানোর পর, ফিরিয়ে দেন দুই বছর আগের সেই ঘটনার স্বাদ। কেসরিকের মতো কোহলিও নোটবুকে নাম লেখার মতো ভঙ্গি করে সেখানে নিজের সাক্ষর দেয়ার উদযাপন করেন। যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে নেট দুনিয়ায়।

স্বভাবতই ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছে ভারতীয় অধিনায়ককে। তিনিও নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছেন, ২০১৭ সালের সেই ঘটনাই ছিলো তার মাথায়। আর সেটিকে মনে করেই কেসরিকের ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে নেন মধুর প্রতিশোধ।

এ বিষয়ে কোহলি বলেন, ‘জ্যামাইকায়, ২০১৭ সালে আমাকে আউট করার পর সে (কেসরিক) নোটবুক বের করে উদযাপন করেছিল। সেখান থেকেই এটি আমার মাথায় ছিলো। তবে সিরিয়াস কিছু নয়। কিছু কথা আদানপ্রদান হয়েছে আর সবশেষ দুজনই হাত মিলিয়েছি। ক্রিকেট খেলাটাই তো আসলে এমন। খেলার সময় কোনো ছাড় নেই, তবে প্রতিপক্ষের জন্য সম্মান রাখতে হবে।’

এসএএস/এমএস